প্রথমবার বিশ্বকাপ মাতাতে যাওয়া ১২ সেনসেশন

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

প্রথমবার বিশ্বকাপ মাতাতে যাওয়া ১২ সেনসেশন

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৭, ২০১৮

print
প্রথমবার বিশ্বকাপ মাতাতে যাওয়া ১২ সেনসেশন

কান পাতলেই শোনা যায় রাশিয়া বিশ্বকাপের ডামাডোল। ১৪ জুন রাশিয়ায় শুরু হবে বিশ্বের সেরা ফুটবল যজ্ঞ। পুরো একমাস ফুটবল নিয়েই মেতে থাকবে দুনিয়া। একটা বিশ্বকাপ যেমন উন্মাদনা নিয়ে আসে, তেমনই শেষ হয় অনেক অনেক ইতিহাস লিখে। কোনো কোনো তারকা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে যেমন পেয়ে যান কিংবদন্তির মর্যাদা। এবার অনেক আলোকিত তারকাই নিজ নিজ দলের হয়ে আলো ছড়াবেন রাশিয়ায়। এমন কিছু আলোকিত মুখ রয়েছে, যাদের জন্য এবারের টুর্নামেন্টটি হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ। চলুন চোখ রাখা যাক সেই তালিকার সেরাদের দিকে।

 

মার্কো আসেনসিও (স্পেন)

ফুটবলের ভবিষ্যত তারকাদের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার মার্কো আসেনসিও নামটি বেশ ভালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে এখন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দারুণ খেলছেন এই ফরোয়ার্ড। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। দারুণ পারফরম্যান্স দিয়ে স্পটলাইটটা নিজের দিকে রেখেই রাশিয়া যাচ্ছেন ২২ বছর বয়সী। দুই বছর আগে ইউরোর মূল দলেও জায়গা হয়নি আসেনসিওর। প্রাথমিক দলে থাকলেও বাদ পড়েছিলে শেষ পর্যায়ে। দুই বছর পর সেই তিনিই এবার স্পেন দলের অন্যতম তারকা।

সাদিও মানে (সেনেগাল)

২০০২ বিশ্বকাপের পর আবারো ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে ফিরেছে সেনেগাল। ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সেনেগাল এবারো আলো কাড়তে চাইবে। আর সেই মিশনে তাদের অন্যতম ভরসা সাদিও মানে। বর্তমানে লিভারপুলে খেলা এই উইঙ্গারের দিকে চোখ থাকবে সবার।

গ্যাব্রিয়েল জেসুস (ব্রাজিল)

চার বছর আগে যখন নিজ দেশে বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল, তখন কোথায় ছিলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস? বর্তামানে ২০ বছর বয়সী এই তারকা তখন কিশোর। যিনি বিশ্বকাপ উদযাপন করেছেন রাস্তায় রঙের আলপনা এঁকে। ম্যানচেস্টার সিটির এই সুপারস্টার ফরোয়ার্ড বর্তমান বিশ্বে তরুণ তারকাদের মধ্যে অন্যতম। ২০১৬ অলিম্পিকে ব্রাজিলের পরম আরাধ্য অলিম্পিক সোনা জয়ী দলের সদস্য ছিলেন জেসুস।

কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)

সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপে। মোনাকো থেকে চলতি মৌসুমের শুরুতে ১৮০ মিলিয়ন ইউরোতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) পাড়ি দেন তিনি। ফ্রান্সের দশ নম্বর জার্সিটা এবার এমবাপের গায়ে চড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আক্রমণভাগে সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

রাদামেল ফ্যালকাও (কলম্বিয়া)

দীর্ঘদিন ধরেই রাদামেল ফ্যালকাও ফুটবলে বড় নাম। কিন্তু ৩২ বছর বয়সী কলম্বিয়ান তারকার এখনো খেলা হয়নি বিশ্বকাপে। ২০০২ থেকে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোয়ালিফাই করতে পারেনি কলম্বিয়া। ২০১৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ইনজুরির কারণে সেবার খেলা হয়নি রাদামেল ফ্যালকাওয়ের। এরপর ইনজুরি থেকে ফিরেছেন। ম্যানচেস্টার সিটি এবং চেলসি হয়ে এখন ক্লাব ফুটবল মাতাচ্ছেন ফ্রান্সের মোনাকোর হয়ে। তার জন্য এখন বিশ্বকাপ মাতানোর অপেক্ষা।

