আশীফ এন্তাজ রবির ‘চন্দ্রমুখী ও ভালোবাসা’

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

আশীফ এন্তাজ রবির ‘চন্দ্রমুখী ও ভালোবাসা’

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
আশীফ এন্তাজ রবির ‘চন্দ্রমুখী ও ভালোবাসা’

পরিবর্তন ডটকম: কেমন আছেন?

আশীফ এন্তাজ রবি: খুব ভালো আছি।

পরিবর্তন ডটকম: আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তাই আজকের এই সুন্দর দিনটিকেই বেছে নিলাম আপনার সাথে আড্ডা দিতে। আপনাকে শুভেচ্ছা।

আশীফ এন্তাজ রবি: আপনাকেও শুভেচ্ছা।

পরিবর্তন ডটকম: ভালোবাসা দিবস নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

আশীফ এন্তাজ রবি: ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এটা একটা চমৎকার আয়োজন। পৃথিবীতে অজস্র সংকট থাকা সত্ত্বেও মানুষ ভালোবাসা দিবস পালন করছে, ভালোবাসার কথা প্রচার করছে। এর চেয়ে সুন্দর ব্যাপার আর কী হতে পারে?

আর আমাদের জন্য এটি আরও সুখকর। কেননা ভালোবাসা দিবস এবং পহেলা ফাগুন পাশাপাশি পালিত হয়। এটা আমাদের জন্য একটি বাড়তি পাওনা।

পরিবর্তন ডটকম: কিন্তু কোনো কোনো মহল থেকে ভালোবাসা দিবস নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। বলা হয়, এটি ভিনদেশি সংস্কৃতি।

আশীফ এন্তাজ রবি:  যেকোনো কিছুর মধ্যে একটা প্যাঁচ আবিষ্কার করা আমাদের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। ভালোবাসা কোন দুঃখে বিদেশি সংস্কৃতি হতে যাবে? আমাদের সংস্কৃতি কি ভালোবাসা বিরোধী। তাহলে কেন এসব অহেতুক বিতর্ক।

আমি মনে করি, যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতে আরও বেশি করে ভালোবাসার চর্চা করা দরকার। সারা পৃথিবীতে ঘৃণাবাদ ক্রমশ ছড়িয়ে যাচ্ছে।  ফেসবুক খুললে মনে হয়, একটা ঘৃণার রাজ্যে ঢুকে পড়েছি। মানুষের জীবনে ভালোবাসার চেয়ে পবিত্র আর কিছু আছে কি?

এই যে মানুষের অভ্যুদয়, জীবের বিকাশ, এর মূলে রয়েছে ভালোবাসা। প্রকৃতির মধ্যে প্রেম, কাম, ভালোবাসা না থাকলে তো গোটা প্রকৃতিই একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। 

ভালোবাসা বলতে আমি কেবল নর-নারীর প্রেমই বুঝি না। এটা বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা হতে পারে, সন্তানের প্রতি হতে পারে, আর্তের প্রতি হতে পারে। ভালোবাসা কোনো পাপ নয়, এই ধারণা আমাদের সবার মাথায় ঢোকা উচিত। আমরা যদি সত্যিই ভালোবাসতে পারি, পুরো পৃথিবী স্বর্গে পরিণত হতে পারে।

যার ভালোবাসার ক্ষমতা যত বেশি, সে তত বেশি মানবিক মানুষ। আমাদের মানবিক মানুষের দরকার আছে। সমাজ থেকে হানাহানি দূর করতে হলে, ভালোবাসা দিবস আরও জোরেশোরে পালন করা উচিত।

পরিবর্তন ডটকম: এবারের গ্রন্থমেলায় আমরা আপনার আরেকটি উপন্যাস পেয়েছি, সেটি নিয়ে কথা বলতে চাই, চন্দ্রমুখী উপন্যাসটা কী নিয়ে?

আশীফ এন্তাজ রবি: এটা একটা নিখাদ প্রেমের উপন্যাস। দুষ্টু প্রেমের মিষ্টি কাহিনী টাইপের কিছু একটা।

পরিবর্তন ডটকম: কথাটি কি ভেবে বলছেন? কোনো কোনো পাঠক বলছেন, এ উপন্যাসটি  রাজনৈতিক? 

আশীফ এন্তাজ রবি: একদম বাজে কথা। যারা এটাকে রাজনৈতিক উপন্যাস বলছেন, তারা যেমন রাজনীতি বোঝেন না, প্রেমও বোঝেন না।  দুটোই অবশ্য খুব কঠিন সাবজেক্ট। পাঠকদের দোষ দিয়ে লাভ কী। আমি নিজেই বিভ্রান্ত। 

পরিবর্তন ডটকম: এই বই পড়ে পাঠকদের প্রতিক্রিয়া আপনি কেমন পাচ্ছেন?

আশীফ এন্তাজ রবি: খুবই খারাপ প্রতিক্রিয়া। যারা প্রেম খুঁজছেন, তারা বই পড়ে বলছেন, এই বইয়ে প্রেম কই? আবার যারা রাজনীতি খুঁজছেন, তারাও বলছেন, এই বইয়ে রাজনীতি তো নেই! দুপক্ষই অসম্ভব বিরক্ত। একটা বই লিখে দুপক্ষকে খেপিয়ে তোলা চাট্টিখানি কথা না। চন্দ্রমুখী  সেই কাজটা পেরেছে। আমি অসম্ভব আনন্দিত।

পরিবর্তন ডটকম: পাঠক ক্ষেপে গেছে! তার মানে লেখক হিসেবে আপনি কী ব্যর্থ?

