কুরআনের সবচে প্রাচীন পান্ডুলিপি ও বর্তমান কুরআন

ঢাকা, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯ | ২৪ কার্তিক ১৪২৬

কুরআনের সবচে প্রাচীন পান্ডুলিপি ও বর্তমান কুরআন

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

কুরআনের সবচে প্রাচীন পান্ডুলিপি ও বর্তমান কুরআন

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত কুরআনের প্রাচীন পান্ডুলিপিটি সারাবিশ্বে এখনো মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। কুরআনের এই পাণ্ডুলিপিটিকেই বিশ্বের সবচে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি মনে করা হয়।

রেডিও কার্বন টেস্টের মাধ্যমে জানা যায়, হিজাযি লিপিতে লিখিত এই পান্ডুলিপিটি ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ ঈসায়ীর মধ্যে লেখা হয়েছে। সুতরাং এটি সম্ভব হতে পারে, কুরআনের এই পান্ডুলিপিটি রাসূল (সা.) এর কোন সাহাবীর হাতে লেখা হয়েছে।

রাসূল (সা.) এর সময় তার উপর কুরআনের বিভিন্ন আয়াত নাযিলের সাথে সাথে তিনি তা নিজে মুখস্ত করতেন এবং সাহাবাদেরকে তা মুখস্ত করার জন্য নির্দেশ দিতেন। অপরদিকে একদল সাহাবী বিক্ষিপ্তভাবে এই আয়াতগুলো লিখে সংগ্রহ করতো।

হযরত আবু বকর (রা.) এর সময়ে প্রথম এই বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রে লিখিতভাবে সংকলিত করা হয়। পরবর্তীতে হযরত উসমান (রা.) এর সময়ে তা থেকে আরো পান্ডুলিপি প্রস্তুত করে ইসলামী খেলাফতের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

সুতরাং, প্রাচীন সেই পান্ডুলিপির সাথে আজকের পান্ডুলিপির তুলনা কিরূপ হবে? নিচে একটি চিত্রের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হল।

Image-2

এই চিত্র থেকে দেখা যায়, কুরআনের প্রাচীন থেকে আজ পর্যন্ত কোন প্রকার পরিবর্তন হয়নি। সকল শব্দ ও বর্ণ অতীত ও বর্তমানের পান্ডুলিপির মাঝেই অক্ষুন্ন আছে। কেননা, কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন,

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ

“আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।” (সূরা হিজর, আয়াত: ৯)

এই চিত্রে যে আয়াতসমূহের তুলনা করা হল, তা নিম্নরূপ,

طه ﴿١﴾ مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَىٰ ﴿٢﴾ إِلَّا تَذْكِرَةً لِّمَن يَخْشَىٰ ﴿٣﴾ تَنزِيلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَى ﴿٤﴾ الرَّحْمَـٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ ﴿٥﴾ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَىٰ ﴿٦﴾ وَإِن تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى ﴿٧﴾ اللَّـهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ﴿٨﴾ وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ مُوسَىٰ ﴿٩﴾ إِذْ رَأَىٰ نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى ﴿١٠﴾ فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ يَا مُوسَىٰ ﴿١١﴾ إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ ۖ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى (١٢) وَأَنَا اخْتَرْتُكَ...)

অর্থ: তোয়াহা। আপনাকে কষ্ট দেবার জন্য আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি। কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয় করে। এটা তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি ভূমন্ডল ও সমুচ্চ নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন। নভোমন্ডলে, ভুমন্ডলে, এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা আছে, তা তাঁরই। যদি তুমি উচ্চকন্ঠেও কথা বলো, তিনি তো গুপ্ত ও তার চেয়েও গুপ্ত বিষয়বস্তু জানেন। আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য ইলাহ নেই। সব সৌন্দর্যমন্ডিত নাম তাঁরই। আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি। তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেন, তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবত, আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌঁছে পথের সন্ধান পাবো। অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌঁছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা, আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেলো, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছো। এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাকো। (সূরা তোয়াহা, আয়াত: ১-১৩)

এমএফ/

 

তাহজিব / মুসলিম ঐতিহ্য : আরও পড়ুন

আরও