ঢাকার মধ্যেই নৌভ্রমণ

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ঢাকার মধ্যেই নৌভ্রমণ

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

ঢাকার মধ্যেই নৌভ্রমণ

আমরা যারা ঢাকায় বসবাস করি তারা ভ্রমণের জন্য যেকোনো ছুটির দিনের জন্য অপেক্ষা করি। কারণ ভ্রমনে যাওয়ার জন্য একটু প্রশান্তির জন্য আমরা কত জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করি। আবার অনেকে সময় পেলেই চলে যান পাহাড়-টিলা ঘেরা পার্বত্য চট্টলায় কিংবা সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে। আবার কেউ ভেসে যেতে চায় কক্সবাজার বা কুয়াকাটায় সমুদ্রতটের ফেনায়িত উচ্ছ্বাসে। তবে আমাদের কর্মমুখর জীবন থেকে নুন্যতম দুই থেকে তিনদিন বের করতে পারলে তবেই সম্ভব এরকম স্থানগুলো থেকে বেরিয়ে আসা। কিন্তু যাদের পক্ষে সে সুযোগ নেই, তাদেরও কি ইচ্ছে করবে না সবুজের মায়ায় জড়িয়ে শীতল পানিতে পা ভিজিয়ে অন্তত একটা দিন নিজের মত করে উপভোগ করতে। এরকম সুযোগ কিন্তু হাতের কাছেই আছে। তেমনই একটি জায়গা নতুন বাজারের পাশেই বেরাইদ থেকে ইছাপুর পর্যন্ত শান্তিময় ভ্রমণ। 

যারা নৌকা ভ্রমণ ভালোবাসেন তারা খুব সহজেই মাত্র একটা দিন কিংবা নিদেনপক্ষে কয়েক ঘণ্টা হাতে নিয়ে ঢাকার কাছেই বালু নদীতে সেরে আসতে পারেন এরকম একটা মনোমুগ্ধকর নৌভ্রমণ।

স্বল্প সময় হলেও দারুণ প্রশান্তিতে মনটা জুড়িয়ে যাবে নিমেষেই। দুপাশের পারের কাশ বাগান আর সবুজ গাছের পাতা ছুঁয়ে আসা ঝিরিঝিরি বাতাসে দুলে উঠবে আপনার তনুমন। ইছাপুরা নেমে গ্রামের পথ ধরে হেঁটে বেড়ান বুকভরা তাজা বাতাস নিয়ে। নদীর পার ধরে কিংবা গ্রামের রাস্তার মেটোপথ ধরে হেঁটে যান বহুদূর। সারাটা দিনই ঘুরে বেড়াতে পারেন। গ্রামের মানুষগুলো বেশ বন্ধুবৎসল। চাইলে তাদের যে কারো সাথে মিশে গল্প-গুজবে সময়টা আনন্দময় করে তুলতে পারেন।

আধো আলোয় দুপাশের বসতির ভূতুরে অবয়ব দেখতে দেখতে আবারো ফিরে যান বেরাইদ ঘাট। তৎপর সিএনজি যোগে নতুন বাজার। সেখান থেকে ভিন্ন যানে সোজা বাসায়।

খিধে লাগলে যেকোনো লোকাল হোঁটেলে ঢুকে পড়ুন। খাবারের মান যদিও তেমন আহামরি নয়, তবে স্বল্প মূল্য ও আন্তরিক পরিবেশনের কারণে সেটাই দারুণ সুখাদ্য হয়ে উঠে। জনপ্রতি মাত্র ১০০/১২০ টাকায় দিব্যি পেট পুড়ে খেতে পারবেন। যদিও ইছাপুরা বাজারে একটা ভালোমানের রেস্তোরা রয়েছে। চাইলে সেখানেও খেতে পারেন। মূল্য ঢাকার যেকোনো ভালো রেস্টুরেন্ট এর কাছাকাছি (জনপ্রতি ২০০/৩০০ টাকা লেগে যেতে পারে। খাবার পর হোঁটেলের কাঠের বেঞ্চিতে গা এলিয়ে রেস্ট নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন ইছাপুরা বাজার ঘুরতে।

এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যে হয়ে গেলে তাজা সবজী, মাছ সেই সঙ্গে ইছাপুরার ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের দ্বারা যত্নে বানানো অতুলনীয় স্বাদের মিষ্টি (কেজি মাত্র ১৪০ টাকা) কিনে নিয়ে ফিরতি যাত্রার বোটে উঠে পড়ুন।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে চলে আসুন গুলশান নতুন বাজার। এর ঠিক উল্টোদিকের সড়ক (মাদানী এভিনিউ, ভাটারা) ধরে কিছুদূর এগোলেই ভাড়ায় চালিত সিএনজি পাবেন। জনপ্রতি ২০টাকায় মিনিট ২০ এর মধ্যেই চলে যান বালু নদীর বেরাইদ ঘাট। রিজার্ভ নিলে খরচ পড়বে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। নিজস্ব গাড়ি থাকলে সোজা চলে যান ঘাটে। ওখানে গাড়ি পার্ক করে রাখতে পারবেন। ঘাট থেকে মিনিট দশে'ক পরপরই ইঞ্জিন বোট ছেড়ে যায় ইছাপুরা বাজার এর উদ্দেশ্যে। ভাড়া পার হেড ২০ টাকা। আনুমানিক মিনিট ২০ এর ভ্রমণ শেষে আপনি পৌঁছে যাবেন ইছাপুরা ঘাট।

আবার আপনি চাইলে উত্তরবাড্ডা থেকে সাতারকুল হয়েও বেরাইদ নৌ ঘাটে যেতে পারেন। এখানে যাওয়ার জন্য রিকশা করেই যেতে পারবেন।

এখানে বলে রাখা ভালো, সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে না আসলে সিএনজি পেতে সমস্যা হতে পারে। কাজেই ফেরার সময়টা ঠিক করার আগে এই বিষয়টা মাথায় রাখবেন। তো আর দেরি কেনো, সামনের যেকোনো ছুটির দিনে বেরিয়ে পড়ুন বেরাইদ টু ইছাপুরা নৌ-ভ্রমণে।

ইসি/

 

ভ্রমণ: আরও পড়ুন

আরও