আশীফ এন্তাজ রবি: হ্যাঁ শতভাগ ব্যর্থ। কী রকম ব্যর্থ একটু বলি। চন্দ্রমুখী উপন্যাস আমার জীবন বদলে দিচ্ছে।  ছোটখাটো বদল না, বিশাল পরিবর্তন। এ বইটিকে পাঠকরা যেভাবে গ্রহণ করেছেন, আমি যেসব প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি, সেটা অভাবনীয়। মানুষ কাঁদছে, মানুষ হাসছে, মানুষ কনফিউজড হচ্ছে। এই গল্পটি মানুষকে এত বেশি আকৃষ্ট করবে, এটার জন্য আমি সত্যিই প্রস্তুত ছিলাম না। জীবনের একদম মাঝপথে এসে আমি বুঝতে পারছি, আমার কী করা উচিত। এতদিন যা করেছি- সবই ভুল। আমার কাজ গল্প বলা। আমি চাকরি বাকরি সব ছেড়ে গল্পই শোনাবো বলে স্থির করেছি। সব ছেড়ে আমি সেটার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। নিশ্চিত জীবন ছেড়ে গল্পের ফেরিওয়ালা হতে চাইছি। পারিবারিকভাবে প্রবল চাপের মধ্যে আছি। জানি না, এই অনিশ্চিত যাত্রা কেমন হবে। দেখা যাক।

পরিবর্তন ডটকম: কাগজের নৌকার পাঠকপ্রিয়তার পরও আপনি দীর্ঘ চার বছর কিছুই লেখেননি? কেন?

আশীফ এন্তাজ রবি:  কারণ আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এই শোকে আমার লেখা বন্ধ হয়ে গেল। এরপর অবশ্য আরও তিনটি প্রেম করেছি। এবং তিনটি প্রেমই মর্মান্তিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। প্রেম রাজনীতির মতোই জটিল। রক্তক্ষরণ ছাড়া আর কিছুই দেয় না। একটি হৃদয়ে, আরেকটি শরীরে।

পরিবর্তন ডটকম: চন্দ্রমুখী কি তাহলে সেই রক্তক্ষরণের গল্প?

আশীফ এন্তাজ রবি: নো কমেন্টস। অন্য প্রশ্ন করুন

পরিবর্তন ডটকম: গ্রন্থমেলা নিয়ে আপনার মতামত চাই, প্রবাসে থেকে কী গ্রন্থমেলা মিস করেন?

আশীফ এন্তাজ রবি: অবশ্যই করি। আমি দুনিয়ার কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থমেলায় গিয়েছি। কিন্তু একুশে গ্রন্থমেলার মতো, এত অসাধারণ আয়োজন পৃথিবীর অন্য কোথাও আছে কি না, আমার জানা নেই। কয়েক বছর আগের কথা। একটি স্কুলের মেয়ে আমার স্টলের সামনে এসে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে। একের পর এক বই নেড়ে চেড়ে দেখছে, তার চোখে জল। মেয়েটির সাথে কথা বললাম। সে আমাকে একটা বিস্ময়কর তথ্য দিলো। তার বাসা উত্তরা। সিএনজিতে করে এসেছে। এই করতে গিয়ে তার টাকা শেষ হয়ে গেছে। বই কিনলে সে আর বাড়ি ফিরতে পারবে না। পৃথিবীর অন্য কোথাও কি এই কাণ্ড ঘটবে? দশটা সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় যা করতে পারেনি, এই একুশের গ্রন্থমেলা একাই সেটা করতে পারবে। পুরো দেশ আলোয় ভরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা এই মেলার আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বলয়ও এটি। আফসোসের বিষয় হচ্ছে, আমাদের বেশিরভাগ প্রকাশক এখনো এই মেলার গুরুত্ব বুঝে উঠতে পারেননি। তারা যদি একটু বুঝতেন, তাহলে এই একটি মেলা দিয়ে পুরো দেশ বদলে দিতে পারতেন। একটা উদাহরণ দেই। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেও দেখবেন, অনেক স্টল এখনো তৈরিই হয়নি। তারা ধীরে সুস্থে মেরামতির কাজ চালাচ্ছেন। বছরে মাত্র একটি মেলা হয়। সেই একটি মেলায়ও তারা সময়মতো স্টল শুরু করতে পারেন না, বই আনতে দেরি করেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আলোর খনি পড়েছে একদল অপেশাদার মানুষের হাতে। পৃথিবীতে হীরার খনি থাকে, সোনার খনি থাকে। বাংলাদেশ কত ভাগ্যবান, আমাদের আলোর খনি ছিলো। এটা আমরা কাজে লাগাতে পারলাম না। 

পরিবর্তন ডটকম: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নিশ্চই আবারো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আড্ডা হবে।

আশীফ এন্তাজ রবি: ধন্যবাদ আপনাকেও।

/এএল/

 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



আলোচিত সংবাদ