লুকা মড্রিচ, উদ্বাস্তু শিবির থেকে ‘রাজা’ হওয়ার বিজ্ঞাপন

ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫

লুকা মড্রিচ, উদ্বাস্তু শিবির থেকে ‘রাজা’ হওয়ার বিজ্ঞাপন

খলিলুর রহমান ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৮

লুকা মড্রিচ, উদ্বাস্তু শিবির থেকে ‘রাজা’ হওয়ার বিজ্ঞাপন

বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ফুটবলারকে নিয়েই সিনেমা, প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। পেলেকে নিয়ে হয়েছে, হয়েছে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে নিয়েও। ধরে নিতে পারেন, অদূর ভবিষ্যতে লুকা মড্রিচকে নিয়েও সিনেমা-প্রামাণ্যচিত্র হবে। কে জানে, হয়তো এরই মধ্যে ফুটবলার মড্রিচের জীবনকে ফিতাবন্দি করতে স্ক্রিপ্ট তৈরিও শুরু করে দিয়েছেন কোনো পরিচালক! যার জীবনটাই সিনেমার গল্পের মতো, যার উঠে আসার গল্পটা রূপকথাকেও হার মানায়- তাকে নিয়ে সিনেমা তৈরি করাটাই তো স্বাভাবিক।

যার শিশুকাল কেটেছে উদ্বাস্তু শিবিরে, ঘুম ভেঙেছে কামানের মুহূর্মুহূ গোলার শব্দে, মেশিনগানের গুলি থেকে জীবন রক্ষার জন্য যাকে অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে দৌঁড়াতে হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে, সেই লুকা মড্রিচ এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহীরূহ। বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। তার চেয়েও বড় কথা, তিনি এখন দেশ ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের অঘোষিত রাজা। আক্ষরিক অর্থেই ফুটবলার লুকা মড্রিচের জীবনের গল্পটা সিনেমার আদর্শ চিত্রনাট্য।

২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর, পরিবর্তন ডটকমে এই লুকা মড্রিচকে নিয়ে একটা প্রতিবেদন লিখেছিলাম। লেখাটির শিরোনাম ছিল-লুকা মড্রিচ, উদ্বাস্তু শিবির থেকে বিশ্বসেরা। ২০১৬/১৭ মৌসুমে ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সুবাদে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিশ্বের সেরা রাইট-মিডফিল্ডার। এর প্রেক্ষিতেই তাকে নিয়ে ওই প্রতিবেদনটা লেখা হয়েছিল। ৭ মাস ২৮ দিন পর তার জীবনের গল্পটা নতুন করে লেখার উপলক্ষটা তৈরি করে দিয়েছে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ।

প্রাক-বিশ্বকাপ আলোচনায় ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমার, লুইস সুয়ারেজ, মোহামেদ সালাহ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তারা। কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপে নামীদামী এই তারকাদের কেউই দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে সবাই ছুটি নিয়েছেন রাশিয়ার বিশ্ব মঞ্চ থেকে। তাদের আড়াল করে রাশিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন যারা, লুকা মড্রিচ নিশ্চিতভাবেই সেই তালিকার উপরের দিকে থাকবেন।

রাশিয়ায় কি জাদুই দেখাচ্ছেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক! ফুটবল বোদ্ধাদের কেউ কেউ তো এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন- লুকা মড্রিচই এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার সোনার বলটাও মড্রিচের হাতেই দেখতে পাচ্ছেন তারা! সত্যিকার অর্থেই সোনার বলের বড় দাবিদার তিনি। দাবিটা আরও জোরালো করার সুযোগ তার আছে। রোববার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে তারা যে নামবেন বিশ্বকাপের ফাইনাল-যুদ্ধে।

ফাইনালের প্রসঙ্গে পরে আসি। তার আগে রূপকথাকেও হার মানানো মড্রিচের জীবনের গল্পটার দিকে একটু নজর দেয়া যাক। বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অনেক নামীদামী তারকার জীবনের গল্পই করুণ। ‘ফুটবলের রাজা’খ্যাত পেলের কথাই ধরুন। দরিদ্র ঘরে জন্ম নেয়া ছোট্ট পেলের ফুটবল খেলার শুরুটা রাস্তায়। ব্রাজিলের পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশ মিনাস গেরাইসের নোংরা রাস্তায় ফুটবল খেলতেন খড় দিয়ে বল বানিয়ে!

