ফ্লাইট মিস হলে যা করবেন

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ফ্লাইট মিস হলে যা করবেন

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৯

ফ্লাইট মিস হলে যা করবেন

ভ্রমণ হোক বা কোনো কাজের ব্যাস্ততা। আমাদের মাঝে মধ্যেই ফ্লাইটে চড়তে হয়। তবে মাঝে মাঝেই আমাদের যা হয় তা হচ্ছে ফ্লাইট ছাড়ার বাকি আর মাত্র কয়েক মিনিট, অথচ আপনার সামনে নিরাপত্তা চেকিংয়ের দীর্ঘ লাইন। তাও আবার এগুচ্ছে শম্বুক গতিতে। ফ্লাইট মিস করার চিন্তা মাথায় আসতেই যদি মেরুদণ্ড দিয়ে হিমশীতল ঘামের স্রোত টের পান, তাহলে আপনার জন্যই এই লেখাটি।

প্রথমেই জেনে রাখুন বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সেই এমন পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা আছে। তবে মনে রাখবেন, কতো সহজে আপনি পরবর্তী ফ্লাইটে আসন (‘রিবুক’) পাবেন এবং তার জন্য আপনাকে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে কি না, সেটি নির্ভর করবে আপনি বিমানবন্দরে কত দেরিতে পৌঁছেছেন কিংবা আপনার বিলম্বের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন কি না তার ওপর। ফ্লাইট মিস করলে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ জেনে নিন আজ।

. দ্রুত একজন এয়ারলাইন এজেন্টের সঙ্গে কথা বলুন:

যদি বুঝতে পারেন বিমানবন্দরে পৌঁছাতে আপনার দেরি হয়ে যাচ্ছে, তাহলে সেটি দ্রুত ওই এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষকে জানান। তাহলে তারা হয়তো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই আপনার জন্য টিকেট ‘রিবুক’ করে রাখতে পারবে। আর যদি বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়ে থাকেন, তাহলে দেরি না করে কোনো এয়ারলাইন এজেন্টকে বিষয়টি জানান।

যাত্রীদের ফ্লাইট মিস করাকে এয়ারলাইনের ভাষায় বলা হয় ‘ফ্ল্যাট টায়ার’। সাধারণত এসব ফ্ল্যাট টায়ার-সংক্রান্ত ঘটনার ক্ষেত্রে ভূক্তভোগী যাত্রী বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই পরবর্তী ফ্লাইটে আসন পেয়ে যান। তবে তার জন্য আপনাকে ওই মিস করা ফ্লাইট ছাড়ার পরবর্তী দুই ঘন্টা বা তার আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে।

তবে, বেশিরভাগ এয়ারলাইনই এই ‘ফ্ল্যাট টায়ার’ নিয়মটি তাদের ভ্রমণ নির্দেশিকায় লিখিতভাবে উল্লেখ করে না। ব্যবসার খাতিরেই বাড়তি খরচ ছাড়া এমন ফ্লাইট বদলের বিষয়টি তারা বাইরে প্রচার করে না। তাই, ‘ফ্ল্যাট টায়ার’ সুবিধাটি পেতে গেলে আপনাকে একটু কৌশলী হতে হবে। কারণ এসব ক্ষেত্রে আপনার টিকেট রি-বুকিংয়ের বিষয়টি নির্ভর করে নিজের পরিস্থিতি আপনি কতটা ভালোভাবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন এজেন্টকে বোঝাতে পারছেন তার ওপর। কোনো এজেন্ট হয়তো আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হবে, আবার কেউ হয়তো কোনো ছাড়ই দেবে না। তাই ভদ্রভাবে এজেন্টকে আপনার সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলুন। প্রচণ্ড যানজটের কারণে যদি ফ্লাইট মিস করেন, সেটি এজেন্টকে বলুন।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় এয়ারলাইনগুলোতে ফ্ল্যাট টায়ার বিষয়টি যেভাবে দেখে তা হলো—

