ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যে চিত্রিত বাংলাদেশ ফুটবলের রুগ্ন চেহারা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যে চিত্রিত বাংলাদেশ ফুটবলের রুগ্ন চেহারা

খলিলুর রহমান ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৮

print
ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যে চিত্রিত বাংলাদেশ ফুটবলের রুগ্ন চেহারা

বুধবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার ইতিহাস গড়েছে ক্রোয়েশিয়া। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ঘুরে ফিরছে ক্রোয়েশিয়া ও বাংলাদেশের ফিফা র‌্যাঙ্কিং বিষয়ক স্ক্রিনশট। যে স্ক্রিনশটগুলোর মূল প্রতিপাদ্য, দুই দেশের ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য। ফেসবুকে ভেসে বেড়ানো স্ক্রিনশটগুলোর র‌্যাঙ্কিং তথ্যগুলোতে হয়তো একটু হেরফের আছে। তবে এক সময় কাছাকাছি অবস্থানে থাকা দেশ দুটির ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশিদের আক্ষেপের আগুনে পোড়ারই কারণ।

ক্রোয়েশিয়া ফুটবলের উর্বর ভূমি ইউরোপের একটি দেশ। বিপরীতে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এমন একটি ভুখণ্ডে অবস্থিত, সেই দক্ষিণ এশিয়া বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে অনুর্বর ভূমি। তাই ফুটবল নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা আসলে চলে না।

কিন্তু দুই দেশের র‌্যাঙ্কিংয়ে পার্থক্যের যে হিমালয় তৈরি হয়েছে, সেটা মেনে নেওয়াটাও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী মানুষদের জন্য কষ্টের। ১৯৯৩ সালে বর্তমান ফিফা র‌্যাঙ্কিং প্রচলনের সময় সদ্য স্বাধীন হওয়া ক্রোয়েশিয়া ছিল ১২২তম স্থানে। বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তাদের ৬ ধাপ উপরে, মানে ১১৬তম স্থানে। ২৫ বছরের ব্যবধানে সেই ক্রোয়েশিয়া এখন ২০ নম্বরে। আর বাংলাদেশ? পেছনের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতে এখন ১৯৪তম স্থানে!

মানে ১৯৯৩ সালে যে বাংলাদেশ ৬ ধাপ উপরে ছিল, সেই বাংলাদেশ এখন ১৭৪ ধাপ পেছনে! ক্রোয়েশিয়া রকেটের গতিতে এগিয়েছে সামনের দিকে। বাংলাদেশ সুপারসনিক গতিতে ছুটেছে পেছনের দিকে। সমানে সমানে থাকার আশা না-ই বা করলাম। তাই বলে এমন আকাশ-পাতাল ব্যবধান!

দেশের ফুটবলপ্রেমী মানুষদের পক্ষে এটা মেনে নেওয়াটা সত্যিই বড় কষ্টের, চরম হতাশার, আক্ষেপের। সেই আক্ষেপ, আফসোস, হতাশা থেকেই স্ক্রিনশটটা ফেসবুকে শেয়ার দিচ্ছেন দেশের ফুটবল পাগল মানুষেরা! ফেসবুকের পাতায় পাতায় ঘুরে বেড়ানো এই স্ক্রিনশট শুধু হতাশার বহিঃপ্রকাশই ঘটাচ্ছেন না, এর মাধ্যমে চিত্রিত হচ্ছে ফুটবলপ্রেমী এই মানুষদের দেশের ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, দরদ, হৃদয়ের আর্তনাদ।

ফুটিয়ে তুলছে দেশের ফুটবল নিয়ে নিজেদের চাওয়া-আকাঙ্ক্ষাও। এই ফুটবলপ্রেমীদের চাওয়া, ক্রোয়েশিয়ার মতো সুপারসনিক গতিতে না হোক, বাংলাদেশের ফুটবল হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও এগিয়ে যাক সামনের দিকে। দেশের রুগ্ন ফুটবল সুস্থ-সবল হয়ে অন্তত কোমর সোজা করে দাঁড়াক।

জনপ্রিয়তার মাপকাটিতে এখন ক্রিকেটই হয়তো বাংলাদেশের এক নম্বর খেলা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ব-দ্বীপের মানুষদের এখনো প্রাণের খেলা ফুটবল। ফুটবল নিয়ে দেশের মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, উচ্ছ্বাস, উন্মাদনার স্ফুলিঙ্গ কতটা উঁচুতে, সেটা ৪ বছর পরপর বুঝিয়ে দেয় ফুটবল বিশ্বকাপ।