ফিলিপে কুতিনহো (ব্রাজিল)

বর্তমানে তৃতীয় সর্বোচ্চ দামী খেলোয়াড় ফিলিপে কুতিনহো। ১৬০ মিলিয়ন ইউরোতে কিছুদিন আগে বার্সেলোনাতে যোগ দিয়েছেন কুতিনহো। বার্সার অন্যতম প্রাণভোমরা তো বটেই, এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্রাজিল দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০১০ সালে তার ব্রাজিল সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক। তবে ২৫ বছর বয়সী তারকার এখনো খেলা হয়নি বিশ্বকাপে। এবারের আসরে অবশ্য সব ঠিক থাকলে খেলছেন এই তারকা।

এন’গোলে কান্তে (ফ্রান্স)

২০১৬ সালে ফ্রান্স জাতীয় দলে অভিষেক ২৭ বছরের এন’গোলে কান্তের। সে বছর লিস্টার সিটিকে প্রথমবারের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জেতানোয় বড় ভূমিকা রেখে আলো কাড়েন তিনি। এরপরই জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া এই ডিভেন্সিভ মিডফিল্ডারের। ২০১৬ ইউরোতে দারুণ খেলেছিলেন। যদিও ফাইনালে খেলা হয়নি তার। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২২ ম্যাচ খেলেছেন। গোল রয়েছে ১টি।

রবার্ত লেভাদোস্কি (পোল্যান্ড)

পোলান্ডের হয়ে দু'টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশেপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন রবার্ত লেভাদোস্কি। তবে খেলা হয়নি বিশ্বকাপ। ২০০৬ সালের পর দুটি বিশ্বকাপে যে প্রতিনিধিত্বই ছিল না পোল্যান্ডের। বাছাইপর্ব পেরুতে পারেনি দল। এবার আবারো বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা। বায়ার্ন মিউনিখ তারকা লেভাদোস্কির সামনে তাই স্বপ্নপূরণের সুযোগ।

 

লিরয় সেন (জার্মানি)

২০১৫ সালে জার্মানি দলে অভিষেক লিরয় সেনের। উইং কিংবা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে খেলা এই তারকা ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলছেন। জার্মানির ২০১৬ ইউরো দলে ছিলেন লিরয় সেন। সেটিই এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট।

থিয়াগো আলকান্তারা (স্পেন)

২০১১ সালে ইতালির বিপক্ষে স্পেনের হয়ে অভিষেক থিয়াগো আলকান্তারার। কিন্তু তারকাখচিত স্পেন দলে তিনি নিয়মিত ২০১৬ সাল থেকে। বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্ডার এবার খেলতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপ। আলকান্তারার রক্তেই অবশ্য মিশে আছে বিশ্বকাপ। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তার বাবা মেজিনহো।

মোহাম্মদ সালাহ (মিশর)

ইউরোপিয়ান ফুটবলে গোলের পর গোল করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহ। রীতিমতো সেনসেশন। লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, এডিসন কাভানিদের সাথে টক্কর দিয়ে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শ্যু জয়ের রেসে দারুণভাবে আছেন লিভারপুরের মিশরীয় তারকা। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখতে যাওয়া মিশর এবার আসছে এই বিরাট তারকাকে সঙ্গে নিয়ে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে সালাহর পায়েই মূলপর্ব নিশ্চিত হয় দলটির। মূল আসরেও সালাহর দিকে চোক মিশরসহ পুরো বিশ্ববাসীর।

হ্যারি ক্যান (ইংল্যান্ড)

ফুটবলে বর্তমানে আরেক বিস্ময়কর নাম হ্যারি ক্যান। ইংলিশ ফুটবল লিগের দল টটেনহামের হয়ে করছেন গোলের পর গোল। নিজ ক্লাবের হয়ে ১২০ গোল করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হ্যারি ক্যানের অভিষেক ২০১৫ সালে। জাতীয় দলের হয়ে ২৩ ম্যাচে ইতিমধ্যে ১২ গোল তার।

টিএআর/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