ম্যারাডোনার কীর্তি অধিনায়কত্বেও

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫

বিশ্বকাপ ফুটবল রেকর্ডস

ম্যারাডোনার কীর্তি অধিনায়কত্বেও

ইম্মানুয়েল শোভন মন্ডল ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৮

print
ম্যারাডোনার কীর্তি অধিনায়কত্বেও

পৃথিবীতে জাতিসংঘের সদস্য যতগুলো দেশ, তার চেয়ে বেশি সদস্য রয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফায়। ফুটবলের আবেদন ও জনপ্রিয়তা বোঝাতে এই একটি তথ্যই যথেষ্ট। আর এই আবেগে জোয়ার তুলতে চার বছর পর আবার আসছে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘ফিফা বিশ্বকাপ’। ৮৮ বছরের ইতিহাসে এটা বিশ্বকাপের ২১তম আয়োজন, এবছরের ১৪ জুন যা শুরু হচ্ছে রাশিয়ায়। মঙ্গলবার, ৬ মার্চ শুরু হয়ে গেছে এই ফুটবল জ্বরে ভোগার ১০০ দিন গণনা। পাঠক চলুন এই উন্মাদনায় জেনে নেই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড কোন কিংবদন্তি ফুটবলারের-

ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তিনি না পেলে, কে সর্বকালের সেরা ফুটবলার- এ নিয়ে তর্ক সম্ভবত আজীবনই চলবে। সেটা আলাদা গল্প। আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ক্যারিয়ারে অনেক অর্জনই আছে এই আর্জেন্টাইন ফুটবলারের। তবে আজকের গল্প তার বিশ্বকাপের একটি রেকর্ড নিয়ে। ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৪- চার বিশ্বকাপে তিনি মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ১৬ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে বিশ্বকাপে এর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেননি অন্য কোন ফুটবলারই।

ডিয়েগো ম্যারাডোনা :

১৯৭৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে অভিষেক হয় ম্যারাডোনার। তখন থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ৯১টি ম্যাচ খেলেছেন এই প্লেমেকার। করেছিলেন ৩৪ গোল।

বয়স মাত্র ১৭ বছর হওয়ায় ১৯৭৮ সালে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ী দলে ম্যারাডোনাকে নেননি তৎকালীন কোচ সিজার লুইস মেনত্তি। তবে ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে তিনি নিয়মিত সদস্য হিসেবেই অংশ নিয়েছিলেন। আর্জেন্টিনার পাঁচটি ম্যাচেই খেলেছিলেন, একবারের জন্যও তার বদলি খেলোয়াড় নামানো হয়নি। মোট দুই গোল করলেও তার পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না সেবার।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন ম্যারাডোনা। এতটাই ভাল পারফর্ম করেছিলেন যে মানুষ তাকে দিয়েই সেই আসরটির কথা মনে রাখে। দলকে একা হাতেই ফাইনালে তুলেছিলেন ও বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন ছোটখাট গড়নের এই ফুটবল জাদুকর। যদিও এই কৃতিত্ব একা নিতে চান না ম্যারাডোনা। ৫ গোল ও ৫ অ্যাসিস্টে জিতেছিলেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল। আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপে ১৪ গোলের ১০টিতেই ছিল তার অবদান।

পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে তাকে মার্কিংয়ে রেখে নিজের খেলাটি খেলতে দেননি জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস। তবে তাকে ফাঁকি দিয়ে ম্যারাডোনা ঠিকই জয়সূচক গোলটি বানিয়ে দিয়েছিলেন হোর্হে বুরুচাগাকে। আর কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুটি গোলই বিশ্ববিখ্যাত। প্রথমটি হাত দিয়ে করা গোল যা 'হ্যান্ড অব গড' নামে পরিচিত। ৬৬ গজ ড্রিবল করে পাঁচ ইংলিশ খেলোয়াড় ও গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে করা তার দ্বিতীয় গোলটি শতাব্দীরই সেরা বলে নির্বাচিত হয়েছে। সেবার আর্জেন্টিনার মোট ৭ ম্যাচের প্রতি মিনিটই খেলেছেন ম্যারাডোনা।

১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপেও দলের অধিনায়ক ছিলেন ম্যারাডোনা। তবে অ্যাঙ্কেলের চোট এই আর্জেন্টাইনকে তার ফুটবল জাদু দেখাতে দেয়নি। প্রায় বাদ পড়তেই বসেছিল তার দল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফাইনালে খেলেছিল আর্জেন্টিনা। তাও ৪ বছর আগের প্রতিপক্ষ পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষেই। তবে সেবার ১-০ গোলের হার মেনে নিতে হয় ম্যারাডোনাদের। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ৭ ম্যাচের প্রতিটিতেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৪ সালের ম্যারাডোনার পুরো ক্যারিয়ারের উপরই লেপে দেয় কালিমা। নিষিদ্ধ ড্রাগ এফেড্রিন নিয়ে ডোপ টেস্টে ধরা পড়ায় তাকে বিশ্বকাপ থেকেই নিষিদ্ধ করে ফিফা। আর্জেন্টিনার হয়ে সেবার দুই ম্যাচ খেলেছিলেন ম্যারাডোনা। এই ঘটনার পর শেষ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও। বিশ্বকাপের অন্যতম এই তারকাকে মাথা নিচু করেই বিদায় নিতে হয়।

এসএম/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