বুঝিয়ে দিচ্ছে, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপও। বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে খেলা তো স্বপ্নের ওপাড়ের বিষয়। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের প্রি-বাছাইপর্বের বেড়াই পেরোতে পারে না। কিন্তু বিশ্বকাপ এলে পুরো দেশই একযোগে নেচে উঠে ফুটবল উন্মাদনায়। সেই নৃত্য চলে মাস ধরে। এখন যেমন চলছে। বিশ্বকাপে নিজেদের দেশ থাকে না, তাতে কি! সাত-সমুদ্র ওপাড়ের দেশ আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলকেই ‘নিজেদের দল’ বানিয়ে ফুটবল উৎসবে মাতে দেশের ফুটবলপ্রেমী জনগণ।

মনে মনে সমর্থন করা নয়, কাজটা তারা করে ঢাকঢোল পিটিয়েই। বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ নামের এই ব-দ্বীপ হয়ে উঠে একটু আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিল। রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ির ছাদ, দোকান, শপিংমল-সর্বত্রই পতপত করে ওড়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা। থান কাপড় কিনে সেলাই করে এতো বড় বড় পতাকা বানায়, যা দেখে খোদ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মানুষেরাও বিস্মিত হয়ে যায়। হয় তর্কাতর্কি-মারামারিও।

অনেকে হয়তো ব্যাপারটিকে বাড়াবাড়িই মনে করেন। কিন্তু সেই বাড়াবাড়ির মধ্যে চরম একটা সত্য লুকায়িত- ফুটবল এদেশের মানুষের প্রাণের স্পন্দন, আবেগের নাম। ফুটবল খেলাটা তারা বড় বেশি ভালোবাসে, হৃদয় দিয়ে উপভোগ করে।

আফসোসটা এখানেই। ফুটবলের প্রতি এমন হৃদয় উপচানো আবেগ যাদের, সেই দেশের ফুটবল কিনা ‘খাটিয়ার লাশ’! অন্য দেশগুলো যেখানে দৌড়াচ্ছে পর্বতের চূড়ার দিকে, বাংলাদেশ সেখানে উসাইন বোল্টের গতিতে ছুটছে খাদের দিকে! দৌড়াতে দৌড়াতে পড়ে গেছে খাদের কাদায়।

আবার ক্রোয়েশিয়ার প্রসঙ্গে আসি। সাবেক যুগোস্লাভিয়া ভেঙে ক্রোয়েশিয়া স্বাধীন হয় ১৯৯১ সালে। তার আগ পর্যন্ত ক্রোয়াটরা যুগোস্লাভিয়ার জার্সিতেই খেলত। যে যুগোস্লাভিয়া ইউরোপিয়ান ফুটবলের পরাশক্তি না হলেও ‘ভালো’ দলের মর্যাদা অবশ্যই ছিল। ফলে ১৯৯১ সালে আলাদা দেশ হলেও ফুটবল ঐতিহ্য ক্রোয়াটদের রক্তে আগে থেকেই ছিল। ফলে শুরুতে তাদের র‌্যাঙ্কিং যাই হোক, ফুটবলে তাদের উন্নতিটা প্রত্যাশিতই ছিল।

কিন্তু ক্রোয়াটরা তাদের ফুটবল উন্নতি ঘটিয়েছে সেই প্রত্যাশার চেয়েও শত গুণ বেশি গতিতে। ক্রোয়েশিয়ার উন্নতির অবিশ্বাস্য গতিটা একটা তথ্যেই স্পষ্ট। ১৯৯৩ সালে ১২২তম স্থানে থাকা দলটিই ৬ বছরের ব্যবধানে, মানে ১৯৯৯ সালে জায়গা করে নেয় র‌্যাঙ্কিংয়ের ৩ নম্বরে!

