হঠাৎ ইন্টারনেট বন্ধ হলে বিপর্যয়ের আশংকা

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

হঠাৎ ইন্টারনেট বন্ধ হলে বিপর্যয়ের আশংকা

আশিক মাহমুদ ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

হঠাৎ ইন্টারনেট বন্ধ হলে বিপর্যয়ের আশংকা

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এসএসসি ও চলমান পরীক্ষার দিন সরকার আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। খুব দ্রুতই বিপর্যয় বুঝতে পেরে এ সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে তারা। তবে এরই মধ্যে যা ঘটে গেছে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত বাহাস শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে যে সরকার, তাদের কাছ থেকে এমনটি প্রত্যাশা করেনি কেউই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় দূরের কথা, সাময়িকভাবেও যদি ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়, তাহলে দেশের সামগ্রিক ক্ষেত্রে বিপর্যয় ঘটবে। কারণ হিসাবে তারা বলছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবাখাতের বড় বড় সেক্টর এখন পুরোপুরি ইন্টারনেট নির্ভর।

বিমানের ফ্লাইট, পুঁজিবাজার, আমদানি-রফতানি, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা, আউটসোসিং- বাংলাদেশে এর সবই এখন বলা চলে ইন্টারনেট নির্ভর। হঠাৎ করে ইন্টারনেট বন্ধের মত সিদ্ধান্ত নিলে এসব খ্যাতে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেবে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) ফাউন্ডার চেয়ারম্যান রাজিব আহমেদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রথমত, সম্ভাবনাময় কয়েকটি ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে। দ্বিতীয়ত, আউটসোসিংয়ের সঙ্গে জড়িতরা মিনিটের মধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশের কোনো কাজ ডেলিভারির দিন ধার্য আছে। ইন্টারনেট বন্ধের কারণে ওইদিন কাজটি শেষ করতে না পারলে সুনাম নষ্ট হবে। বিশ্বে তো চ্যালেঞ্জিং মার্কেট। পরবর্তীতে আমাদের কাছে অর্ডার আসা কমে যাবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এবি মিজ্জা আজিজুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে টাকার অংকে কতটা ক্ষতি হবে, বলা মুশকিল। একটা বিপর্যয় তো ঘটবেই। কারণ, এখন তো আমরা সবাই ইন্টারনেট কেন্দ্রীক সেবায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। হঠাৎ না পেলে দম বন্ধের অবস্থা হবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হলো একের দায় অন্যের ওপর চাপাচ্ছি। একটি জায়গার ব্যর্থতা ঢাকতে অন্যটিতে হাত দিচ্ছি। ফাঁস হচ্ছে প্রশ্ন, আপনি সেটি বন্ধ করেন। তা না করে ইন্টারনেট বন্ধ করতে চাচ্ছেন, এটার কোনো মানে আছে কিনা আমি বুঝি না।’

আইটি বিশেষজ্ঞ মো. সুমন আহমেদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘কিছু কিছু বিষয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে। মনে করেন, আপনার বিদেশ থেকে একটা কাজের অর্ডার এসেছে। আপনি মেইলে জবাব লিখতে বসেছেন, তখন থেকে ইন্টারন্টে বন্ধ হয়ে গেল। অবস্থাটা কি হবে বুঝতে পারছেন? মেইল রিপ্লে না দিলে তো কাজের অর্ডারটাই হারাবেন। বিশেষ করে যারা আউটসোসিং এবং ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে কাজ করেন, তারা তো ইন্টারনেট ছাড়া এক মিনিটও চিন্তা করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তারা এসব ক্ষতির পরিমাণ কল্পনাও করতে পারবেন না। ইন্টারনেট তো শুধু ফেসবুক আর ইউটিউব দেখার জন্য না। প্রতি মুহূর্তে ব্যবসায়িক কাজে কয়েক লাখ ই-মেইল আদান-প্রদান হচ্ছে। এগুলো বাউন্স করলে তার ব্যবসায়িক ক্ষতি টাকার পরিমাণে বোঝানো সম্ভব নয়।’

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ রাখলে দেশের বিশাল ক্ষতি হবে ভেবেই তো সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। আমরা জনবান্ধব সরকার। জনগণের ক্ষতি বা দুর্ভোগ হয় এমন কোনো কাজ বর্তমান সরকার করবে না।’

এএম/আইএম