অ্যামেরিকান এয়ারলাইনস ‘লেট অ্যারাইভাল স্ট্যান্ডবাই’ নিয়ম অনুসরণ করে। এ নিয়ম অনুযায়ী কোনো যাত্রী যদি তার ফ্লাইট মিস করার দুই ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছান, তাহলে তিনি কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই পরবর্তী ফ্লাইটে টিকেট পেয়ে যাবেন।

ডেল্টা এয়ারলাইস এসব ক্ষেত্রে যাত্রীর ফ্লাইট মিস করার কারণ জেনে সে অনুযায়ী গুরুত্ব বুঝে আসন রিবুক করে থাকে।

ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে, সাধারণত কেউ যদি ফ্লাইট মিস করার ৩০ মিনিটের মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারে, তাহলে সে যাত্রীকে পরবর্তী ফ্লাইটে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস আরেকটু কঠোর। ফ্লাইট মিস করার ১০ মিনিটের মধ্যে তাদের জানালে টিকেট রিবুক করে দেয় তারা।

তবে এসব নিয়মের ব্যতিক্রমও ঘটে। আপনি যদি কোনো এয়ারলাইনসের দিনের শেষ ফ্লাইটযাত্রী হন, তাহলে ওই ফ্লাইট মিস করলে তো আর সেদিন আর কিছু করার থাকবে না। তাই পরের দিনের ফ্লাইটে আপনার টিকেট রিবুক করার ব্যবস্থা করবে ওই এয়ারলাইনস। তবে সে ক্ষেত্রে হোটেল বা খাবার খরচ বহন করবে না এয়ারলাইন্স।

মনে রাখবেন ব্যাগ পরীক্ষার জন্য সব এয়ারলাইনসেরই নির্ধারিত একটা সময় থাকে। তাই আপনার সঙ্গে যদি চেক করতে হবে এমন কোনো ব্যাগ থাকে, তাহলে সেটি পরীক্ষা করতেও সময় লাগবে, এ বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

একই দিনের ফ্লাইট বদলে নিতে করণীয়:

যদি ফ্লাইট মিস করেন এবং স্ট্যান্ডবাই সিটের পরিবর্তে আসন পাওয়ার নিশ্চয়তা চান, তাহলে একই দিনে ফ্লাইট বদল করার একটি ব্যবস্থা আছে। প্রত্যেক এয়ারলাইন এ বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। যেমন, আপনি যে ফ্লাইটটি বদলাতে চান সেটি বিমানবন্দর ত্যাগ করার আগেই কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং যে ফ্লাইটে যেতে চান সেটিও একই দিনের হতে হবে। আলাস্কা এয়ারলাইনস এ ক্ষেত্রে বাড়তি ৫০ ডলার চার্জ করে। আর আপনি যদি অ্যামেরিকান ও ইউনাইটেডের যাত্রী হন তাহলে আপনাকে বাড়তি ৭৫ ডলার গুনতে হবে।

আপনার মূল ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত একই দিনে ফ্লাইট বদলাতে পারবেন আপনি। ধরুন আপনি মূল ফ্লাইটের জন্য চেক-ইন করে ফেলেছেন, এমনকি আপনার ব্যাগও চেক করা হয়ে গেছে, সে মুহূর্তে যদি আপনি ফ্লাইট বদলাতে চান কিছু কিছু এয়ারলাইনস আপনাকে সে সুবিধাও দেবে।

কানেকটিং ফ্লাইট মিস করলে বাড়তি খরচ ছাড়াই রিবুক:

দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে অনেক সময় এক বিমানবন্দর থেকে অন্য বিমানবন্দরে নেমে ফ্লাইট বদলাতে হয়। এটাকে ‘কানেকশন’ আর বদলানো ফ্লাইটটিকে ‘কানেক্টিং ফ্লাইট’ বলে।

