বারবার চূড়ায় উঠেও চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার কষ্ট

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

বিশ্বকাপ ফুটবল রেকর্ডস

বারবার চূড়ায় উঠেও চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার কষ্ট

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৮

বারবার চূড়ায় উঠেও চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার কষ্ট

পৃথিবীতে জাতিসংঘের সদস্য যতগুলো দেশ, তার চেয়ে বেশি সদস্য রয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফায়। ফুটবলের আবেদন ও জনপ্রিয়তা বোঝাতে এই একটি তথ্যই যথেষ্ট। আর এই আবেগে জোয়ার তুলতে চার বছর পর আবার আসছে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ‘ফিফা বিশ্বকাপ’। ৮৮ বছরের ইতিহাসে এটা বিশ্বকাপের ২১তম আয়োজন, এবছরের ১৪ জুন যা শুরু হচ্ছে রাশিয়ায়। মঙ্গলবার, ৬ মার্চ শুরু হয়ে গেছে এই ফুটবল জ্বরে ভোগার ১০০ দিন গণনা। পাঠক চলুন এই উন্মাদনায় জেনে নেই কোন দল বিশ্বকাপে একাধিক ফাইনাল খেলেও জেতেনি ট্রফি-

নেদারল্যান্ডস। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল খেলুড়ে দেশের একটি। বিশ্বমঞ্চে ‘টোটাল ফুটবল’ জনপ্রিয় করেছে এ দলটিই। ইয়োহান ক্রুইফের মত কিংবদন্তি প্রতিনিধিত্ব করেছেন দেশটির। তারপরও একটি কষ্টের রেকর্ডের মালিকই তারা। তিনবার ফাইনাল খেলেও তারা বিশ্বকাপ জিততে পারেনি একবারও। ফলে সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার অনাকাঙ্খিত রেকর্ডে লেখা হয়ে গেছে তাদের নাম।

নেদারল্যান্ডস :

নেদারল্যান্ডস ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। ইউরোপে অনুষ্ঠিত এরপরের দুই বিশ্বকাপে (১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে) খেলেছিল। এরপর ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয় ডাচরা। পশ্চিম জার্মানিতে বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ আসরে দলটি বাজিমাত করে ‘টোটাল ফুটবল’ দিয়ে। কোচ মিশেল রাইনাসের পরিকল্পনা এবং অধিনায়ক ক্রুইফের নেতৃত্বে অনিন্দ্যসুন্দর ফুটবল খেলে তারা উঠে যায় ফাইনালে। সেখানে নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হয় স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানির। ম্যাচে জার্মানরা বলে পা ঠেকানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে যায় ডাচরা। পরে অবশ্য জার্মানি দুইটি গোল করে এবং ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয়। নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে পশ্চিম জার্মানি। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে এসে দ্বিতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ডাচদের।

পরের অর্থাৎ ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজিত হয় আর্জেন্টিনায়। টানা দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে ওঠে নেদারল্যান্ডস। অপর ফাইনালিস্ট দল ছিল স্বাগতিকরাই। ফাইনালে প্রথমে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে সমতায় ফেরে নেদারল্যান্ডস। অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতে নেয় আর্জেন্টাইনরা। এটা ছিল দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ জয়। এবং ডাচদের টানা দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে পরাজয়।

এরপর অনেকটা সময়ই কেটে গেছে। কমলা রঙের জার্সির অধিকারীদের আবার ফাইনালে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩২ বছর। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল এবং সেমি ফাইনালে উরুগুয়েকে হারিয়ে কাঙ্খিত ফাইনালে উঠেছিল নেদারল্যান্ডস। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল প্রথমবারের মত ফাইনাল খেলতে আসা স্পেন। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচটি। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে প্রথমাবারের মত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে নেয় স্পেন। ডাচরা ভাঙা হৃদয় নিয়ে তৃতীয়বারের মত দ্বিতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে।

ব্রাজিলে আয়োজিত ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও দারুণ খেলেছিল দলটি। প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০১০ সালের ফাইনালের প্রতিশোধ যেন নিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটে সেমি ফাইনালেও উঠে গিয়েছিল ডাচরা। তবে পেনাল্টি শুট আউটে ৪-২ গোলের হার, সেমি ফাইনাল থেকেই বিদায়। তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে অবশ্য ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। আর এতে করেই বিশ্বকাপ না জিতে সবচেয়ে বেশিবার শীর্ষ তিনে থাকার রেকর্ড গড়ে ডাচরা। আর ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বই উতরাতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। সহসাই যে তাদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা পূরণ হচ্ছে না তা নিশ্চিত।

এসএম/ক্যাট