২০১৪-এর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে ব্রাজিল!

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

২০১৪-এর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে ব্রাজিল!

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৮

print
২০১৪-এর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে ব্রাজিল!

ব্যর্থতা শুধু হতাশার স্মৃতি নয়। শিক্ষণীয়ও। ব্যর্থতার গল্প মানুষকে শেখায় অনেক কিছুই। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ৭-১ ব্যর্থতা থেকে যেমন শিক্ষা নিয়েছে ব্রাজিলিয়ানরা। ৪ বছর আগে নিজেদের মাটির বিশ্বকাপে শিরোপা স্বপ্নের মালাই গেথেছিল ব্রাজিলিয়ানরা। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিটও ছিল তারা। কিন্তু সেমিফাইনালে ব্রাজিলিয়ানদের সেই শিরোপা স্বপ্ন নিষ্ঠুরভাবে গুঁড়িয়ে দেয় জার্মানি। শিরোপার স্বপ্ন দেখা ব্রাজিল নিজ মাটির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে ৭-১ গোলে হেরে। যা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানদের ফুটবল ইতিহাসেই সবচেয়ে বড় হার!

স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের মাটিতে ৪ বছর আগের ওই লজ্জানক হারের স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি ব্রাজিলিয়ানরা। প্রতিনিয়তই তাদের তাড়িয়ে বেড়ায় সেই স্বপ্নভঙ্গের করুণ গল্প। তবে সেই করুণ গল্প মনে করে শুধু নিরবে চোখের জল ফেলাই নয়, তা থেকে শিক্ষাও নিয়েছে ব্রাজিল।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের দরজায় দাঁড়িয়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা নিজেই বললেন, ২০১৪ সালের সেই ৭-১ ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন তারা। সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে সতীর্থদের তাড়নাও দিচ্ছেন সিলভা। সতীর্থদের প্রতি তার স্পষ্ট তাড়না, রাশিয়ায় কিছুতেই ওরকম কিছু ঘটতে দেওয়া যাবে না।

ব্রাজিলের ২০১৪ বিশ্বকাপ দলের অনেকেই আছেন এবারের বিশ্বকাপের দলে। নেইমার, মার্সেলো, মিরান্ডাদের সঙ্গে থিয়াগো সিলভা নিজেও ছিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপ দলে। তার বাহুতেই ছিল অধিনায়কত্বের আর্মব্র্যান্ড। কিন্তু বেলো হরিজেনোতার সেই সেমিফাইনালে নেইমারের মতো তিনিও খেলতে পারেননি। নেইমার খেলতে পারেননি চোটের কারণে। অধিনায়ক সিলভা খেলতে পারেননি দুই হলুদকার্ড খড়্গে পড়ে। অধিনায়ক সিলভাকে তাই মাঠের বাইরে বসেই দেখতে হয় দলের একের পর এক গোল হজম করার করুণ দৃশ্য।

সেই সিলভা এবারও আছেন দলে। অধিনায়কত্বের আর্মব্র্যান্ড হাত বদলে নেইমারের বাহুতে উঠলেও ৩৩ বছর বয়সী সিলভা ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম বড় ভরসা। অধিনায়কত্ব না থাকলেও পিএসজি ডিফেন্ডারকে দলের সবাই খুব শ্রদ্ধা করেন। সতীর্থদের কাছে ‘বড় ভাই’ সিলভার কথার মর্যাদা অনেক। সেই অবস্থান থেকেই সিলভা ৭-১-র কথা মনে করিয়ে দিয়ে সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করছেন।

পাশাপাশি দাবি করেছেন ওই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা, ‘প্রতিটা দিনই ফুটবলারদের নতুন কিছু শিখতে হয়। পেশাদারিত্বের দিক থেকে, ব্যক্তিগতভাবে এবং আবেগি দৃষ্টিকোণ থেকেও। কারণ, ফুটবল খেলায় আবেগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো আমরা হয়তো এটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না।

গোল ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিলভা যোগ করেছেন, ‘তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই আবেগকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি না। কারণ আমি সবকিছুকেই স্বাভাবিকভাবে দেখি। ভালো বা খারাপ যাই ঘটুক, আমার মতে তা সবকিছুই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে আমাদের কান্না সবার কাম্য নয়। কেউ যদি আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশাও করে, তারপরও আপনাকে সেরাটাই করার চেষ্টা করতে হবে।’

একটু থেমে সিলভা আবার বলে চলেন, ‘আমি সব সময় সেটাই বলঅর চেষ্টা করি, যা আমি বিশ্বাস করি। তবে ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আমরা আশাবাদী, ২০১৮ বিশ্বকাপটি ভিন্ন কিছুই হবে। শুধু থিয়াগো সিলভার জন্য নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও।’

রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে সিলভা বললেন, ‘আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তবে সেটা অনেক দূরের পথ। আশাকরি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলতে পারব এবং সম্ভাব্য সেরাভাবেই শেষ করতে পারব, ফিরতে পারব হাতে ট্রফি নিয়ে।’

উল্লেখ্য, ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ মিশন শুরু হচ্ছে ১৭ জুন, সুইজাল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ই গ্রুপে তাদের পরের ম্যাচ দুটি ২২ ও ২৭ জুন, যথাক্রমে কোস্টারিকা ও সার্বিয়ার বিপক্ষে।

কেআর

 
.


আলোচিত সংবাদ