তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুন ০২, ২০১৯

তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হতে বাংলাদেশের সামনে দুটি সুযোগ রয়েছে। কোন পথে ইন্টারনেট সংযোগের এ মাধ্যমে যুক্ত হবে তা নির্ধারণে কাজ করছে একটি কমিটি।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) কাছে দুটি প্রস্তাবই এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে।

একটি প্রস্তাব দিয়েছে সিংটেল। তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম ইউরোপ-৬ বা সংক্ষেপে সি-মি-উই-৬ কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হতে প্রস্তাব করেছে।

বাংলাদেশ সিংটেলের আগের দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের অংশীদার সি-মি-উই-৫ এবং সি-মি-উই-৪।

অপর প্রস্তাবটি দিয়েছে সিঙ্গাপুরের আরেক কোম্পানি সিগমার (সিঙ্গাপুর-মিয়ানমার সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি)।

এটি একটি নতুন কোম্পানি এবং তাদের কেবলটি তুলনামূলক ছোট। বঙ্গোপসাগর থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত হবে এ ক্যাবলের দৈর্ঘ্য।

এ কনর্সোটিয়াম থেকে সাড়ে ছয় কোটি ডলার খরচে প্রাথমিকভাবে ১২ দশমিক ৪ টেরাবাইট পার সেকেন্ড গতির ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।

অন্যদিকে সি-মি-উই-৬ এ যুক্ত হতে খরচ হবে সাত কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সংযাগ থেকে প্রাথমিকভাবে ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে ৫ টেরাবাইট পার সেকেন্ড গতিতে।

সিগমার কাজ শেষ হতে ২০২২ এবং সি-মি-উই-৬ এ যুক্ত হতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত লাগবে বলে পৃথক প্রস্তাব দুটিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিএসসিসিএল এমডি বলেন, দুটি প্রস্তাবই সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

তিনি তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে একটি প্রস্তাব বাছাই করতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

উপদেষ্টা বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের হাতে বর্তমানে থাকা ২,৮০০ জিবিপিএসের ক্যাপাসিটি শেষ হয়ে যাবে।

ওই সময়ের মধ্যে নিজস্ব আরেকটি ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ শ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয়, এর মধ্যে ৯০০ জিবিপিএসের সরবরাহ আসে সি-মি-উই-৫ ও সি-মি-উই-৪ থেকে। বাকিটা ভারত থেকে আমদানি করা হয়। যদিও নিজেদের সাবমেরিন ক্যাবল দুটির সক্ষমতা ২৮০০ জিবিপিএস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর ডেটার ব্যবহার দ্বিগুণ হচ্ছে। ফলে এখনই নতুন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলে সামনের দিনে এটি নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এফএ/