আরও তিনটি ‘পৃথিবী’র সন্ধান পেল নাসা

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

আরও তিনটি ‘পৃথিবী’র সন্ধান পেল নাসা

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০১৯

আরও তিনটি ‘পৃথিবী’র সন্ধান পেল নাসা

প্রায় তিন দশক পর আরও তিনটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছে নাসা। পৃথিবীর কাছেই একটি নক্ষত্রমণ্ডলে, মাত্র ৭৩ আলোকবর্ষ দূরে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার ‘ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’ (টেস)-এর গোয়েন্দা নজরদারিতেই ধরা পড়েছে ওই তিনটি ভিন গ্রহ।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সেই তিন গ্রহ পৃথিবীর মতোই কি না, সেখানে বায়ুমণ্ডল, তরল পানি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের বাতাস আছে কি না, সেই সব এখনও জানা যায়নি।

তবে প্রাণের সহায়ক পরিবেশ মিলতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

গত ২৭ জুলাই আবিষ্কারের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’তে।

গবেষকদলে রয়েছেন প্রবাসী ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীলেশ মহাপাত্র।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, ওই তিনটি ভিন গ্রহের মধ্যে একটি পৃথিবীর চেয়ে আকারে সামান্য বড়। ওজনেও কিছুটা দড়। বাকি দু’টি এমন ধরনের যার মতো কোনও গ্রহের হদিস এখনও পর্যন্ত মেলেনি সৌরমণ্ডলে।

পৃথিবী থেকে মাত্র ৭৩ আলোকবর্ষ দূরে থাকা ওই নক্ষত্রমণ্ডলটির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘টিওআই-২৭০’।

‘টিওআই’ শব্দটির অর্থ, ‘টেস অবজেক্ট অফ ইন্টারেস্ট’। তার মানে, নাসার ‘টেস’ উপগ্রহ প্রাণের সহায়ক পরিবেশের সন্ধানে যে ধরনের ভিন গ্রহ বা নক্ষত্রমণ্ডলগুলোকে খুঁজে চলেছে, সদ্য আবিষ্কৃত তারামণ্ডলটি পড়ে তাদেরই মধ্যে।

নীলেশ বলেন, এই নক্ষত্রমণ্ডলের অভিনবত্বটা হল, তার ‘সূর্য’ বা নক্ষত্রের চেহারা ও চরিত্রে। গোত্রের নিরিখে এই নক্ষত্রগুলো পড়ে ‘এম-৩’-তে। যা আমাদের সূর্যের চেহারা ও ওজনের ৪০ শতাংশ মাত্র। তার মানে, আমাদের চেহারায় আমাদের সূর্যের কাছে তো নস্যিই, ওজনেও আমাদের সূর্যের মতো ভারী নয় ‘টিওআই-২৭০’ নক্ষত্র। শুধু তাই নয়, ওই নক্ষত্র আমাদের সূর্যের মতো অতটা তেতেপুড়েও নেই। বরং অনেকটাই ঠাণ্ডা। সূর্যের মতো পুরোদস্তুর তারা হয়ে উঠতে পারেনি বলেই ‘টিওআই-২৭০’ আদতে বামন নক্ষত্র (ডোয়ার্ফ স্টার)। তাই আমাদের সূর্যের পিঠ যতটা গরম, এই বামন নক্ষত্রটির পিঠের তাপমাত্রা তার তিন ভাগের এক ভাগ।

পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার জন্যেও এই তারামণ্ডলটি রয়েছে আমাদের যথেষ্টই কাছে। মাত্র ৭৩ আলোকবর্ষ দূরে। আকাশের দক্ষিণ দিকে থাকা ‘পিক্টর’ নক্ষত্রপুঞ্জে।

তিনটি ভিন গ্রহের মধ্যে অন্তত দু’টি গবেষকদের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। তাদের একটির নাম- ‘টিওআই-২৭০-বি’। অন্য ভিন গ্রহটি- ‘টিওআই-২৭০-ডি’।

