চিনি মসজিদ

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

চিনি মসজিদ

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৬

চিনি মসজিদ

দূর থেকে মসজিদের দেয়াল দেখতে চিনির দানা দিয়ে তৈরি মনে হয়। তাই এ মসজিদের নাম চিনি মসজিদ। অনেকে চিনা মসজিদও বলেন। পুরো মসজিদের দেওয়াল ভাঙা চিনা মাটির কারুকাজ খচিত বলে এ নামকরণ। মসজিদের বাইরে কিন্তু ফার্সি বা উর্দুতে লেখা ‘চিনি মসজিদ’। চিনা মসজিদ নয় (আরবিতে چ অক্ষর নেই, চিনি মসজিদের আশেপাশে প্রচুর বিহারী থাকায় এটা উর্দুতে হতে পারে। আবার একদম কাছেই প্রাচীন একটি ইমামবারা থাকায় ফার্সি হওয়ার সম্ভাবনাও কম নয়। অক্ষর শৈলী আরবী বর্ণ শৈলীর মত)।

কথিত আছে হাজী বাকের এবং হাজী মুকু ১৮৬৩ সালে প্রথম এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বাকিটা এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মূলত: মুষ্টির চাল সংগ্রহের মাধ্যমে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। জনশ্রুতি আছে মসজিদের উন্নয়নের স্বার্থে সে সময় এলাকাবাসী স্বেচ্ছায় তাদের ১ মাসের পুরো বেতন/উপার্জন দান করেছিলেন। মসজিদের স্থপতি হিসেবে মো. মখতুল এবং নবী বক্স নামে দুইজন স্থপতির নাম শোনা যায়। আরো শোনা যায় মসজিদের প্রাচীন ভবন শঙ্কু নামের এক হিন্দু নির্মাণ শ্রমিক দৈনিক ১০ আনা মজুরিতে দারুন দক্ষতা ও আন্তরিকতায় নির্মাণ করেছিলেন।


মসজিদের ফ্লোর মূলত: মার্বেল দিয়ে মোড়ানো। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে মার্বেল লাগান হয়েছে। আগে ফ্লোর মোজাইকের ছিল। এখনও প্রাচীন অংশের বারান্দার খিলানের ৮টি কলামে মোজাইকের চমৎকার ফিনিশিং লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে নির্মিত অংশের বারান্দার ফ্লোর সাদা সিমেন্ট দিয়ে নেটফিনিশ করা।

মসজিদটি দুই ধাপে বর্ধিত হয়েছে, তাই মসজিদের ভেতরে ও পাশাপাশি তিনটি 

ঘর মাঝের দুইটি খিলান দিয়ে সংযুক্ত হয়েছে। প্রথমবারের বর্ধিতাংশ পাকিস্তান আমলে নির্মিত হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় বারের বর্ধিতাংশ সাম্প্রতিক। আদি মসজিদ ও বর্ধিত অংশকে অতি সচেতনভাবে একইরূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও একটু খেয়াল করলেই স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। আদি পুরো অংশই একটু লালচে আভা আছে (প্রাচীনত্বের কারণেও লালচে ভাব হতে পারে)। আদি ও প্রথম বর্ধিতাংশ চুন সুরকী দিয়ে নির্মিত।

নির্মাণে মুঘল স্থাপত্য শৈলী অনুসরণ করা হয়েছে। মসজিদটি দ্বিতল। প্রবেশ পথের উপরে আজান দেবার জন্য মিম্বার আছে, চিকন সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়। একসময় মুয়াজ্জিন সুউচ্চ স্বরে এখান থেকে আজান দিলেও এখন মিম্বারটি  শুধুই শোভা বর্ধন করে। এখন মসজিদটিতে তৃতীয় ধাপের বর্ধিত করার কাজ চলছে। 



সৈয়দপুর উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও জেলা শহর নীলফামারীর চেয়ে জমজমাট। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা (১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম এই রেলওয়ে কারখানাকে কেন্দ্র করেই মূলত সৈয়দপুর শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল)। উত্তরবঙ্গের প্রথম অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর, উত্তরাঞ্চলের সর্বপ্রথম ও প্রাচীনতম গির্জা, সৈয়দপুর রেলওয়ে ক্যাথলিক গির্জা (১৮৮৬), টেলিগ্রাম ভবন (১৯০৩) এবং একদম পাশেই উত্তরা ইপিজেড (নীলফামারী আর সৈয়দপুরের মাঝামাঝি) সৈয়দপুরকে করেছে অনন্য। ঘুরতে যাওয়ার জন্য ভালোই। 

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে ইসলামবাগ এলাকায় চিনি মসজিদ অবস্থিত। মসজিদের পিছনে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রাচীন কবরস্থান আছে। 

তথ্য ও ছবি: বুরহানুর রহমান 

এআর/ডব্লিউএন