‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার’ সিকিম

ঢাকা, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ | ৬ বৈশাখ ১৪২৬

‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার’ সিকিম

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার’ সিকিম

১১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ইউমথাং-এর আর এক নাম হল ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার’। এপ্রিল-মে মাসে এখানে যেন জলসা বসে যায় ফুলের। বিভিন্ন প্রজাতির রডোডেনড্রন, প্রিমুলা ও আরও নানা ধরনের ফুলের সমারোহে তখন সত্যিই নন্দনকানন হয়ে ওঠে এই উপত্যকা।

শীতকালে এলে (ডিসেম্বর থেকে মার্চ) আবার এই উপত্যকাকেই দেখতে পাবেন এক অন্য রূপে। বরফের সাদা পোশাকে তখন আবৃত থাকে পুরো ইয়ুমথাং অঞ্চল। মনে হবে বুঝি তুষার সাম্রাজ্যেই এসে পড়েছি। উঁচু পাহাড়ের সারি, উপত্যকা, রাস্তাঘাট— সবই সে সময় ঢাকা থাকে পুরু বরফের আস্তরণে।

লাচুং থেকে ইয়ুমথাং ২৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সবুজ উপত্যকার বুক চিরে বয়ে চলেছে উচ্ছ্বল নীলরঙা নদী। উপত্যকার শুরুতেই রয়েছে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ। বহু মানুষকে দেখবেন পানিতে শরীর ডুবিয়ে বসে থাকতে। বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের নাকি নিরাময় হয় এই পানিতে, এমনটাই শোনা যায়। সবুজ বিস্তীর্ণ উপত্যকার দু’দিকে বিস্তৃত উঁচু পাহাড়ের প্রাচীর। উপত্যকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে, সবুজ ঘাসের কার্পেটের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা ধরে এ বারে পৌঁছে যান শিবমন্দির হয়ে ইয়ুমেসামডং।

দূরত্ব ইয়ুমথাং থেকে ২৩ কিলোমিটার। এই অবধিই যাওয়ার অনুমতি মেলে পর্যটকদের। চিন সীমান্তের নৈকট্যের কারণে প্রতিরক্ষা বিভাগের নির্দেশে এখানেই যাত্রাপথের ইতি টানতে হয়। ১৫০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ইয়ুমেসামডং এক অপূর্ব সুন্দর জায়গা। তুষারাবৃত ইয়ুমেসামডং-এর প্রাকৃতিক শোভা দেখে মুগ্ধতায় আবিষ্ট হন পর্যটকেরা।

একই পথে ফিরে আসতে হবে লাচুং-এ। হাতে সময় থাকলে ও ফৌজি অনুমতি পেলে লাচুং থেকে নদীর উপর সেতু অতিক্রম করে অন্য পথে যাওয়া যেতে পারে কাটাও। দূরত্ব লাচুং থেকে ২৪ কিলোমিটার। তুষারাবৃত কাটাও পৌঁছে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন পর্যটকের দল। শুরু হয়ে যায় বরফ নিয়ে খেলা। তবে চিন সীমান্ত খুবই কাছে হওয়ার কারণে এ পথে অনুমতি পাওয়াটা খুবই সমস্যাজনক হয়ে পড়ে বেশির ভাগ সময়ে।

যেভাবে যাবে: গ্যাংটক থেকে এক রাত্রি দু’দিনের প্যাকেজেই সাধারণত সংঘটিত হয় ইয়ুমথাং সফর। মাথাপিছু খরচ পড়ে ১৮০০-২৫০০ টাকা। এর মধ্যে গাড়িভাড়া, হোটেল খরচ, খাওয়াদাওয়া সবই অন্তর্ভুক্ত থাকে। গাড়ি ও হোটেলের মান হিসেবে খরচের তারতম্য হয়ে থাকে। তবে এই হিসেবের মধ্যে কিন্তু ইয়ুমেসামডং কিংবা কাটাও-এর খরচ ধরা থাকে না। সেগুলোর জন্যে আলাদা খরচ পড়ে। গাড়িতে মোট ৮ জন যাবে, সেই ভিত্তিতেই এই খরচ। কম যাত্রী গেলে খরচও বাড়বে সেই অনুপাতে।

যেখানে থাকবেন: প্যাকেজের নির্দিষ্ট হোটেলেই রাত্রিবাস করতে হয়। লাচুং-এর হোটেলেই হবে রাত্রিবাস।

মনে রাখতে হবে: ফুলের সময়ে গেলে ভুলেও ফুল ছিঁড়বেন না গাছ থেকে। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সিকিমের যেকোনো জায়গায় ঘোরার জন্য গাড়ি, হোটেল, হোমস্টে কিংবা প্যাকেজ বুকিং-এর জন্য যোগাযোগ করতে পারেন: নারায়ণ প্রধান ৮৪৩৬৬৪৯০০১, ৮৩৪৮৮১৩৮৪৫

সিকিম সফর সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের ব্যাপারে যোগাযোগ করতে পারেন: এম কে প্রধান (জয়েন্ট ডিরেক্টর, সিকিম ট্যুরিজম, গ্যাংটক) ৮১১৬১০৭০৭১, ৯৮৩২০৬৫৬১৭

ইসি/