‘তুর্কি ঐতিহ্য নিয়ে হুমকি দেয়া মানতে পারিনি’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫

‘তুর্কি ঐতিহ্য নিয়ে হুমকি দেয়া মানতে পারিনি’

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৮

print
‘তুর্কি ঐতিহ্য নিয়ে হুমকি দেয়া মানতে পারিনি’

রোববার দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে পদত্যাগ করেছেন জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। মূলত বিশ্বকাপের আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ানের সাথে তার দেখা করার বিতর্কের জেরেই জাতীয় দল ছেড়েছেন এই ফুটবলার। তার অভিযোগ, বর্ণবাদ ও অসম্মানের শিকার হয়েছেন তিনি। এমনকি জার্মানির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার তুর্কি ঐতিহ্য নিয়ে হুমকি দিয়েছে। আর এসব কারণেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই সদস্য।

রোববার নিজের টুইটারে জাতীয় দল থেকে পদত্যাগ নিয়ে একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেন ওজিল। সেখানে ২৯ বছর বয়সী আর্সেনালের এই তারকা লিখেছেন, ‘যখন ডিএফবি-এর উচ্চপদস্থ কেউ আমাকে আমার তুর্কি ঐতিহ্য নিয়ে হুমকি দেন এবং স্বার্থপরের মতো রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়, তখন তা মেনে নেওয়া যায় না। যথেষ্ট হয়েছে। এ কারণে আমি ফুটবল খেলি না। বর্ণবাদ কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।’

বিশ্বকাপের আগে, মে মাসে লন্ডনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে দেখা করেছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার। ওজিল মূলত তৃতীয় প্রজন্মের তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান। নিজের তুর্কি ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত আর্সেনালের এই তারকা একটি দাতব্য ও শিক্ষামূলক ইভেন্টে এরদোয়ানের সাথে সাক্ষাত করেন। আর তাতেই অনেকের রোষের শিকার হন তিনি। বিবৃতিতে ওজিল আরো লিখেছেন, ‘আমি যখন জিতি তখন আমি জার্মান। আর যখন হারি তখন অভিবাসী।’

জার্মানির হয়ে ৯২ ম্যাচ খেলা ওজিল ভক্তদের ভোটে ৫ বার জার্মানির জাতীয় দলের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জার্মানির জার্সি গায়ে দিতে আর আগ্রহ বোধ করেন না এই ফুটবলার। তার কথায়, ‘আমি খুবই কষ্টের সাথে ও অনেক চিন্তাভাবনা করে জার্মান দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমি রেসিজম ও অসম্মানের শিকার হয়েছি। জার্মানির জার্সি আমার জন্য গর্বের ও রোমাঞ্চকর ছিল। কিন্তু এখন আর তা নেই। এই সিদ্ধান্ত নিতে আমার খুবই কষ্ট হয়েছে। কারণ আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও জার্মানির ভালো মানুষদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি।’

তবে ওজিলের এই পদত্যাগ ও অভিযোগের বিষয়ে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

পিএ/ক্যাট

 
.


আলোচিত সংবাদ