সেই পেলে পরবর্তীতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সর্বকালের অন্যতম সেরা হিসেবে। ফুটবলার হিসেবে কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে লুকা মড্রিচের তুলনা হয় না। তবে রিয়াল মাদ্রিদের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডারের ছোটবেলার গল্পটা পেলের গল্পের চেয়েও করুণ।

না, লুকা মড্রিচকে পেলের মতো অর্থ-কষ্ট বা দারিদ্র্যের কষাঘাতের সঙ্গে লড়াই করতে হয়নি। বাবা-মা দুজনেই চাকরি করতেন বলে ছোটবেলায় লুকারা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন সাধ্যমতোই। তবে সেই ছোট্টবেলাতেই মড্রিচের উপর দিয়ে বয়ে যায় যুদ্ধের ঝড়। যে ঝড়ের ঝাপ্টা তাকে নিজ গ্রাম থেকে উড়িয়ে নিয়ে বানিয়ে দেয় উদ্বাস্তু শিবিরের বাসিন্দা।

আধুনিক যুগে জন্ম বলেই হয়তো পেলের মতো মড্রিচকে খড় দিয়ে বল বানিয়ে খেলতে হয়নি। তবে তারও শুরুটা হয়েছে রাস্তায়। রাস্তা, উদ্বাস্তুশিবিরের হোটেল পার্কে খেলেই মনের গহীনে বুনে ফেলেন ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের বীজ। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে পা বাড়াতে গিয়ে প্রথম পদক্ষেপেই ছোট্ট মড্রিচকে খেতে হয় বড় এক ধাক্কা। কচি বয়সেই হতে হয় তাচ্ছিল্যের শিকার!

মড্রিচের জন্ম ১৯৮৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। ক্রোয়াটদের রীতি- গ্রাম বা পরিবারের পূর্বসূরিদের নামানুসারে রাখা হয় নাম। লুকার ক্ষেত্রে দুটো রীতিই মানা হয়েছে। তার দাদার নাম ছিল লুকা, গ্রামের নাম মড্রিচি। দুটো মিলিয়েই তিনি লুকা মড্রিচ।

তো ছোট্ট মড্রিচের জীবনটা কষ্টের মরুভূমি বানিয়ে দেয় ক্রোশিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধ। সাবেক যুগোস্লাভিয়া ভেঙে ক্রোয়েশিয়া স্বাধীন হয় ১৯৯১ সালে। দেশের স্বাধীনতার জন্য ছোট্ট লুকা ও তার পরিবারকে মূল্য দিতে হয়েছে অনেক। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তার বাবা স্টিপে মড্রিচ যোগ দেন ক্রায়েশিয়ার সেনাবাহিনীতে। তাদের পুরো পরিবারই ছিল স্বাধীনতার পক্ষে।

সেজন্য খেসারতও দিতে হয়েছে অনেক। মড্রিচের দাদা লুকাকে জীবন দিতে হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে গবাদিপশুকে খাওয়াতে গেলে লুকাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে সার্বিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যরা। শুধু তাই নয়, তাদের পুরো বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। বাড়িছাড়া, গ্রামছাড়া হওয়া লুকাদের আশ্রয় হয় জাদারের উদ্বাস্তু শিবিরের হোটেল কলোভারে। লুকা মড্রিচের বয়স তখন ৬। সেখানেই তাকে কাটাতে হয় দীর্ঘ ৮টি বছর।

ছোট্ট মড্রিচ যুদ্ধের ভয়াবহতার আঁচ পেয়েছেন উদ্বাস্তু শিবিরেও। তবে সেই ভয়কে জয় করে ফুটবলের কারিকুরি চালিয়ে গেছেন নিজের মতো করেই। ছোট্ট মড্রিচ উদ্বাস্তু হোটেলে থাকতেন আর হোটেলের গাড়ি পার্কিংয়ে ফুটবল খেলতেন। সেখান থেকে রাস্তায়, স্কুলের মাঠে। এভাবে খেলতে খেলতে অবচেতনেই মনের কোণে বাসা বাঁধে স্বপ্ন- হবেন পেশাদার ফুটবলার।

