সংস্কৃতি কর্মীরা আজ উল্টো রথের আরোহী কেন?

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

সংস্কৃতি কর্মীরা আজ উল্টো রথের আরোহী কেন?

মোহাম্মদ আলী ৫:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

সংস্কৃতি কর্মীরা আজ উল্টো রথের আরোহী কেন?

বাংলাদেশে গত  সংসদ নির্বাচনে বৃহৎ তিনটি দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি বিশেষ করে সরকারী দল আওয়ামী লীগ থেকে প্রায় ডজন খানেক অভিনয় ও কন্ঠশিল্পী মনোনয়ন প্রার্থী হয়েছিলেন বলে পত্র পত্রিকাগুলো সরগরম হয়ে উঠেছিল। দুই বাংলাতেই প্রায় একই চিত্র--- প্রবণতাটা এ রকম যে, অভিনেতা তো হলাম, গায়ক-গায়িকাও হলাম, খ্যাতিও তো এল কিন্তু চাহিবা মাত্রই শান শওকত, হুকুম - বরদার, রকমারি ফল মুল ও চর্ব্য চর্ষ্য ভর্তি অগুনতি ব্যঞ্জন সংগে লাল পাসপোর্ট এর উড়ন্ত চাদর --সকালে উত্তর মেরু তো বিকেলেই দক্ষিণ মেরু ভ্রমণ, দেশে বিদেশে কোন ব্যাংকে কত ব্যালেন্স তা নিজেরও অজ্ঞাত এমন একটি ম্যাজিক ল্যাম্প এখন আমার চাই!

কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর সংস্কৃতির সংজ্ঞায় লিখেছিলেন: খাঁটি  হীরক খণ্ডের শরীরটি হলো শিক্ষা এবং তার থেকে যে আলো রাশিটি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে সেটাই হলো সংস্কৃতি।

সংস্কৃতি জীবনবোধের নান্দনিক প্রকাশ--একটি মহৎ শিল্পকলা। এ চর্চায় যারা নিবেদিত committed তারা সকলের চোখে নন্দিত, বিশিষ্ট তথা প্রাগ্রসর শ্রেণিভুক্ত।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মানব সেবায় রাজনীতির চাইতে সংস্কৃতির ক্ষেত্র অধিক বিস্তৃত ও সার্বজনীন। রাজনীতি সেখানে সমুদ্রের সাথে জলাশয়ের সমীকরণ তুল্য।

আমার শংকা, এভাবে চলতে থাকলে রাজনীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে একদিন একটা সাংঘর্ষিক মেরুকরণ (contradictory polarization) প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেতে পারে, যা সভ্যতার জন্য মোটেই সুখকর হবেনা আর তার দায়ভার বর্তাবে সংস্কৃতি কর্মীদের উপরই।

লেখক, সমাজ ও সংস্কৃতি কর্মী

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 

মুক্তকথা: আরও পড়ুন

আরও