ফেসবুকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ইসলাম বিদ্বেষ, নির্বিকার জাকারবার্গ

ঢাকা, ৪ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

ফেসবুকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ইসলাম বিদ্বেষ, নির্বিকার জাকারবার্গ

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০১৯

ফেসবুকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ইসলাম বিদ্বেষ, নির্বিকার জাকারবার্গ

ফেসবুক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে ডানপন্থীরা ইসলাম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন, তা স্নোপসের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

গুজব ঠেকাতে ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইটের অন্যতম পথিকৃৎ বলা হয় স্নোপসকে।

এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওয়েবসাইটটি জানিয়েছে, ডানপন্থী ইভাঞ্জেলিকাল খ্রিষ্টানদের একটি দল ফেসবুকে পলিটিকাল অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কিছু ইসলামবিদ্বেষী পেজ খুলেছে। তাদের উদ্দেশ্য, সমন্বিতভাবে ট্রাম্পপন্থী একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে ঘৃণা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াবে।

কিন্তু, মজার ব্যাপার হলো, ফেসবুকে এ ধরনের ‘সমন্বিত অসত্য আচরণ’ নীতিবিরুদ্ধ হলেও জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠানটি এক্ষেত্রে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

উদাহরণ হিসেবে স্নোপসের প্রতিবেদনে অনেকগুলো পেজের মধ্যে ‘ব্ল্যাকস ফর ট্রাম্প’ ও ‘জ্যুস ফর আমেরিকা’ নামে দুটির কথা উল্লেখ করা হয়। আর এসব পেজের অর্থায়ন করছেন ইভাঞ্জেলিকালকর্মী কেলি মনরো কুলবার্গ।

তিনি কৃষ্ণাঙ্গও নন, ইহুদিও নন। বরং তিনি ‘দ্য আমেরিকা কঞ্জারভেনসি’র প্রেসিডেন্ট।

কেলি মনরো কুলবার্গের দল ফেসবুক ব্যবহার করে মুসলিমদের সম্পর্কে ভীতি ও ঘৃণা ছড়ানো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দিতে দেশটির জনগণকে উৎসাহিত করে থাকে।

স্নোপস জানায়, মোট ২৪টি পেজের সঙ্গে কুলবার্গ গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ‘ক্রিশ্চিয়ান্স ফর ট্রাম্প’, ‘উইমেন ফর ট্রাম্প’, ও ‘ইভাঞ্জেলিকালস ফর ট্রাম্প’ অন্যতম।

এই পেজগুলোর কিছু কন্টেন্টে বলা হয়, পার্কল্যান্ড স্কুলের হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা ‘বামপন্থী-ইসলামীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে’। আবার বলা হয়, মুসলিম অভিবাসীরা শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের ‘সাংস্কৃতিকভাবে ধ্বংস ও পরাধীন করতে’ সাহায্য করছে। পেজগুলোতে ছড়ানো ইসলাম বিদ্বেষী সেন্টিমেন্টের এগুলো মাত্র দুটি নমুনা।

স্নোপস জানায়, উদ্বেগজনকভাবে কুলবার্গের ২৪ পেজের ফলোয়ার হচ্ছে ১৪ লাখ মানুষ। এই পেজগুলোর মাধ্যমে তিনি ফেসবুকের নীতিমালা ভঙ্গ করছেন।

ফেসবুকে ‘সমন্বিতভাবে অসত্য আচরণ’ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু, তারপরও এই পেজগুলো সক্রিয় থাকায় এটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে, ইসলামভীতি ছড়ায় এমন কন্টেন্টের হুমকি সোশ্যাল মিডিয়াগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না।

ইতোমধ্যে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের তদন্তকারী ইয়াং লি বলেছেন, ফেসবুক এখন একটা পশুতে পরিণত হয়েছে। এটা বিদ্বেষ, বিভেদ ও সংঘাত ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনে ফেসবুক চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলেও মন্তব্য তার।

এমআর/আইএম

 

ইসলামি সংবাদ: আরও পড়ুন

আরও