দুই কোটিরও বেশি চাকরি যাবে রোবটের দখলে

ঢাকা, ১৮ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

দুই কোটিরও বেশি চাকরি যাবে রোবটের দখলে

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯

দুই কোটিরও বেশি চাকরি যাবে রোবটের দখলে

সারা বিশ্বে দুই কোটিরও বেশি উৎপাদনশীল চাকরি ২০৩০ সাল নাগাদ রোবটের দখলে চলে যাবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন গবেষকরা।

এতে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন বাড়বে, কিন্তু একই সঙ্গে সামাজিক বৈষম্যও বৃদ্ধি পাবে, এমনটাই দেখা গেছে এক নতুন গবেষণায়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বুধবার এ গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এতে বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ও রোবট সামঞ্জস্যহীনভাবে কম দক্ষতার কাজগুলো নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে অর্থনৈতিকভাবে লাভ হলেও, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।

অক্সফোর্ড ইকনমিক্স নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থাটি জানায়, রোবটের কারণে চাকরি হারানোর ঘটনা সারা বিশ্বে বা কোনো একটা দেশের মধ্যেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে না।

গবেষণায় বলা হয়, ইতোমধ্যেই কারখানায় বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনশীল লাখ লাখ চাকরি রোবটের দখলে চলে গেছে। এখন কম্পিউটারের দেখা, কণ্ঠস্বর চিনতে পারা ও যান্ত্রিক শিক্ষার উন্নতির কারণে বিভিন্ন ধরনের সেবাদানের কাজও রোবট করতে পারছে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, কম দক্ষতার জায়গাগুলোতে চাকরি হারানোর পরিমাণ বেশি দক্ষতার জায়গাগুলোর চেয়ে দ্বিগুণ হবে। এমনকি একই দেশের মধ্যেও এমন অবস্থা দেখা যাবে।

এই গবেষণা এমন সময়ে প্রকাশ করা হলো যখন, স্বচালিত গাড়ি ও ট্রাক, খাবার তৈরির রোবট, স্বয়ংক্রিয় কারখানা ও গুদামের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি বাজারে আসছে। এগুলোর প্রভাব নিয়ে জোর বিতর্কও চলছে এখন।

অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, আগে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতো। কিন্তু এখনকার রোবটগুলোর উচ্চ দক্ষতার কারণে তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে ব্যর্থ শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক গবেষণাটিতে বলা হচ্ছে, বর্তমানে রোবট নিয়োগ করার যে জোয়ার এসেছে তা চূড়ান্তভাবে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাড়িয়ে দেবে। ফলে শেষ পর্যন্ত যত কর্মক্ষেত্র নষ্ট হবে ততগুলোই নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে।

গবেষকরা জানান, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক উন্নত অর্থনীতিতে আঞ্চলিক মেরুকরণ তৈরি করবে এবং সেবাদানের কাজগুলোতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়ে এই মেরুকরণ আরও বাড়বে।

তবে গবেষকরা নীতিনির্ধারকদের রোবট ব্যবহার চালুর গতি ধীর না করতে সতর্ক করে দিয়েছেন। বরং তারা রোবট ব্যবহার করে দুর্বল অঞ্চলগুলোর মানুষকে সামনের উত্তাল সময়ে সাহায্য করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এমআর/এইচআর

 

প্রযুক্তির খবর: আরও পড়ুন

আরও