সেমি-যুদ্ধের আগে এমবাপে বন্দনায় বেলজিয়ানরা!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

সেমি-যুদ্ধের আগে এমবাপে বন্দনায় বেলজিয়ানরা!

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮

print
সেমি-যুদ্ধের আগে এমবাপে বন্দনায় বেলজিয়ানরা!

কারো প্রশংসা করা সব সময়ই বড় মনের পরিচায়ক। উদারতার বহিঃপ্রকাশ। সেই প্রশংসাটা যদি করা হয় প্রতিপক্ষ শিবিরের কাউকে নিয়ে, তখন আরও বেশি উদারতার পরিচয় মেলে। তবে কিলিয়ান এমবাপেকে বেলজিয়াম খেলোয়াড়দের হঠাৎ প্রশংসায় মাতোয়ারা হওয়াটা অন্য একটা প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে। একি নিখাঁদ প্রশংসা, নাকি মনস্তাত্ত্বিক খেলার অংশ! ফ্রান্স-বেলজিয়ামের সেমিফাইনাল যুদ্ধের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার আগে প্রতিপক্ষ শিবিরের একজনকে নিয়ে বেলজিয়ানদের এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসাকে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের অংশ বলেই যায়। হয়তো তরুণ এমবাপের উপর প্রত্যাশার বোছাটা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাই করছেন এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনরা।

তা মনস্তাত্ত্বিক খেলার অংশ হোক বা স্রেফ উদারতা থেকেই হোক, এমবাপেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসায়ই ভাসিয়েছেন বেলজিয়াম দলের প্রধান দুই খেলোয়াড় এডেন হ্যাজার্ড ও ডি ব্রুইন। গত এক দশকে ব্যালন ডি’অরকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দুজনেই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন সমান ৫ বার করে। কিন্তু বেলজিয়াম অধিনায়ক হ্যাজার্ড বললেন, এবার বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এই ব্যক্তিগত পুরস্কারটি এমবাপের প্রাপ্য।

ডি ব্রুইন বলেছেন, সামনের ১৫টি বছর হবে এমবাপের। মানে সামনের ১৫ বছর বিশ্ব শাসন করবেন এই ফরাসি তরুণ। ক্লাব ফুটবলের মাধ্যমে এমবাপে ১৯ বছর বয়সী এমবাপে নিজেকে চিনিয়েছেন আগেই। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের মাধ্যমে ফরাসি তরুণ নিজেকে চিনিয়েছেন আরও ভালো করে। পেয়ে গেছেন বিশ্ব তারকার খেতাব। বিশেষ করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে এমবাপে ছিলেন অবিশ্বাস্য। মূলত তার গতির কাছেই হেরেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় মেসির আর্জেন্টিনার।

ওই ম্যাচের পর পুরো ফুটবল দুনিয়াই ফরাসি তরুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বেলজিয়াম দলের দুই প্রানভোমড়া হ্যাজার্ড-ডি ব্রুইন যেন আরও বেশি মুগ্ধ। তারা দুজনেই জানেন, আজ এমবাপেই হবেন, তাদের অন্যতম বড় আতঙ্কের নাম। এটাও জানেন, স্বপ্নের ফাইনালে উঠতে হলে, সবার আগে ফ্রান্সের এই বিস্ময়বালককে রুখে দিতে হবে। সেই পরিকল্পনা হয়তো করছেনও। কিন্তু ম্যাচের কৌশল হিসেবেই হ্যাজার্ড বা ডি ব্রুইন নিজেদের সেই গোপন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেননি। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমবাপে প্রসঙ্গ উঠতেই দুজনে মেতে উঠেন তার প্রশংসায়।

হ্যাজার্ড স্পষ্ট করেই বললেন, এমবাপে মাঠে যা করেছেন, তাতে ব্যালন ডি’অর তার প্রাপ্য, ‘সে যা দেখিয়েছে, তাতে অবশ্যই ব্যালন ডি’অর জয়ের সামর্থ তার আছে। আমার মতে সম্ভাবনা এবং মানের দিক ব্যালন ডি’অর তার প্রাপ্য।’

ড্রি ব্রুইন হ্যাজার্ডের মতো ব্যালন ডি’অরের দাবিদার বানাননি। তবে ডি ব্রুইনের মতে, আগামী এক দেড় দশক হবে এমবাপের। এক সময় এমবাপের সঙ্গে মোনাকোতেই খেলেছেন ড্রি ব্রুইন। তখন অবশ্য এমবাপের বয়স আরও কম ছিল। ফলে ম্যাচ খেলার সুযোগ তেমন পেতেন না। সেই স্মৃতি চারণা করে ড্রি ব্রুইন বলেছেন, ‘তখন আমি তাকে সেভাবে চিনতামই না। কিন্তু গত বছর দেড়েক ধরে সে অসাধারণ খেলছে। এখন সে অন্যতম বড় একটা ক্লাবে খেলে। সে এরই মধ্যে নিজেকে ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সে পরের ১৫ বছরের জন্য একজন তারকা।’

এমবাপে দ্রুত উন্নতি করছে জানিয়ে ডি ব্রুইন বলেছেন, ‘এই বছরটা তার দারুণ কাটছে। নিজের খেলায় উন্নতিও করেছে অনেক। সত্যিই সে আমাদের জন্য বিপদনজনক হবে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করব তাকে নিজের খেলা থেকে বিরত রাখতে।’

হ্যাজার্ড-ডি ব্রুইনরা পারবেন, এমবাপেকে রুখে দিতে? নাকি সেন্ট পিটার্সবার্গে আজ হতে যাচ্ছে আরেকটি এমবাপে-শো? উত্তর মিলবে রাতেই।

কেআর

 
.



আলোচিত সংবাদ