কী হবে এই জাতির?

ঢাকা, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯ | ২৪ কার্তিক ১৪২৬

কী হবে এই জাতির?

শ‌ওকত মঞ্জুর শান্ত ১২:৪০ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

কী হবে এই জাতির?

এক অজানা গোলকধাঁধায় এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। এমন স্ববিরোধী আর আত্মহনন চর্চায় লিপ্ত জাতি পৃথিবীতে আমাদের মতো আর নেই।

খাবারের দোকানে যাবেন? ভেজাল, পঁচা, বাসি খাবার!

ফলের দোকানে যাবেন? বিষাক্ত কেমিক্যাল!

মাছ মুরগী কিনবেন? ট্যানারির বিষাক্ত উচ্ছিষ্ট খাওয়ানো পণ্য!

পানি কিনে খাবেন? মানহীন, জীবাণু যুক্ত!

শিশু খাদ্য কিনবেন? ভেজাল, বিপদজনক উপাদান!

ঔষধ কিনবেন? ডুপলিকেট, ভেজাল, অনুমোদনহীন!

বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাবেন? ঘুষ, টাকার খেলা!

লেখাপড়া করিয়ে সুশিক্ষিত করবেন? নকল, প্রাইভেট, ঘুষ!

মেধাবী? I am GPA 5!

বন্ধুদের সাথে মিশতে দিবেন? মাদক, চুরি, ছিনতাই!

চাকুরি করবেন? ঘুষ, লবিং, অযোগ্যদের সিন্ডিকেট!

ব্যবসা করবেন? চাঁদাবাজি, হয়রানি!

গাড়ি চালাবেন? নিরাপত্তাহীনতা, খুন, মলম পার্টি!

জমি কিনবেন? ভেজাল দলিল, হয়রানি, চাঁদাবাজি!

সমাজসেবা করবেন? ধান্দাবাজদের খপ্পর!

চিকিৎসা নিবেন? ভুয়া ডাক্তার, হাসপাতালের গোলকধাঁধা!

রোগ নির্ণয়ের জন্য টেস্ট করাবেন? ভুয়া ডায়গনস্টিক সেন্টার!

মামলা করবেন? ভুয়া উকিল, টাকার খেলা, ধান্দাবাজি!

বাসা, অফিসে অবস্থান করবেন? ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বিল্ডিং কোড নাই!

ইন্টারনেটে সংবাদ পড়বেন? মিথ্যা ভুয়া নিউজ!

পরিবহন এ যাতায়াত করবেন? অনভিজ্ঞ চালক, গাড়ির ফিটনেস নাই!

প্রসাধনী কিনবেন? নকল, বিষাক্ত উপাদান!

চিনি লবন কিনবেন? নকল বিষাক্ত!

শেষ হবে না এই তালিকা........

একটাবার কি ভাবছি ৫০টা বছর পরে আমাদের দেশটার কী হবে?

দেশের জনসংখ্যার বড় একটা অংশ অসুস্থ থাকবে।

তাদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো আসল চিকিৎসক থাকবে না।

সৎ পথে থাকা মানুষরা আত্মহত্যা করবে।

সব বড় বড় দায়িত্ব পালন করবে অযোগ্যরা।

কাজেই প্রতি পদে পদে ভুল, হয়রানি, ধ্বংস।

কোথাও কেউ থাকবে না সঠিক পথ দেখানোর।

চোরের রাজ্যের রাজা হবে ডাকাত।

কী হবে এই জাতির?

আমার সন্তান বড় হচ্ছে, আর আমি ভয়ে চুপসে যাই। খুব ভালো করেই জানি আমি নিজে হাতে ওকে এই গোলকধাঁধার লাইনে দাঁড় করিয়ে দিবো। অন্তঃসার শূন্য হয়ে বড় হবে একটি প্রজন্ম। ফার্মের মুরগীর মতো নাদুসনুদুস, কিন্তু ভেতরটা পঁচা, বিষাক্ত। খাঁচার বাইরে বের করে দিলেও এরা পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। এরা তো কিছু ভাবতেই পারবে না, মাথায় তো ঘিলুর পরিবর্তে থাকবে বিষাক্ত কেমিক্যালের বিষক্রিয়া!

দেখবেন তখন এমন একটা সমাজ সৃষ্টি হবে যে আমরা একটুতেই হেরে যেতে শিখবো। আত্মহত্যা বাড়বে, অপরাধ বাড়বে, মূল্যবোধ হারিয়ে যাবে। গোটা জাতি থাকবে নেশাগ্রস্ত। প্রতিবাদ তো দূরের কথা, ভাবার মতো মানসিকতাই থাকবে না।

সত্যি আমি ভবিষ্যত দেখতে পারছি। এটাই হবে একদিন।

যদি নাই হতো, তাহলে এত অন্যায় দেখেও না দেখার ভান করতে পারতাম না আমরা। ভেজাল খাদ্যের জন্য জরিমানার সংবাদ শুনেই চুপ থাকতাম না আমরা। সকল মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে দেখেও ‘আমার তো ক্ষতি হচ্ছে না’ বলে সান্ত্বনা খুঁজতাম না।

আসুন আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি কিভাবে আমাদের আগামী প্রজন্ম ধুঁকে ধুঁকে নিঃশেষ হয়। তখন আমাদের সন্তানেরা হয়তো আমাদের গালি দিবে এই অচলাবস্থা থামাতে কিছু না করার জন্য। কিন্তু ‘আমার তো এখন কোন ক্ষতি হচ্ছে না’ এটা ভেবে চলুন স্বান্ত্বনা খুঁজে নেই।

আর না হলে চলুন পালিয়ে যাই। পরাজিত সৈনদের মতো। গোটা জাতি হেরে গেছে, আমি তো বেঁচে আছি!

লেখক: সাংবাদিক, যমুনা টেলিভিশন

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 

বাবা মা তোমাদের অনেক ভালোবাসি: আরও পড়ুন

আরও