পেলিং-নামচি-রাবাংলা-গ্যাংটক-চুংথাং সিকিম

ঢাকা, ২৯ মে, ২০১৯ | 2 0 1

পেলিং-নামচি-রাবাংলা-গ্যাংটক-চুংথাং সিকিম

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:১২ অপরাহ্ণ, মে ০৫, ২০১৯

পেলিং-নামচি-রাবাংলা-গ্যাংটক-চুংথাং সিকিম

আসুন আজ আমরা সিকিমের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াই। খুব বেশি বর্ণনায় না যেয়ে চলুন দেখি কিছু ছবি ও সহজ বর্ণনা। এই অ্যালবামে আছে, ১.সাউথ সিকিম নামচির চারধাম এবং গুরু পদ্মাসম্ভাবা ধাম ২. সাউথ সিকিম রাবাংলার বুদ্ধ পার্ক। ৩. ওয়েস্ট সিকিম পেলিং এর সিংশোর ব্রিজ, খেচিপেরি লেক, স্কাই ওয়ার্ক, কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত, সাঙ্গাচোলিং মোনাস্ট্রি (সিকিমের সবচেয়ে পুরানো মনেস্ট্রি) ৪. নর্থ সিকিমের চুংথাং ৫. গ্যাংটক এমজি মার্গ মল রোড।

গ্যাংটক যাওয়ার ইনার লাইন পারমিট (ILP) যেখান থেকে নিবেন:(ফরেনারদের জন্য)

গ্যাংটক যাওয়ার ইনার লাইন পারমিট (ILP) আপনি ঢাকা যমুনা ফিউচার পার্কের (IVACBD) থেকে অথবা শিলিগুড়ি SNT-Sikkim Nationalised Transport থেকে অথবা সিকিম ঢোকার চেকপোস্ট Rangpo থেকে নিতে পারেন।

Rango থেকে নেওয়াটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। পাসপোর্ট-ভিসার ফটোকপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিলেই ১০ মিনিটের মধ্যে পার্মিশন পেয়ে যাবেন। গ্যাংটক যাওয়ার পর হোটেল থেকে শুরু করে Protected Area Permission সব ক্ষেত্রে ইনার লাইন পার্মিট এর ফটোকপি লাগবে এবং আপনি যখন ট্যুর শেষ করে ফিরবেন তখন ইনার লাইন পার্মিট এর মূল কপি Rangpo Check Post এ জমা দিয়ে পাসপোর্টে গ্যাংটক ঢোকার সময় যে সিল দিয়েছিল সেই সিলের মধ্যে ডিপাচার ডেট এন্ট্রি করে আসতে হবে। আবার আপনি যদি গ্যাংটক থেকে পেলিং হয়ে শিলিগুড়ি আসতে চান তাহলে ডাবল রাস্তা ঘুরে Rango যাওয়ার দরকার নাই। পেলিং থেকে Rishikhola Check Post e ইনার লাইন পার্মিট এর মূল কপি জমা দিয়ে ডিপাচার ডেট এন্ট্রি করতে পারবেন।

সাথে যা যা নিতে হবে:

পাসপোর্টের ইনফরমেশন পেজ এবং ভিসা পেজের ১০ করি ফটোকপি বাংলাদেশ থেকে করে নিয়ে যাবেন। আর ১০ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ইনার লাইন পার্মিটসহ Protected Area Permission এর জন্য ফটোকপি এবং ছবি লাগবে। ইনার লাইন পার্মিট পাওয়ার পর Rangpo থেকে ইনার লাইন পার্মিট এরও ১০ কপি ফটোকপি করে ফেলবেন।

কোন পোর্ট দিয়ে যাওয়া সুবিধাজনক:

যে পোর্ট দিয়েই যান আপনাকে শিলিগুড়ি হয়েই গ্যাংটক যেতে হবে। শিলিগুড়ি থেক গ্যাংটক ১১৫.৭ কিমি। যদি চ্যাংড়াবান্ধা/বুড়িমারি পোর্ট দিয়ে যান তাহলে চ্যাংড়াবান্ধা/বুড়িমারি পোর্ট থেকে শিলিগুড়ি ৮৫.৫ কিমি।যদি বাংলাবান্ধা/ফুলবাড়ি পোর্ট দিয়ে যান তাহলে বাংলাবান্ধা/ফুলবাড়ি থেকে শিলিগুড়ি ১২ কিমি। এই জন্য বাংলাবান্ধা/ফুলবাড়ি পোর্ট দিয়ে যাওয়ার সুবিধাজনক।

সিকিমের কোথায় কোন প্যাকেজে ঘুরবেন:

গ্যাংটক যাওয়ার পর Protected Area Permission গুলো আপনাকে ট্রাভেল এজেন্টদের দিয়ে করাতে হবে। নিজে চাইলেও পার্মিশন ম্যানেজ করতে পারবেন না। এইটাই সিকিম ট্যুরিজমের নিয়ম। পার্মিশন এবং প্যাকেজের ক্ষেত্রে আপনি ২ রাত ৩ দিনের জন্য নর্থ সিকিম করতে পারেন। নর্থ সিকিমের লাচুং-ইয়ুমথাং-জিরো পয়েন্ট-চোপ্তা ভ্যালী প্যাকেজে থাকা-খাওয়া-গাড়ীসহ প্যাকেজ পড়তে পারে ১২০০০ থেকে ২২০০০ রুপি পর্যন্ত। নর্থ সিকিমের মাউন্ট কাটাও এর জন্য আলাদা ৩০০০ রুপি। ছাংগু লেকের জন্য ৩৫০০-৪০০০ রুপি। সাউথ সিকিমের নামচি, চার ধাম এবং রাবাংলার বুদ্ধ পার্কের জন্য ৫০০০ রুপি এবং ইস্ট সিকিমের জুলুকের জন্য ৭০০০ রুপি এবং ওয়েস্ট সিকিমের পেলিং এর জন্য ৪৫০০-৬০০০ রুপির প্যাকেজ নিতে পারেন। মল রোডে প্রচুর ট্রাভেল এজেন্ট এর দোকান আছে। দেখে শুনে দামাদামি করে নিজের সুবিধামত প্যাকেজ নিতে পারবেন। Protected Area Permission ট্রাভেল এজেন্ট করে দিবে।

