মক্কা সম্পর্কে ১৪টি অজানা তথ্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

মক্কা সম্পর্কে ১৪টি অজানা তথ্য

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

মক্কা সম্পর্কে ১৪টি অজানা তথ্য

পবিত্র শহর মক্কার প্রতি আমাদের আবেগ সবসময়েই সর্বোচ্চ ও শ্রদ্ধাপূর্ণ। রাসূল (সা.) এর জন্মভূমি এই শহরটি প্রত্যেক মুসলমানের আবেগের সাথে জড়িত এবং জীবনে অন্তত একবার হলেও এই পূণ্যভূমিতে আমরা পা রাখতে চাই।

কিন্তু এই শহর সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছুই জানা নেই। এ নিবন্ধে পাঠকদের জন্য এমনই কিছু অজানা তথ্য তুলে ধরা হল–

১. মক্কা মানুষের অব্যাহতভাবে বসবাস করে আসা পৃথিবীর প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২৪০০ খ্রিস্টপূর্বে জমজম কূপের অস্তিত্ব ছিল বলে জানা যায়। 

২. যদিও এই শহরের প্রতি মুসলমানদের আবেগ সর্বোচ্চতম, তবুও কোন ইসলামী খিলাফত বা সাম্রাজ্য এমনকি  খোলাফায়ে রাশেদুনের সময়েও এই শহরটির রাজধানীর মর্যাদা ছিলনা।

৩. মক্কা একটি হারাম তথা সম্মানিত শহর যেখানে কোন প্রকার রক্তপাত এবং অন্যান্য নৈরাজ্যের সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ। তবে মক্কার সম্পূর্ণ অংশ হারামের সীমানার মাঝে পড়েনি। শহরের কিছু কিছু এলাকা যেমন শারাইয়া সহ অন্যান্য কিছু এলাকা মক্কা শহরের অংশ হলেও এগুলো হারাম এলাকার সীমানার বাইরে।

৪. মক্কাকে একসময় ‘বাক্কা’ নামে ডাকা হত। এমনকি কুরআনে সূরা আলে-ইমরানের ৯৬ নং আয়াতে এই নামটির উল্লেখ আছে।

৫. পবিত্র কুরআনে সূরা আল-আনআমের ৯২ নং আয়াতে মক্কাকে ‘উম্মুল কুরা’ অর্থাৎ ‘সকল বসতির মাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. মক্কাকে বর্তমানে সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয় মক্কা আল-মুকাররামাহ। এর শাব্দিক অর্থ হল ‘সম্মানিত মক্কা’।

৭. যদিও মদীনা মুনাওয়ারা নবীর শহর হিসেবে পরিচিত, তথাপি আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় মক্কাতেই কাটিয়েছিলেন। ৬৩ বছরের জীবনে ৫৩ বছরই রাসূল (সা.) মক্কাতে জীবনযাপন করেন।

৮. সাধারণ অবস্থায় মক্কার জনসংখ্যা প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখের মত থাকে। তবে হজ্জ্বের সময় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

৯. মক্কা ও মদীনায় যিয়ারতের কারণে সউদি আরব পর্যটক গ্রহণের দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম রাষ্ট্র।

১০. কোন বিশেষ কর্মকান্ড বা বিশেষ সম্প্রদায়ের কাছে কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত কোন স্থানকে বুঝাতে ইংরেজিতে জনপ্রিয়ভাবে বিশেষণ হিসেবে ‘মক্কা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

১১. মক্কার কেন্দ্রভূমিতে পবিত্র কাবা ও মসজিদুল হারাম অবস্থিত, যা শহরটির নিম্নতম স্থান।

১২. কাবাঘরের সাথে সংযুক্ত হাজরে আসওয়াদ দীর্ঘ একটা সময় কাবা থেকে অনুপস্থিত ছিল। ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের দিকে সন্ত্রাসবাদী কারামাতী সম্প্রদায় মক্কা আক্রমন করে হাজীদেরকে হত্যা করে এবং হাজরে আসওয়াদকে পূর্ব আরবে তাদের প্রভাবাধীন অঞ্চলে নিয়ে যায়। ২৩ বছর পর ৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পাথরটি উদ্ধার করে পুনরায় কাবাঘরের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

১৩. ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্যা টেলিগ্রাফ মক্কার মসজিদুল হারামকে ব্যয়বহুলতম স্থাপনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। টেলিগ্রাফের তথ্যানুযায়ী সমগ্র স্থাপনার নির্মাণগত মোট খরচ একশত বিলিয়ন ডলারেরও অধিক।

১৪. পৃথিবীর দ্বিতীয় ব্যয়বহুল স্থাপনাটিও মক্কায় অবস্থিত। মসজিদুল হারামের নিকট সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত মক্কার বিখ্যাত ক্লক টাওয়ার তথা আবরাজ আল-বাইত একইসাথে বিশ্বের বৃহত্তম ক্লক টাওয়ার হিসেবে পরিচিত।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে হজ ও যিয়ারতে বাইতুল্লাহর তাওফিক নসীব করুন। আমীন।

এমএফ/

 

তাহজিব / মুসলিম ঐতিহ্য : আরও পড়ুন

আরও