তিনটি ভিন গ্রহের মধ্যে নক্ষত্রের (টিওআই-২৭০) সবচেয়ে কাছে রয়েছে যে ভিন গ্রহটি, তার নাম- টিওআই-২৭০-বি। এই গ্রহটি পৃথিবীর চেয়ে আকারে ২৫ শতাংশ বড়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহটিরই আমাদের পৃথিবী বা মঙ্গলের মতো পাথুরে গ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

বুধ গ্রহটি যতটা দূরত্বের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে সূর্যকে, তার চেয়ে ১৩ গুণ কম দূরত্বে এই টিওআই-২৭০-বি ভিন গ্রহটি ঘোরে তার নক্ষত্র টিওআই-২৭০-এর চার পাশে। তার জন্য পৃথিবীর চেয়ে সময়ও নেয় অনেকটাই কম। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবী সময় নেয় ৩৬৫ দিন। আর এই ভিন গ্রহটি তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩ দিন ৪ ঘণ্টা।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহটির ওজন হতে পারে পৃথিবীর প্রায় দু’গুণ (১.৯ গুণ)।

অধ্যাপক নীলেশ মহাপাত্র বলেন, তবে এই গ্রহে প্রাণের সহায়ক পরিবেশ পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা কী রয়েছে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে আমাদের। কারণ, যতই মিইয়ে পড়া তারা হোক টিওআই-২৭০, গ্রহটি তার এতটাই কাছে রয়েছে যে, তার গা পুড়ে যাচ্ছে। তার ফলে, তার বায়ুমণ্ডল রয়েছে কি না, থাকলেও তা উড়ে-পুড়ে যাচ্ছে কি না, তা জানতে হবে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, বাকি দু’টি গ্রহের অন্যতম টিওআই-২৭০-সি পৃথিবীর আকারের প্রায় আড়াই গুণ (আদতে ২.৪ গুণ)। যা তার নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৫ দিন ৭ ঘণ্টা। আর অন্য গ্রহ, টিওআই-২৭০-ডি ২.১ গুণ বড় পৃথিবীর চেয়ে। টিওআই-২৭০ নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করতে ওই ভিন গ্রহটি সময় নেয় ১১ দিন ৪ ঘণ্টা।

অধ্যাপক নীলেশ মহাপাত্র বলেন, টিওআই-২৭০-সি এবং টিওআই-২৭০-ডি, এই দু’টি গ্রহই নেপচুনের ছোটখাটো সংস্করণের মতো বলে মনে হচ্ছে আমাদের। সে ক্ষেত্রে সেগুলো হয়তো পাথুরে না হয়ে হবে গ্যাসে ভরা গ্রহ। ওজনে হতে পারে পৃথিবীর ৭ বা ৫ গুণ বেশি।

তিনি বলেন, আমাদের চাঁদের যেমন একটা পিঠ সব সময় থাকে পৃথিবীর দিকে (টাইড্যালি লক্ড), ঠিক তেমনই এই তিনটি গ্রহেরও একটি পিঠ সব সময় থাকে তাদের নক্ষত্রের দিকে। অন্য দিকটিকে সেই গ্রহগুলো কখনওই দেখায় না তাদের নক্ষত্রকে। ফলে, গ্রহগুলোর একটি দিকে যেমন নক্ষত্রের আলো ও বিকিরণ আছড়ে পড়ছে সব সময়, অন্য দিকটি তেমনই বঞ্চিত হয় নক্ষত্রের আলো বা বিকিরণের থেকে। তাই যে দিকটিতে আলো পড়ে না, সেই দিকে প্রাণের জন্ম বা টিঁকে থাকা সহজ হতে পারে বলে ধারণা।

নীলেশ বলেন, তবে আমাদের আগ্রহ ওই নক্ষত্রমণ্ডলের সবচেয়ে বাইরের দিকে থাকা ভিন গ্রহ টিওআই-২৭০-ডি-কে নিয়ে। কারণ, তার পিঠের গড় তাপমাত্রা মাত্র ৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা প্রাণের সহায়ক হতেই পারে। আগামী দিনে, এই নক্ষত্রমণ্ডলে এমন আরও কয়েকটি গ্রহের হদিস পাওয়ার আশা করছি।

এসবি

 

প্রযুক্তির খবর: আরও পড়ুন

আরও