ওজিলই তাহলে জার্মানির 'বলির পাঠা'!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

ওজিলই তাহলে জার্মানির 'বলির পাঠা'!

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮

ওজিলই তাহলে জার্মানির 'বলির পাঠা'!

সেই একই কোচ। একই ম্যানেজার। প্রেসিডেন্টও একই। এখনো জার্মান সকার ফেডারেশন (ডিএফবি) স্থীর করতে পারেনি আসলে মেসুত ওজিলই আসল কালপ্রিট কি না বিশ্বকাপ থেকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ে। 'বলির পাঠা' তো লাগবে। টিম ম্যানেজার অলিভার বিয়েরহফ তো একটি জার্মান সংবাদপত্রে সাফ বলে দিয়েছেন যে ওজিলকে আসলে রাশিয়ায় নেওয়াই উচিৎ হয়নি। ওদিকে, ডিএফবির প্রেসিডেন্ট রেইনার্ড গ্রিনডেল বলেছেন, খেলোয়াড়ের কাছ থেকে 'জবাব' চান।

জোয়াকিম লো এমন ব্যর্থতার পরও জার্মান কোচ থাকছেন। তিনিও কিছু বলছেন না ব্যাপারটি নিয়ে। লোর দলে দীর্ঘদিন ধরেই খেলছেন ওজিল। কিন্তু তিনি ও তার টিমমেট ইলকে গুনদোগান জ্বলন্ত উনুনে পড়েছিলেন গেল মে মাসে। কারণ, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাথে ছবি তুলে। ওই দুই খেলোয়াড়ের শেকড় তুরস্কে।

গুনদোগান ওই ছবির ব্যাপার নিয়ে কোনো কথা বলেননি। ওজিলও নিরাবতা বেছে নিয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে, এই ইস্যুটা বিশ্বকাপের আগেই সমাধা করা উচিৎ ছিল। 'খালি ডিএফবি কমর্কর্তারাই কেবল এমন দাবি করতে পারে যে এরদোয়ানের সাথে ছবিটাই ফুটবল জায়ান্ট দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হারের জন্য দায়ী,' টুইটারে নর্থ রাইন ওয়েস্ট ফালিয়া মিনিস্টার প্রেসিডেন্ট আরমিন লাশচেট টুইট করেছেন।

রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় গেলবারের চ্যাম্পিয়নদের। এরপর টিম ম্যানেজার কিংবদন্তি বিয়েরহঢ সংবাদপত্রের কাছে বলেছেন, টুর্নামেন্টে ওজিলকে না নিলেই ভালো হতো। এখন যখন ওজিলের বিষয়ের সাথে তার মন্তব্য মিলিয়ে বিতর্ক উঠছে তখন আত্মপক্ষ সমর্থন করছেন বিয়েরহফ। বলেছেন, তিনি মানেন না যে কেবল একজন খেলোয়াড়ের কারণেই দল ব্যর্থ হয়েছে।

কিন্তু ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট গ্রিনডেল ইস্যুটাকে জীবন্ত রেখেছেন, কিকার ম্যাগাজিনের শেষ সংখ্যার কাছে বলেছেন, 'এটা সত্যি যে মেসুত এখনো মন্তব্য করেনি। তা অনেক ফ্যানকে হতাশ করেছে। তাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, একটাও জবাব নেই। ফ্যানরা জবাব পাওয়ার দাবি রাখে। এই কারণে আমি পরিষ্কার যে মেসুতের এই বিষয়ে কথা বলা উচিৎ।'

গ্রিন্ডেলও কিন্তু এসব কথা বলে বিয়েরহফের মতো সংবাদপত্রের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বার্লিন জেইটাং এই প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করে লিখেছে, তিনি 'আগুনের মধ্যে তেল ছুড়ে নিজের উপর আলো ছড়াচ্ছেন।'

২০১০ বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো খেলোয়াড় ওজিল টানা পারফর্মই করছিলেন। শ্যালকে থেকে রিয়াল মাদ্রিদে চলে গেলেন। জার্মানির পক্ষে ৯২ ম্যাচ খেলেছেন। ২৩ গোল এই মিডফিল্ডারের। রাশিয়ায় সামর্থ্যের কাছাকাছি পারফর্ম করতে না পারা একমাত্র খেলোয়াড় তো ওজিল নন। কিন্তু দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের এরদোয়ানের সাথে ছবি নতুন করে বিতর্ক টানছে। আর এই বিতর্ক কি ওজিলকে জার্মানির বিশ্বকাপ ব্যর্থতার 'বলির পাঠা' বানিয়ে ছাড়বে?

এখন গ্রিন্ডেল বলছেন, খেলোয়াড়ি বিশ্লেষণ করে জানতে হবে জোয়াকিম লো কি বলেন। ওদিকে, ওজিলের বাবা মোস্তাফা ওজিল বলেছেন এটি বর্ণবাদের মতোই। ছেলে ওজিলকে তো এসব সহ্য না করে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাবই দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমে!

সূত্র : এপি

ক্যাট