লুকাকুর জোড়া গোলে বেলজিয়ামের উড়ন্ত শুরু

ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫

লুকাকুর জোড়া গোলে বেলজিয়ামের উড়ন্ত শুরু

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৮

লুকাকুর জোড়া গোলে বেলজিয়ামের উড়ন্ত শুরু

রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ বেলজিয়ামের শুরুটা হলো উড়ন্ত। ‘জি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পানামাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা পানামা প্রথমার্ধে কঠিন পরীক্ষা নেয় বেলজিয়ামের। রক্ষণে দারুণ খেলে রুখে দেয় দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে রাশিয়ায় আসা দলটিকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের পর আক্রমণ করে গেল লুকাকু, মারটেন্সরা। শুরুতেই ড্রিয়েস মারটেন্স প্রথম গোল করার পর জোড়া গোল করলেন রোমেরো লুকাকু। তাতেই দুরন্ত এক জয় বেলজিয়ামের।

নিজেদের সর্বশেষ ১৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে রাশিয়া পা রাখে বেলজিয়াম। যাদের সর্বশেষ হার সেই ২০১৬ সালে স্পেনের বিপক্ষে। সেই দলটা বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করবে সেটিই তো স্বাভাবিক। অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে তাই বাড়িয়ে নিল তারা। শেষ ২০ ম্যাচের ১৫টিতেই এখন জয় বেলজিয়ামের। অন্য ৫টিতে ড্র।

কিন্তু প্রথমার্ধে ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখেও বেলজিয়াম পারেনি গোল আদায় করতে। এর জন্য কি নিজেদেরই দায় দিবে দলটি? যে লুকাকু জোড়া গোল করলেন, তাকে যে প্রথমার্ধে একটি সফল পাসও দিতে পারেননি ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারাকা লুকাকুই একমাত্র খেলোয়াড় যাকে কোনো পাস দিতে পারেনি ডি ব্রুইন। প্রধমার্ধ শেষে তাই লুকাকুর মুখ জুড়ে ছিল রাজ্যের হতাশা।

তবে সেই ডি ব্রইনের এসিস্ট থেকেই নিজের প্রথম গোলটি করলেন লুকাকু। ৬৯ মিনিটে হেজার্ডের বাড়ানো বল দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে ডি বক্সের ভেতরে ডানদিকে ক্রস করেন ডি ব্রুইন। যাতে মাথা লাগিয়ে লুকাকু বল জড়িয়ে দেন জালে। গোলের পর হাসিমুখে আঙ্গুল দিয়ে ডি ব্রুইনকেই বোধহয় কিছু একটা তাই ইঙ্গিত করলেন লুকাকু।

লুকাকুর ওই গোলের আগে মারটেন্সের দলকে প্রথম লিড এনে দেওয়া গোলটিও ছিল দেখার মতো। বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের ৪৭ মিনিটে গোল করেন তিনি। লুকাকুর ক্রস পুরোপুরি ক্লিয়ার পরতে পারেনি পানামা রক্ষণ। ডি বক্সের ডানপাশের কোনা থেকে গোলমুখে সরাসরি উড়ন্ত এক শট নেন মারটেন্স। যা থেকে প্রথম লিড বেলজিয়ামের। মার্ক উইলমটসের পর মারটেন্সে দ্বিতীয় বেলজিয়াম তারকা যিনি দুটি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন। উইলমটস ১৯৯৮ ও ২০০২ পর পর দুই বিশ্বকাপে গোল করেন।

রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যদের একের পর এক আক্রমণে এরপর কোণঠাসা হয়ে পড়ে পানামা। প্রথমার্ধের বীরত্ব আর তারা দেখাতে পারেনি। মার্টেন্সের পর লুকাকু নিজের প্রথম গোলটি পেয়ে আরো উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। ৭৫ মিনিটে হেজার্ডের বাড়ানো বল দারুণ দক্ষতায় জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেন লুকাকু। বেলজিয়ামের জয় তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় এক রকম।

মারটেন্স যেমন মার্ক উইলমটসের একটি কীর্তি ছুঁয়েছেন তেমনি তাকে আরেক কীর্তিতে ছুঁয়েছেন লুকাকুও। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে উইলমটসের সমান ৫ গোল এখন লুকাকুর। তাদের চেয়ে মাত্র ১ গোল বেশি জন সিউলম্যানসের।

বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে সর্বশেষ ২০০২ আসরে অভিষিক্ত কোন দল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করে। যে গৌরবটি সেনেগালের দখলে। বেলজিয়ামের সামনে পানামা তেমন কিছু করতে পারেনি।

বেলজিয়াম নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে শনিবার। প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া। পরদিন পানামা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

টিএআর/পিএ