এই স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে মড্রিচ যান ক্রোয়েশিয়ান ক্লাব হাজদুকে। লক্ষ্য হাজদুকের স্কাউট দলে ভর্তি হবেন। এই স্বপ্নযাত্রায় সঙ্গী ছিল তার বন্ধু গ্রগুরোভিচ। কিন্তু বন্ধু গ্রগুরোভিচের স্বপ্ন পূরণ হলেও কাঁচের টুকরোর মতো টুকরো টুকরো হয়ে যায় মড্রিচের স্বপ্ন। শারীরিক আকৃতির কারণে তাকে দলেই নেয়নি হাজদুক।

ছোটখাট গড়নের লুকা মড্রিচ ছোটবেলায় ছিলেন আরও লিকলিকে, হাড্ডিসার, রোগাক্রান্ত। এই ছেলে ফুটবল খেলবে, ফুটবলার হবে? ছোট্ট মড্রিচকে দেখে এভাবেই তাচ্ছিল্য দেখায় হাজদুকের কোচরা। বলে দেয়, তুমি ফুটবল খেলতে পারবে না। বাড়ি চলে যাও, পড়ালেখায় মন দাও। বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বন্ধু গ্রগুরোভিচ হাজদুকের স্কাউট দলে শুরু করেন খেলা। হতাশায়, অপমানে লাল হয়ে বাড়ি ফিরেন মড্রিচ!

হাজদুকের স্কাউট দলের কোচ-কর্তারা মড্রিচের চেয়ে গ্রগুরোভিচকেই বেশি প্রতিভাবান হিসেবে রায় দেন। অথচ সেই গ্রগুরোভিচ ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারই গড়তে পারেননি। আর ‘প্রত্যাখ্যাত’ মড্রিচ আজ বিশ্ব ফূটবল আকাশের জ্বলজ্বলে তারা। খেলেন রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবে। ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলেরও অধিনায়ক।

বন্ধু গ্রগুরোভিচ একবার আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি বলছি না যে, সে হাজদুকে ব্যর্থ হয়েছিল। আপনি খুব অল্প সময়ে একটা ছেলের মান যাচাই করতে পারবেন না। তবে যে কারণেই হোক, সে জাদারে ফিরে যায়। ওই সময়ে আমিই বেশি প্রতিভাবান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলাম। ফুটবল আসলে এমনই। লুকার চেয়ে বেশি প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও আমি ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়তে ব্যর্থ। আর লুকা এখন কোথায়!’

হাজদুক থেকে ‘বাতিল’ হওয়াটা দমিয়ে দেয় ছোট্ট মড্রিচকে। কয়েক বছর ফুটবলার হওয়ার বাসনাটা চেপেই রেখেছিলেন। কিন্তু ফুটবল দেবতা যে অদৃশ্যে বসে তাকে বিশ্বখ্যাত ফুটবলার বানাবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন! ২০০০ সালে তাই ১৫ বছর বয়সে নাম লেখান ডায়নামোতে। সেখানেই তার পেশাদার ফুটবলার হওয়ার শুরু।

ছোট মড্রিচের বর্ণনা করতে গিয়ে গ্রগুরোভিচ বলেছেন, ‘ছোটবেলায় সে ছিল খুবই শান্ত একটা ছেলে। মাঠের বাইরে সে কিছুই করত না। একমাত্র ফুটবলের প্রতিই আগ্রহ ছিল তার। আমি অবাক হই- যারা বলেন, সেই ছোটবেলাতেই তারা বুঝতে পারেন লুকা একদিন বড় ফুটবলার হবে। এটা ফালতু কথা! একমাত্র ডায়নামোর অধিনায়ক হওয়ার পরই পরিষ্কার হয়ে যায়, সে সত্যিই বড় খেলোয়াড় হবে।’

লিকলিকে মড্রিচকে দলে নিতে ডায়নামোকে সুপারিশ করেছিলেন টমিস্লাভ বাসিক। এই ভদ্রলোককেই মনে করা হয় মড্রিচের ‘ফুটবল পিতা।’ মড্রিচ উপলক্ষ পেলেই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন বাসিকের কথা। শুধু ডায়নামোতে যোগ দেয়ার ব্যাপারেই নয়, ২০১৪ সালে ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম থেকে রিয়ালে যোগ দেয়ার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাসিক।