১৯৯৮ সালে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই হয় তৃতীয়। তার ফসল হিসেবেই পরের বছর র‌্যাঙ্কিংয়ের তিনে জায়গা করে নেয় মাত্র ৪১ লাখ ৫৪ হাজার জনসংখ্যার দেশটি। ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসে সেটাই সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিং। সেই ক্রোয়েশিয়া এখন অবশ্য ২০ নম্বরে। এই তথ্য তাদের অবনতির সাক্ষ্যই দেয়। কিন্তু র‌্যাঙ্কিংয়ের সেই হতাশা মুছে দিয়ে ক্রোয়েশিয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে গড়েছে ফুটবলে অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্প। প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। এখন স্বপ্ন দেখছে, প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ জয়েরও।

বিস্ময়কর শোনালেও সত্যি, ক্রোয়াটদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা এখন অনেক বাংলাদেশিরও! অনেক বাংলাদেশিই চাইছেন, রোববার বিশ্বকাপ ট্রফিটা যেন ক্রোয়েশিয়ার হাতেই ওঠে! বাংলাদেশের মানুষ এখন সেই ক্রোয়েশিয়ার খেলা দেখার জন্য রাত জাগছে, সেই ক্রোয়েশিয়ার হাতে বিশ্বকাপ শিরোপা দেখতে চাইছে, যে ক্রোয়েশিয়া এক সময় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশেরও ৬ ধাপ পেছনে ছিল! ক্রোয়াটদের ঝলসানো ফুটবলের মুগ্ধতা নিয়ে দেশের ফুটবলের কথা ভাবতেই ভেসে উঠছে হতাশার করুণ এক চিত্র। দেখতে পাচ্ছে দেশের ফুটবল শায়িত কফিনে।

কেন এমন হলো? আশি এবং নব্বইয়ের দশকেও তো বাংলাদেশের ফুটবলে ছিল টগবগে জোয়ার। ছিল গৌরবময় ঐতিহ্য। এ দেশের ফুটবলই তো জন্ম দিয়েছে কাজী সালাউদ্দিন, জাকারিয়া পিন্টু, সালাম মুর্শেদী, বাদল রায়, আসলাম, ওয়ালি সাব্বির, কায়ছার হামিদ, মোনেম মুন্নাদের মতো ফুটবলারদের। যারা ফুটবলের বাংলাদেশকে বানিয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি। যাদের কাঁধে ভর করে এক সময় বাংলাদেশ পৌঁছে গিয়েছিল ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ১১০ নম্বরে। সেটা ১৯৯৬ সালে। ২২ বছরের ব্যবধানে সেই বাংলাদেশ এখন ১৯৪তম স্থানে। মানে পিছিয়েছে ৮৪ ধাপ! গত মে মাসে তো আরও তিন ধাপ পিছিয়ে ছিল ১৯৭তম স্থানে!

কেন এমন হলো? কেন দু'কূল উপচানো সেই জোয়ার শুকিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল এখন মরা গাঙ? এর জন্য দায়ী কারা? অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না করা, অযোগ্য নেতৃত্ব, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব, ফুটবল বিকেন্দ্রীকরণে ব্যর্থতা, দায়সারাভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন- কারণ আছে হাজারটা। তবে নিশ্চিতভাবেই বিচারের কাঠগড়ায় সবার আগে থাকবেন দেশের ফুটবলের দায়িত্ব নেওয়া কর্তারা।

১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) গঠিত হয় ১৯৭২ সালে। সেই থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর আশীর্বাদপুষ্টরাই মূলত বাফুফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। মানে ফুটবলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সমালোচনা আছে, ঘুরেফিরে বাফুফের নেতৃত্বে আসা ওই রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্টরা দেশের ফুটবল উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের আখের গোছানোর কাজটাই বেশি মনোযোগের সঙ্গে করেছেন! ফুটবলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেয়ে ফুটবল কর্তার পরিচয়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানোর কাজটা করেছেন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে।

তারপরও বলা যায়, ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দেশের ফুটবল একটা পথেই ছিল। ফিফা র‌্যাঙ্কিং অন্তত সেটাই বলবে। বাংলাদেশ সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিংয়ে পৌঁছায় ওই বছরই। ওঠে যায় ১১০ নম্বরে। কিন্তু সেটা ১৯৯৬ সালের শুরুর দিকের ঘটনা। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, বাংলাদেশের ফুটবলের ক্রমাগতভাবে বোল্টের গতিতে পেছনের দিকে দৌড়ানোর শুরুও ওই ১৯৯৬ সাল থেকেই। মানে র‌্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছেই উল্টো ঘুরে পেছনের দিকে দৌড় শুরু করে বাংলাদেশ! আর পেছনের দিকে দৌড়ানোর সেই গতি এতো বেশি ছিল যে, ১৯৯৬ সালেরই শেষ দিকে ১১০ থেকে বাংলাদেশ নেমে যায় র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৩৮তম স্থানে! এরপর থেকে কেবলই পেছনের পায়ে চলা।

