ফ্রান্স-বেলজিয়াম সেমি ফাইনালের সাতকাহন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

ফ্রান্স-বেলজিয়াম সেমি ফাইনালের সাতকাহন

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮

ফ্রান্স-বেলজিয়াম সেমি ফাইনালের সাতকাহন

কত যুগ পর সেমি ফাইনালে! বেলজিয়ানরা এই বাঁধাটা পেরুতেই পারে না। কিন্তু ফ্রান্স পেরেছে এবং একবার বিশ্বকাপও জিতেছে। আর সব বিশ্বকাপেই অন্তত সেমিতে যাওয়ার মতো প্রাক টুর্নামেন্ট হিসেবে তারা থাকে। মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রতিভাবান বেলজিয়ামের মুখোমুখি তারকাভরা ফ্রান্স। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে কে? তার আগে চলুন ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের সংশ্লিষ্ট বিশ্বকাপ সাতকাহন জেনে আসা যাক।

বেলজিয়াম:

* বেলজিয়াম শেষবার বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে খেলেছে ১৯৮৬ সালে। যে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ম্যাজিক শুরু। দুটি গোল করলেন বেলজিয়ান ডিফেন্স তছনছ করে। ২-০ গোলের জয়ে ফাইনালে গেল আর্জেন্টিনা।
*ওই আসরে বেলজিয়াম গ্রুপর্ব থেকে কিন্তু তৃতীয় দল হিসেবে নক আউট পর্বে গিয়েছিল বেলজিয়াম। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে হেরেছিল। এরপর সোভিয়েত ইউনিয়নকে শেষ ষোলতে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে হারিয়েছিল।
* ডিফেন্ডার ইরিক গেরেটস ১৯৮৬ বিশ্বকাপের দলটির চেয়ে এই ২০১৮ বিশ্বকাপের দলটিকে বেশি প্রতিভাবান মানেন। সেবারের সেমিতে খেলা ওই খেলোয়াড় বলেছেন, তিনি অবশ্য ব্রাজিলের বিপক্ষে শুক্রবারের কোয়ার্টার ফাইনালের ২-১ গোলের জয়ের আগে তাদের দলটির মতো টিম স্পিরিট এই দলের মধ্যে দেখেননি। 



* ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে হারের পর বেলজিয়াম পুয়েবলায় ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ওই প্লে অফে আগে লিড নিয়েও পরে ৪-২ গোলে হেরে যায়।
* ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল বেলজিয়াম। কিন্তু আর্জেন্টিনার গঞ্জালো হিগুয়াইনের গোলে তাদের হেরে বিদায় নিতে হয়।
* ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা ১৫জন খেলোয়াড় ২০১৮ বিশ্বকাপের বেলজিয়াম দলে আছে। ওটাই এই দলের অভিজ্ঞতার দিকে নির্দেশ করে।


ফ্রান্স :

* জাস্ত ফন্তেইনের এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের রেকর্ড এখনো অধরা। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে গোলের উৎসব করে ফ্রান্সকে প্রথমবারের মতো সেমি ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্রাজিলের কাছে ৫-২ গোলে হারতে হয়েছিল। টিনেজার পেলে করেছিলেন হ্যাটট্রিক।
* সেভিয়ায় ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে পেনাল্টিতে হেরেছিল। কুখ্যাত সেই ম্যাচে জার্মান গোলরক্ষক হ্যারল্ড শুমাখারের কুং-ফু স্টাইলের চ্যালেঞ্জে ফ্রান্সের প্যাত্রিক বাতিনসনকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। পাঁজরের হাড় ও দাঁত ভেঙেছিল। কোমাতে চলে গিয়েছিলেন।
* ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে ফ্রান্স আবার সেমি ফাইনালে ওঠে। কিন্তু এবারও জার্মানির কাছে হার। ২-০ গোলে।

*১৯৯৮ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ফ্রান্স। সেবারই প্রথম ও শেষবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জেতেছে তকারা। সেমি ফাইনালে তারা ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল।
* ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশ ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন। এখন প্লেয়ার ও কোচ হিসেবে দেশকে শিরোপা জেতানোর সম্ভাবনা ডাকছে তাকে।
*২০০৬ বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো ফ্রান্স বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে খেলে। জিনেদিন জিদানের পেনাল্টি গোলে পর্তুগালকে ১-০ তে হারিয়ে ফরাসিরা ফাইনালে ওঠে।

ক্যাট