ক্লাবের হয়ে হোক বা জাতীয় দল, মাঠে মড্রিচের ভূমিকা কেমন সেটা দারুণভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন ক্রোয়েশিয়ান ক্লাব ইন্টার জাপ্রেসিকের সাবেক কোচ স্রিকো বোডান। ২০০৪-২০০৫ মৌসুমে ডায়নামো জাগরেব থেকে ধারে খেলেছেন ইন্টার জাপ্রেসিকোতে। ওই সময়ে ক্লাবটির কোচের দায়িত্বে ছিলেন বোডান। কাছ থেকে দেখার সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বলেছেন, ‘আজও সে একই রকম। যদি সে তার মানের চেয়ে খারাপ খেলে, পুরো দলই খারাপ খেলে।’

ভদ্রলোকের কথা, মড্রিচ শুধু নিজে খেলেন না, পুরো দলকেই খেলান। রক্ষণভাগের সঙ্গে আক্রমণভাগ গেঁথে ফেলেন এক সুতোয়। বোডানের এই সার্টিফিকেটকে শতভাগ সত্য প্রমাণ করেছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। ফেভারিট পতনের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া যে সব বাধা পেরিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে, সেটা অধিনায়ক মড্রিচের কাঁধে চেপেই। ক্লাব রিয়ালে তিনি মূলত রাইট-মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন।

কিন্তু রাশিয়ায় জাতীয় দলের হয়ে মড্রিচ আসলে খেলছেন পুরো মাঠজুড়ে। রক্ষণভাগকে সহায়তা করতে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলছেন। আক্রমণ রচনায় মুহূর্তেই ওঠে যাচ্ছেন উপরে। প্রতিটা ম্যাচেই দৌড়াচ্ছেন ‘টাগরা ষাঁড়ের’ মতো। যেন ক্লান্তিকে ছুটি দিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যদিয়েই বড় হয়েছেন। ভয়ঙ্কর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রপ্ত করেছেন লড়াই করার মন্ত্র। মাঠে নেমে দুর্দান্ত সেই লড়াইয়ের মন্ত্রটা তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন সতীর্থদের মাঝেও। দলকে এক সুতোয় গেঁথে বের করে আনছেন ফল।

ক্রোয়েশিয়ার ৬ ম্যাচের ৩টিতেই তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরা। ছোট্ট এই তথ্যই বলে দিচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাস গড়ার পেছনে মড্রিচের ভূমিকা কত বেশি। দলকে ফাইনালে তুলেছেন। এখন স্বপ্ন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতা। রোববারের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারাতে পারলেই সত্যি হবে স্বপ্ন।

এতোদিন ক্রোয়েশিয়ার ২৭ বছরের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন ডেভর সুকের। ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ক্রোয়েশিয়া উঠে যায় সেমিফাইনালে। হল্যান্ডকে (নেদারল্যান্ডস) হারিয়ে হয় তৃতীয়। ফ্রান্স বিশ্বকাপে ক্রোয়াটদের ওই অবিশ্বাস্য সাফল্যের বড় নায়ক ছিলেন ডেভর সুকের। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৬ গোল করে জিতেছিলেন সোনার জুতো।

সেই কিংবদন্তি সুকেরকে ছাপিয়ে লুকা মড্রিচই এখন ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের অঘোষিত রাজা। স্বয়ং ডেভর সুকেরও মড্রিচের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কাল সত্যিই যদি ফ্রান্সকে হারিয়ে দেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন, মড্রিচ উঠে যাবেন আরও একধাপ উপরে।

ক্লাব ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছেন ৪ বার। জিতেছেন লিগ, স্প্যানিশ সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ, বিশ্ব ক্লাব বিশ্বকাপ- সবকিছুই। এখন দেশের হয়ে বিশ্বকাপটা জিতলে পারলে ৩২ বছর বয়সী মড্রিচের প্রাপ্তির খাতাটা কানায় কানায় পূর্ণ হবে। জিতলে রাশিয়া বিশ্বকাপটাই হয়ে যাবে মড্রিচের বিশ্বকাপ।

তবে নিজের জন্য নয়, মড্রিচ বিশ্বকাপটা জিততে চান দেশবাসীর জন্য, ‘ক্রোয়েশিয়ার প্রতিটি মানুষই এখন ফুটবল আনন্দে মেতে আছে। তাদের দু’চোখ ভরা স্বপ্ন বিশ্বকাপ জয়ের। আমরা দেশবাসীর এই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। আমরা চাই, তাদের এই উৎসব আরও দীর্ঘ মেয়াদি হোক।’

তিনি তাই তো চাইবেন, কারণ তিনি যে রাজা। উদ্বাস্তু শিবির থেকে উঠে এসে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের রাজা।

কেআর