২০০৮ সালে অবশ্য ফুটবল নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করে দেশের মানুষ। নতুন করে স্বপ্ন দেখার কারণ, ফুটবল প্রশাসনে ক্ষমতার পালাবদল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আইন করে- ফুটবল ফেডারেশন হতে হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন। সিলেকশন নয়, ফুটবল ফেডারেশন পরিচালিত হবে নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে। রাজনীতিক নয়, কমিটির সদস্যদের মূল পরিচয় হবে ফুটবল সংগঠক। এই পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতেই ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব পান কাজী সালাউদ্দিন।

নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার কাজী সালাউদ্দিন। ফুটবলের সালাউদ্দিন যখন দেশের ফুটবলের দায়িত্ব নেন, ফুটবলপ্রেমীরা বুক বাঁধে আশায়- এবার হয়তো ফুটবলের মরা গাঙে জোয়ার উঠবে। দেশের ফুটবল খুঁজে পাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ। জননন্দিত সালাউদ্দিনও মুখে কথার খই ফুটিয়ে, রঙ-বেরঙের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের স্বপ্নটাকে আরও রাঙিয়ে দেন।

কিন্তু একজন সালাউদ্দিনকে ঘিরে দেশবাসীর নতুন করে দেখা সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যেতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। প্রথম প্রথম কিছুটা চমক অবশ্য দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বছর কয়েক যেতেই- যেই লাউ সেই কদু। সময়ের পরিক্রমায় সালাউদ্দিনের সব প্রতিশ্রুতিই বাগাড়ম্বরে রূপ নিয়েছে। নতুন পথ খুঁজে পাওয়ার পরিবর্তে সালাউদ্দিনের প্রশাসন বরং দেশের ফুটবলের প্রশ্চাত যাত্রাকে আরও তরান্বিত করেছে।

২০০৮ সালের এপ্রিলে সালাউদ্দিন যখন দেশের ফুটবল উন্নয়নের দায়িত্ব নেন, বাংলাদেশ তখন ছিল ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৬৮ নম্বরে। তার ১০ বছরের শাসনামলে সেখান থেকে ২৬ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ এখন ১৯৪ নম্বরে। মানে তার অধীনে বাংলাদেশ গড়ে বছরে ২.৬ ধাপ করে পিছিয়েছে!

একজন দক্ষ ফুটবলার মানেই দক্ষ প্রশাসক নন, সালাউদ্দিনের ১০ বছর এটা সন্দেহাতীতভাবেই প্রমাণ করতে পেরেছে! ক্ষমতার মসনদে থাকা সালাউদ্দিন ও তার অনুসারীরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারেন। মুখরোচক অনেক গল্পও শোনাতে পারেন। কিন্তু দেশের ফুটবলপ্রেমীদের রায়ে তিনিও পূর্বতন রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট প্রশাসকদের মতোই চরমভাবে ফেল। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ ধাপ ২০৬-এ চলে যায় কি না, সেই সংশয় থাকছেই!

এক বার নয়, তিন মেয়াদে নির্বাচিত হয়েও সালাউদ্দিন দেশের ফুটবলকে পথ দেখানোর পরীক্ষায় ফেল। অদূর ভবিষ্যতে কেউ আলাদিনের জাদুর চেরাগ নিয়ে এসে দেশের ফুটবলের মরা গাছে ফুল ফোটাবে, সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

তাহলে? তাহলে আর কি! ফুটবল বেঁচে থাকবে। তবে মাঠে নয়, ফুটবল উন্মাদনা ঘুমিয়ে থাকবে এ দেশের অগণিত ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে। ৪ বছর পরপর বিশ্বকাপ এলে হৃদয়ের সেই ঘুম ভাঙবে। বাংলাদেশ ডিলিট হয়ে বাংলাদেশিদের ফুটবল উন্মাদনার রঙ হবে শুধুই ‘ব্রাজিল, ব্রাজিল’, ‘আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা’! ও হ্যাঁ, সামনের বিশ্বকাপ থেকে হয়তো এই দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশিদের গলায় ফুটবে ‘ক্রোয়েশিয়া, ক্রোয়েশিয়া’ স্লোগানও!

আর তখনই অবচেতনে মনের কোণে বেজে উঠবে হাহাকার- এ-তো সেই ক্রোয়েশিয়া, যারা এক সময়ে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ছিল ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে! মনের অজান্তেই হয়তো প্রশ্ন উঠবে, হায়রে বাংলাদেশের ফুটবল! তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে? কেন হারিয়ে গেলে?

কেআর 

 

 
.


আলোচিত সংবাদ