মায়ের ভালোবাসা

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

মায়ের ভালোবাসা

রবিউল ইসলাম জীবন ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

print
মায়ের ভালোবাসা

প্রতিদিনের মতো অফিস শেষ করে হাঁটতে হাঁটতে বাসায় ফিরছে সবুজ। রাস্তা দিয়ে চলার সময় ডানে বামে না তাকিয়ে একমনে চলছে সে।

হঠাৎ রাস্তার পাশের চায়ের দোকান থেকে কেউ একজন সবুজ বলে সজোরে ডাক দিয়ে উঠলো। সবুজ ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেলো এক পরিচিত বড় ভাই। আস্তে আস্তে করে সেই বড় ভাইয়ের দিকে এগিয়ে গেলো সে।

কাছে যেতেই সেই বড় ভাই বললেন, সেই সকাল থেকে একজন ভদ্র মহিলা তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন। তোমাকে অনেকবার কল করার চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু তোমার নাম্বার টা বন্ধ। তাড়াতাড়ি বাসায় যাও, ভদ্র মহিলা না খেয়ে বসে আছেন। অনেক বার তাকে খাওয়ার জন্য বললাম কিন্তু উনি কিছুই খেলেন না। শুধু তোমার কথা বলছেন। আমারো ভুল হয়েছে তোমাকে অফিসে গিয়ে না বলা।

বড় ভাইয়েরর কথা শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়ে উঠলো সবুজ। কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা বাসার দিকে ছুটলো সে।

বাসায় প্রবেশ করা মাত্রই ভদ্র মহিলা সবুজকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। ভদ্র মহিলার কান্না দেখে সবুজও নিজেকে আটকিয়ে রাখতে পারলো না। পা দুটো জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো।

সবুজকে বুকে জড়িয়ে ধরে ভদ্র মহিলার কি আর্তনাদ, বাবা বাবা বলে চোখে মুখে চুমু দিতে লাগলেন।

সবুজ আর ভদ্র মহিলার কান্না দেখে সেখানে উপস্থিত সবার চোখে জল চলে আসে। কারণ এ এক ভালোবাসার কান্না ছিলো, এক দুখিনী মায়ের সন্তানকে কাছে পাওয়ার কান্না।

প্রায় ৪ বছর আগে কোনো এক কারণে অভিমান করে বাসা থেকে বের হয় সবুজ। এই ৪ বছরের মধ্য কারোর সাথে কোনো রকম যোগাযোগ ছিলো না তার। নিজের কষ্ট আর অভিমান নিয়ে সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে একা বসবাস করে আসছিলো সে।

মা তো তিনি, সন্তান না হয় উনাকে মনে করেন না কিন্তু মা তো সন্তানকে কখনো ভুলতে পারেন না। সন্তান যতোই খারাপ হোক না কেন মায়ের কাছে সব সন্তান ভালো।

সবুজের জন্য দিনের পর দিন তিনি চোখের জল ফেলেছেন। সন্তানের কথা ভেবে অনেকদিন তিনি না খেয়ে পার করেছেন। অনেক জায়গায় খোঁজা-খোঁজির পর তিনি কোনো একজনের মাধ্যমে সবুজের সন্ধান পেয়েছেন। সন্ধান পেয়ে কোনো কিছু না ভেবেই ছুটে চলে এসেছেন চারশত কিলোমিটার পথ।

একবারও ভাবেননি অচেনা অজানা জায়গায় কোথায়, কেমন করে তাকে পাবে। নিজ হাতে ছেলের জন্য রান্না করে নিয়ে এসেছেন পছন্দের সব খাবার। ছেলেকে খাওয়াবেন বলে।

সবুজ নিজের ভুল বুঝতে পেরে মায়ের পা ধরে সে-ই কি কান্না। আর মা ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কি আদর। অনেক দিনের জমানো সব দুঃখ ব্যথা নিমিষেই জলে পরিণত হলো। কারণ এ যে রক্তের টান, নাড়ির টান। দশমাস দশদিন গর্ভের থাকার টান, সে এক মায়ার বাঁধন। মা ও সন্তানের মাঝে যতোই দূরত্ব তৈরি হোক না কেন সন্তান একবার মা বলে ডাকলে মা ছুটে আসবেন। মা সন্তানের মাঝে সম্পর্ক যতই খারাপ হোক না কেন সন্তান একদিন নিজের ভুল বুঝতে পেরে একটু শান্তির জন্য মায়ের কাছে ফেরেন, ফিরবেনই।

লেখক : রবিউল ইসলাম জীবন

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



আলোচিত সংবাদ