ফ্রান্সের সঙ্গী ক্রোয়েশিয়া না ইংল্যান্ড?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

ফ্রান্সের সঙ্গী ক্রোয়েশিয়া না ইংল্যান্ড?

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৮

print
ফ্রান্সের সঙ্গী ক্রোয়েশিয়া না ইংল্যান্ড?

বেলজিয়ামকে প্রথম সেমি ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের মঞ্চে পা রেখেছে ফ্রান্স। ১৫ জুন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে লড়াইয়ে নামার জন্য এখন তৈরি হবে দিদিয়ের দেশমের দল। কিন্তু শিরোপার মঞ্চে প্রতিপক্ষ হিসেবে কাদের পাচ্ছে দলটি? বুধবার দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে মিলবে সেই জবাব। যেখানে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বুধবারের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়।

সেমি ফাইনালেন লাইন আপ চূড়ান্ত হওয়ার পরই নিশ্চিত হয়ে গেছে বিশ্বকাপটা থাকছে ইউরোপেই। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছিল ইউরোপের দেশ জার্মানি। এবার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের আয়োজক ইউরোপেরই দেশ রাশিয়া। যেখান থেকে অন্য কোনো অঞ্চলের দেশের ট্রফি ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। এখন বরং প্রশ্ন ফ্রান্স বা ইংল্যান্ড দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ঘরে তুলবে নাকি নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ক্রোয়েশিয়াকে পাবে বিশ্ব ফুটবল?

নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল বেলজিয়ামেরও। কিন্তু আগের দিন প্রথম সেমিতে হেরে যাওয়ায় সেটি আর হচ্ছে না। নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে হলে এখন প্রথম শর্ত, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে হবে ক্রোয়েশিয়াকে। আর ইংল্যান্ড জিতে গেলে ফাইনালে হয় ১৯৬৬ সালের পর ফের চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়বে দলটি নইলে ১৯৯৮ আসরের পর ফের ট্রফি হাতে উল্লাস করবে ফরাসিরা।

ফাইনালের ভাবনা অবশ্য আপাতত তুলে রাখতে চাইবে ইংল্যান্ড বা ক্রোয়েশিয়া। সেমি ফাইনাল জিততে পারলেই না ১৫ জুন নিয়ে ভাবা যাবে। তবে দুই দলের ম্যাচটি দারুণ একটা লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে।

কমপক্ষে সেমি ফাইনাল খেলতে পারে, সম্ভাব্য এমন দলের তালিকায় আসরের শুরুতে ইংল্যান্ড বা ক্রোয়েটরা ছিল না। ইংল্যান্ড তো কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নয়, যতো দূর যাওয়া যায় এমন পন করে এসেছিল। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া গ্রুপ পর্বে আর্জন্টিনাকে হারানোর পর শুধু নিজেদের ওপরেই তুলে ধরেছে।

গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া ও পানামাকে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। বেলজিয়ামের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে হার তাদের ১-০ গোলে। ফলে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে দ্বিতীয় পর্বে উঠে তারা। যেখানে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারায় গ্যারেথ সাউথগেটের দল। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ড।

ক্রোয়েশিয়া গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়াকে হারানোর পর আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেয়। এরপর আইসল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে উঠে দ্বিতীয় পর্বে। শেষ ষোলোতে ডেনমার্ক ও কোয়ার্টারে রাশিয়াকে টাইব্রেকারে হারায় দলটি। ১৯৯৮ সালের পর আবারো সেমি ফাইনালে উঠে এসেছে ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের সেমি ফাইনালে জায়গা পাওয়া ২৮ বছর পর। ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে সর্বশেষ সেমি ফাইনালে খেলেছিল দলটি।

বিশ্বকাপে এর আগে কখনোই মুখোমুখি হয়নি দুই দল। তুবে দারুণ সব দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে সবাই। ডাগআউটে যেমন ইংল্যান্ডের গ্যারেথ সাউথগেট আর ক্রোয়েশিয়ার কোচ জাৎকো দালিচের কৌশলের লড়াই। মাঠে হ্যারি কেইন ও লুকা মদ্রিচের লড়াই। তবে ক্রোয়েশিয়াকে ভাবতে হবে ইংলিশদের সেটপিস নিয়ে। যেখানে এবার দুর্দান্ত ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টে এবার সর্বোচ্চ ৮টি গোল করেছে তারা সেটপিস থেকে। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া যে চার গোল হজম করেছে তার ৩টিই ছিল সেটপিস থেকে।

কিন্তু এসব সমীকরণ জেনেই ক্রোয়েশিয়া কোচ আগেই যুদ্ধের কথা বলেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ইংলিশরাও এখন ১৯৬৬ সালের পর ফের চ্যাম্পিয়ন হওযার স্বপ্নে চোয়ালবদ্ধ। দর্শকরা তাই দুর্দান্ত এক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন তা বলাই যায়।

টিএআর/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