ইন্দোনেশিয়ার সুনামি মোকাবেলাকারী রহমতুল্লাহ মসজিদ

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ইন্দোনেশিয়ার সুনামি মোকাবেলাকারী রহমতুল্লাহ মসজিদ

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০১৯

ইন্দোনেশিয়ার সুনামি মোকাবেলাকারী রহমতুল্লাহ মসজিদ

২০০৪ সালের সুনামির পর টিকে থাকা রহমতুল্লাহ মসজিদ। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

রহমতুল্লাহ মসজিদ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের পশ্চিমে আচেহ প্রদেশের লামপুক সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত একটি মসজিদ। সাদা এ মসজিদে সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা শুধু নামাযই আদায় করেন না, একইসাথে মসজিদটি দেখার জন্যও ছুটে আসেন তারা।

১৯৯৭ সালে নির্মিত এ মসজিদটি প্রথম আলোচনায় আসে ১৫ বছর আগের ভয়াবহ সুনামিকে মোকাবেলা করে। ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ৯.৩ মাত্রার এক ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয় এই সুনামি।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা যায়, এতে আফ্রিকার সোমালিয়া থেকে ওশেনিয়ার অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি নিহত হয়। ৩০ মিটার (৯৮ ফুট) উচ্চতার সুনামির স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় লামপুকের সকল স্থাপনাকে।

পরবর্তীতে আচেহ’র প্রাদেশিক সরকার জানায়, স্থানটিতে ঐ সময় বাস করা ৬ হাজার অধিবাসীর মধ্যে মাত্র ৭০০ জন জীবিত ছিল।

স্রোতের টানে আশে পাশের সবকিছু ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল লামপুক সমুদ্র সৈকতের রহমতুল্লাহ মসজিদ। সুনামিতে ১৬শ বর্গ মিটার আয়তনের এ মসজিদটির পিলারের সামান্য ক্ষয় ছাড়া আর বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।

সুনামি থেকে বেঁচে যাওয়া মসজিদের ইমাম সুলাইমান মুহাম্মদ আমিন আজও স্মরণ করতে পারেন দিনটি। তিনি জানান, আল্লাহর রহমত হিসেবে মসজিদটি তার নামেরই স্বার্থকতা প্রকাশ করেছে।

ইমাম আমিন বলেন, ‘ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল মসজিদের গম্বুজের থেকেও উঁচু।’

ঢেউয়ের তোড়ে তিন কিলোমিটার ভেসে গিয়েছিলেন ইমাম আমিন। পরে ফিরে এসে মসজিদকে অক্ষত অবস্থায় দেখে আবেগে আপ্লুত হন তিনি।

বেঁচে থাকা অধিবাসীদের নিয়ে তিনি তখন মসজিদে শোকরানার নামাজ আদায় করেন। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই উচ্ছ্বাসিত ছিলাম মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে পেরে যদিও কিছু পিলার ভেঙে পড়েছিল।’

পরবর্তীতে ২০০৬ সালে তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় নতুন করে মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়। পাশাপাশি আশেপাশে বিধ্বস্ত এলাকায় ৭০০ নতুন ঘর তুলে দেওয়া হয়। তুর্কি সহায়তার স্থানটি পুনর্নিমাণের কারণে স্থানটি ‘তুর্কি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

২০০৪ সালের সুনামিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য ধ্বংস হয়ে যাওয়া পিলারগুলোকে অক্ষত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেসময়ের ভেঙে যাওয়া জানালা, কার্পেট ও জায়নামাযগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

ভেঙে যাওয়া এক পিলারের নিচে ‘সুনামিকে ভুলো না’ শীর্ষক সাইনবোর্ড রাখা হয়েছে। ইমাম আমিন জানান, সুনামির দুর্যোগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতেই তাদের এ আয়োজন। 

এমএফ/

 

তাহজিব / মুসলিম ঐতিহ্য : আরও পড়ুন

আরও