যদি প্রথম ফ্লাইটটি দেরিতে ছাড়ার কারণে আপনার কানেক্টিং ফ্লাইটটি মিস হয়, তাহলে সাধারণত ওই এয়ারলাইনই আরেকটি ফ্লাইটের আসনের ব্যবস্থা করে দেয়। কোনো কোনো এয়ারলাইন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রি-বুকিং’ করে দেয়। আবার কিছু এয়ারলাইনস তা করে না। এছাড়া আপনার প্রথম ফ্লাইট ও কানেক্টিং ফ্লাইট যদি ভিন্ন এয়ারলাইনসের হয় সে ক্ষেত্রে আপনার টিকেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‌‘রি-বুক’ হবে না। তাই এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে বিমানবন্দরে নেমেই ফ্লাইট মিস করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানান।

মনে রাখবেন, কফির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে যদি কানেকশন মিস করেন, সে দায় কিন্তু এয়ারলাইনস নেবে না।

নতুন আসনের জন্য খরচ গুনতে হবে কি?

এ তো গেল অনিচ্ছাকৃত ঘটনার কারণে ফ্লাইট মিস হওয়ার বিষয়। কিন্তু ধরুন এমন হলো, ঘুম থেকে না উঠতে পারায় ফ্লাইট মিস করলেন, তখন কী করবেন?

দ্রুত ওই এয়ারলাইনে যোগাযোগ করুন, বিনামূল্যে ‘রিবুকিং’ দিতে অনুরোধ করুন। তবে, ধরে রাখুন নতুন টিকেটের জন্য আপনাকে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে ভ্রমণ বিমা আপনার কাজে আসতে পারে। আপনি যদি একজন নিয়মিত আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রী হন এবং বিভিন্ন কারণে একাধিকবার ফ্লাইট মিস করার অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে ভ্রমণ বিমা করিয়ে রাখাই উত্তম। তাহলে আর আপনাকে ফ্লাইট মিস করা নিয়ে চিন্তাই করতে হবে না।

মনে রাখবেন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য বেশ আগেভাগেই বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হয়, এটাই নিয়ম। এর কারণ নিরাপত্তাজনিত বেশ কয়েকটি ধাপ আপনাকে পেরুতে হয়। সেই সঙ্গে থাকে টার্মিনাল খুঁজে পাওয়া এবং লাগেজ চেকিংয়ের ঝক্কি। অনেক সময় বিমান কর্তৃপক্ষ আপনাকে জানিয়ে দেবে তাদের নিয়মানুযায়ী কতক্ষণ আগে আপনাকে পৌঁছাতে হবে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোরও নিজস্ব নীতিমালা থাকে, যার মধ্যে ফ্লাইটের কতক্ষণ আগে পৌঁছাতে হবে সেটা বলা থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো বিমানবন্দরের নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে বিমান ছাড়ার তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। আবার কিছু কিছু বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে টাইম ট্র্যাকার দেওয়া থাকে, নির্দিষ্ট বিমানের যাত্রীদের জন্য। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দর, এখানে টাইম ট্র্যাকার লাগানো আছে যাত্রীদের সেবার জন্য।

আবার বিভিন্ন দেশ বা বিমানবন্দর অনুযায়ী সময়সীমা বেঁধে দেয় বিমান চালনা সংস্থাগুলো। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বিমানবন্দরে ডোমেস্টিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিমান ছাড়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়ে থাকে আমেরিকান এয়ারলাইনস, কন্টিনেন্টাল, ডেল্টা ও ভার্জিন আমেরিকা। তবে স্থান বা ফ্লাইটভেদে আরো আগে আসারও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

এছাড়া বিমান ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে যাত্রীদের ডিপার্চারে থাকার পরামর্শ দেয় বিমান চালনা সংস্থাগুলো।

আর বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে যেকোনো বিপদে পড়লে Magistrates All Airports of Bangladesh ফেসবুক পেজে জানাতে পারেন অথবা 01304-050603 নম্বরে কল করতে পারেন।

ইসি/

 

ভ্রমণ: আরও পড়ুন

আরও