তাজহাট রাজবাড়ি, রংপুর

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

তাজহাট রাজবাড়ি, রংপুর

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬

তাজহাট রাজবাড়ি, রংপুর

ইতিহাস : প্রায় ১০ বছর ধরে মহারাজা কুমার গোপাল লাল রায় তাজহাট রাজবাড়ি নির্মাণ করেন (১৯০৮ থেকে ১৯১৭)। পেশায় স্বর্ণকার এ মহারাজার নামে জনশ্রুতি আছে তিনি খুব সুন্দর 'তাজ' বা ‘মুকুট’ নির্মাণ করতে পারতেন ও মুকুটের জন্য অলংকার আমদানি করতেন। তার তৈরি করা আমদানিকৃত মুকুটই ভারতবর্ষের অধিকাংশ রাজা-মহারাজা এবং রানীদের মাথার সোভাবর্ধন করত। তার বানানো তাজের এত সুখ্যাতি ছিল যে তার বসবাস এলাকা তাজহাট নামে পরিচিতি লাভ করে।

২১০ ফুট প্রসস্ত দ্বিতল তাজহাট প্রাসাদটি প্রায় ৪ তলার সমান উঁচু। স্থাপত্যশৈলী মুঘল স্থাপত্য রীতি দ্বারা অনুপ্রাণিত। সামনের দিকে মার্বেল পাথরে মোড়ানো ৩১টি সিঁড়ি এ রাজবাড়ির প্রধান বৈশিষ্ট; এমন মার্বেলে মোড়ানো অভিজাত সিঁড়ি দেশে আর নেই। রাজবাড়ির পেছন দিকে গুপ্ত সিঁড়ির জনশ্রুতি শোনা যায়; যা সুড়ঙ্গের সাথে যুক্ত হয়ে সরাসরি ঘাঘট নদী পর্যন্ত গেছে। প্রাসাদ চত্বরের বিশালাকায় বাগানের দারুণ রাজকীয়তা আছে। ১৯৪৭ সালে তাজহাট প্রাসাদ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। 

ভবনের অন্যান্য তথ্য : নির্মাতাদের এ বিশাল ও নান্দনিক প্রাসাদে অবস্থান কাল মাত্র ৩০ বছর। পরবর্তীতে ৫৫ একর জমিসহ পরিত্যক্ত ভবনটিতে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকার এ ভবনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের রংপুর বেঞ্চ স্থাপন করে। ১৯৯২ সালে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রত্যাহারের পর ১৯৯৫ সালে ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৫ সালে রংপুর জাদুঘর তাজহাট জমিদার বাড়ির ২য় তালায় স্থানান্তরিত হয়। ছোট্ট এ জাদুঘরে কিছু প্রাচীন টেরাকোটা (দশম ও একাদশ শতাব্দীর), বিষ্ণুমূর্তি, শিবলিঙ্গ, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ের কুরআনসহ মহাভারত ও রামায়ণ, সংস্কৃত এবং আরবি ভাষায় লেখা কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, প্রাচীন মুদ্রাসহ প্রায় ৫০টি প্রত্নসম্পদ রয়েছে। 

কীভাবে যাবেন :  যাওয়া খুব সহজ। ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে রংপুরের বাসে উঠে রংপুর শহরে নামুন। যেকোনো রিক্সা চালক বা ইজি বাইক (ব্যাটারি) চালককে তাজহাট রাজবাড়ি, বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে। 

প্রবেশ ফি : বাংলাদেশি হলে ১০টাকা ও বিদেশি হলে ২০ টাকা। 

তথ্য ও ছবি: বুরহানুর রহমান 

এআর/ডব্লিউএন