ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের মাঝে ৩ লড়াই

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের মাঝে ৩ লড়াই

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৮

ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের মাঝে ৩ লড়াই

ক্রোয়েশিয়ান দলটি অভিজ্ঞ। ইংল্যান্ড তারুণ্যনির্ভর দল। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বুধবার রাতের দ্বিতীয় সেমি ফাইনালটি তাই একটু ভিন্ন রকমের হতেই পারে। ফাইনালে ওঠার লড়াই। যেখানে অপেক্ষায় ফ্রান্স। ২৮ বছর পর সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। একবারই উঠেছে এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১৯৯৮ সালের পর ক্রোয়েশিয়া কখনো শেষ চারে যায়নি। বিশ্বের ইতিহাস বিবেচনায় এখনো নবীন দেশটির ফাইনালে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ এই ম্যাচ।

এই ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া সেমি ফাইনাল লড়াইয়ের মাঝেও থাকছে আরো তিন লড়াই। চলুন দেখে নেওয়া যাক।

জর্ডান হেন্ডারসন বনাম লুকা মদ্রিচ

মাত্র ৬ সপ্তাহ আগেই লিভারপুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাটা জিতল রিয়াল মাদ্রিদ। ইংলিশ হেন্ডারসনের সামনে শোধ নেওয়ার সুযোগ। সেই সাথে মদ্রিচদের হারিয়ে ইংল্যান্ডের জার্সি শরীরে ৩০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ডটা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এতো দীর্ঘ সময় হার না মানা খেলোয়াড় কেবলই হেন্ডারসন। ২৮ বছরের লিভারপুল মিডফিল্ডার শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, বল যোগানে দুর্দান্ত। তার উপস্থিতি জেসে লিংগার্ড ও ডেলে আলিকে রাশিয়ায় গোল এনে দিয়েছে।

কিন্তু হেন্ডারসনের জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্চ হয়ে দাঁড়াতে পারেন ৩২ বছরের লুকা মদ্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এবং ক্রোয়াট নাম্বার টেন আর ক্যাপ্টেন মদ্রিচ ডিফেন্স চেরা পাসে দুর্ধর্ষ। নিজে গোল করেন। খেলার ছন্দ তৈরি করে দেন, মোড় ঘুরিয়ে দিতে জানেন। এবারের বিশ্বকাপে তিনটি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার উঠেছে তার হাতে। রিয়ালকে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেরা করার পর এখন ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানাতে পারলে নিশ্চিতভাবেই ব্যালন ডি'অরের দাবিদার হয়ে উঠবেন মদ্রিচ।

হ্যারি কেন বনাম ডেজান লভরান

সেন্টার ব্যাক ২৯ বছরের ডেজান লভরানের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এসে গেল। ঠেকাতে হবে এবারের আসরে সেরা গোলদাতা হ্যারি কেনকে। লিভারপুলের ডিফেন্ডার লভরানকে গত অক্টোবরে টটেনহামের বিপক্ষের ম্যাচের প্রথমার্ধের পরই তুলে নিতে হয়েছিল। হ্যারি কেন তাকে নাকানি চুবানি খাইয়েছিলেন ৪-১ গোলের জয়ের ম্যাচে।

অনেকে ভেবেছিল সেদিনই অ্যানফিল্ডে লভরেনের ক্যারিয়ার শেষ! কিন্তু তিনি ক্লাব কোচের কাছে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। শুধু তাই না, ক্রোয়াট ডিফেন্সের শক্ত নেতা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচে লিওনেল মেসিকে আটকে রেখেছিলেন অনন্য দক্ষতায়। লভরেনের সাথে ৫ দেখায় ৫টি গোল করেছেন হ্যারি কেন। এর মধ্যে ৬ গোল করে ফেলা লভরেনকে আবার হারিয়ে গোল্ডেন বুটের দাবিদার ইংলিশ ফরোয়ার্ড নিশ্চয়ই উৎসব করতে চাইবেন।

কিয়েরান ট্রিপিয়ের বনাম ইভান পেরিসিচ

তাকে বেকহামের নামে ডাকা হয়। ট্রিপিয়ের এই বিশ্বকাপে নিজেকে চিনিয়েছেন আরো ভালো করে। সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের মতো ক্রস করার দক্ষতার জন্য ২৭ বছরের রাইট ব্যাকের সাথে বেকসের নাম জুড়ে গেছে। নেইমার এবং কেভিন ডি ব্রুইনের মতো এই আসরে সুযোগ তৈরি করা খেলোয়াড়দের তালিকায় ট্রিপিয়েরের নাম। কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের ৩-৫-২ ফরম্যাটে আরেক সহজাত রাইট ব্যাক কাইল ওয়াকারের কারণে প্রতি সুযোগেই উপরে উঠে আক্রমণে চলে যান ট্রিপিয়ের। কিন্তু ইভান পেরিসিচের বিপক্ষে তার ডিফেন্সিভ সামর্থ্যের প্রমাণ রাখার সময় এখন।

ইন্তার মিলানের তারকা উইঙ্গার পেরিসিচ এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন। ৭১ ম্যাচে ১৯ গোল করার মধুর স্মৃতি এই ২৯ বছর বয়সী খেলোয়াড়ের। বড় আসরের খেলোয়াড় বলতে হয় তাকে। মেজর টুর্নামেন্টের শেষ ১১ ম্যাচে ৫টি গোল করেছেন পেরিসিচ। ক্রোয়াট আক্রমণে গতি ও ক্ষুরধার সিদ্ধান্তের কারণে ইংলিশদের ডিফেন্স এবং ট্রিপিয়েরের কঠিন সময় যেতেই পারে। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর দেশের হয়ে ইউরো ২০১২, ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০১৬ ইউরোতে খেলার অভিজ্ঞতা তার। যেখানে দেশের পক্ষে গেল বছরই অভিষেক ট্রিপিয়েরের, এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন ১১টি।

ক্যাট