কোথায় থাকবেন:

গ্যাংটক এম.জি মার্গ মল রোডে প্রচুর হোটেল আছে। মল রোডে ১০০০ থেকে ২৫০০ রুপির মধ্যে ভালো মানের হোটেল পাবেন। মল রোড থেকে একটু নিচের দিকে গেলে ৮০০-১২০০ রুপির হোটেল পেয়ে যাবেন।

কোথায় কোথায় ঘুরবেন:

নর্থ সিকিম:

১. লাচুং

২. ইয়ুমথাং ভ্যালী

৩. জিরো পয়েন্ট

৪. চোপ্তা ভ্যালী

৫. গুরুডংমার লেক

৬.মাউন্ট কাটাও

সাউথ সিকিম:

১. নামচি

২. চার ধাম

৩. রাবাংলা বুদ্ধ পার্ক

ইস্ট সিকিম:

১. ছাংগু লেক

২. নাথুলা পাস

৩. বাবা মন্দির

৪. জুলুক

ওয়েস্ট সিকিম:

১. পেলিং

পেলিং এর দর্শনীয় স্থানগুলো:

. সাঙ্গাচোলিং চেনরেজিগ ট্যুরিজম পার্ক এবং স্কাই ওয়ার্ক

. সাঙ্গাচোলিং মোনাস্ট্রি ( সিকিমের সবচেয়ে পুরানো মনেস্ট্রি)

. ছাঙ্গে জলপ্রপাত

. রিম্বিক জলপ্রপাত

. রক গার্ডেন

. কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত

. খেচিপেরি পবিত্র লেক এবং মনাস্ট্রি

. সিংশোর ব্রিজ

কোথায় কোথায় যেতে পারবেন নাঃ।

বিদেশীদের জন্য নাথুলাপাস, বাবা মন্দির, গুরুদংমার, কালাপাথর যাবার পার্মিশন নাই। সীমান্তবর্তী জায়গা ব্যাতীত সব জায়গা ওপেন। এর মাঝে কিছু জায়গায় যেতে গ্যাংটক থেকে আলাদা করে প্রটেক্টেড এরিয়া পার্মিশন নিতে হয়।

সিকিমের ইতিহাস:

সিকিম রাজ্যটি ১৭ শতকের নামগিয়াল রাজবংশের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। রাজ্যটি চোগিয়াল নামে পরিচিত একজন বৌদ্ধ পুরোহিত রাজা দ্বারা শাসিত ছিল। ১৮৯০ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের অধীনে একটি রাজ্য হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালের পরে সিকিম ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের অঙ্গরাজ্য হিসাবে ছিল। হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলোর মধ্যে সিকিমে সাক্ষরতার হার এবং মাথাপিছু আয় সবচেয়ে বেশি। ১৯৭৩ সালে চোগিয়ালের প্রাসাদের সামনে রাজতন্ত্র বিরোধী দাঙ্গা শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে জনগণ সিকিমীয় রাজতন্ত্রকে দমন করে। ১৯৭৫ সালে গণভোটের পরে সিকিম ভারতবর্ষের ২২ তম রাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়।

আধুনিক সিকিম একটি বহুজাতিক এবং বহুভাষী ভারতীয় রাজ্য। সিকিমের ১১ টি সরকারি ভাষা রয়েছে:- নেপালি, সিকিমিজ, লেপচা, তামাং, লিম্বু, নেওয়ারি, রায়, গুরুং, মগার, সুনওয়ার এবং ইংরেজী।ইংরেজি ভাষা স্কুলে পড়ানো হয় এবং সরকারী নথিতে ব্যবহৃত হয়। হিন্দুধর্ম এবং বজ্রায়ণ বৌদ্ধ ধর্ম হল সিকিমের প্রধান ধর্ম। সিকিমের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও পর্যটনের উপর নির্ভরশীল এবং ২০১৪ সালের হিসাবে ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে এই রাজ্যটির তৃতীয়-ক্ষুদ্রতম জিডিপি ছিল, যদিও এটি বর্তমানে দ্রুত বর্ধমান অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

 

সিকিম ভারতের বৃহত্তম এলাচ উৎপাদক রাজ্য এবং গুয়াতেমালার পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলাচ উৎপাদক। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সিকিম, তার কৃষিকে সম্পূর্ণভাবে জৈব পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করে প্রথম ভারতীয় রাজ্য হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এটি ভারতের সবচেয়ে পরিবেশগতভাবে সচেতন রাজ্য, যার ফলে প্লাস্টিকের পানিরর বোতল এবং স্টাইরোফোম ইত্যাদি পণ্য এখানে নিষিদ্ধ। সিকিম ইন্ডিয়ার একমাত্র অর্গানিক স্টেট।

আসুন ভ্রমনে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকি।পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।আর সিকিমে আপনি চাইলেও যেখানে সেখানে ময়লা ফেলতে পারবেন না।প্রকাশ্যে ধূমপানও করতে পারবেন না।

তথ্য ও ছবি:  দ্বীপ বিশ্বাস

ইসি/

 

ভ্রমণ: আরও পড়ুন

আরও