করটিয়া জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল

ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫

করটিয়া জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭

করটিয়া জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল

বাংলাদেশে যে কয়টি জমিদারবাড়ি সমৃদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, করটিয়া জমিদারবাড়ি তার মধ্যে অন্যতম। ইতিহাস আর ঐতিহ্যে করটিয়া জমিদারবাড়ি আলাদা স্থান করে নিয়েছে। টাঙ্গাইল শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে পুটিয়ার তীর ঘেঁষে আতিয়ারচাঁদ খ্যাত জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর জমিদারবাড়ি। প্রাকৃতিক এবং নিরিবিলি পরিবেশের এই জমিদারবাড়িটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ০.৫ কিলোমিটার প্রস্থবিশিষ্ট প্রাচীরঘেরা।

যেখানে রয়েছে লোহার ঘর, রোকেয়া মহল, রানীর পুকুরঘাট, ছোট তরফ দাউদ মহল এবং বাড়িসংলগ্ন মোগল স্থাপত্যের আদলে গড়া মসজিদ একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য। মোগল ও চৈনিক স্থাপত্যের মিশেলে নির্মিত জমিদারবাড়িটি প্রথম দর্শনেই তোমার মন কেড়ে নেবে। সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত মোগল স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শন রোকেয়া মহল; যা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মর্যাদা পাওয়ার দাবি রাখে। অথচ এটি কলেজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে! 

করটিয়া জমিদারবাড়ির দক্ষিণে অবস্থিত এই মসজিদটি প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো মসজিদ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন সময়ে সম্প্রসারিত এই মসজিদটি তিনটি অংশে বিভক্ত। ১৮৭১ সালে হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদের সামনে রয়েছে ত্রিকোণবিশিষ্ট মিনার। মিনারের দুই পাশে সিঁড়ি। মসজিদের মূল অংশে পাঁচটি দরজা। দ্বিতীয় অংশে উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে দরজা এবং তৃতীয় অংশের পূর্ব দিকে রয়েছে পাঁচটি দরজা। ভেতরে প্রাচীন আমলের তিনটি ঝুলন্ত ঝাড় এবং একটি সিন্দুক রয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, পন্নী পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় থেকে। ওয়াজেদ আলী খানের দৌহিত্র খুররম খান পন্নী পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের চিফ হুইপ এবং একজন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। অপর দৌহিত্র হুমায়ন খান পন্নী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। খুররম খান পন্নীর পুত্র ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (দ্বিতীয়) বাংলাদেশ সরকারের উপমন্ত্রী ছিলেন। 

কীভাবে যাবে:

ঢাকার মহাখালী থেকে বেশ কয়েকটি পরিবহনের বাস টাঙ্গাইলের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সেগুলোতে চড়ে  করটিয়া বাইপাসের কাছে নেমে গিয়ে একটি রিকশা নিয়ে চলে যেতে পারেন করটিয়া মিদারবাড়ি।  

ছবি : বুরহানুর রহমান   

ইসি/এলআর/