প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্য নিদর্শন দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্য নিদর্শন দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০১৯

প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্য নিদর্শন দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত উমাইয়া মসজিদ বা দামেস্ক গ্র্যান্ড মসজিদ বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। খুলাফায়ে রাশেদীনের পর খিলাফতে বনু উমাইয়ার শাসনামলে খলীফা ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিক মসজিদটি নির্মাণ করেন। সেদিক থেকে মসজিদটি প্রাচীনতম ইসলামী স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।

রাতের দৃষ্টিনন্দন উমাইয়া মসজিদ

৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে খলীফা হযরত উমর (রা.) এর খিলাফতকালে মুসলিম সেনাপতি হযরত খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা.) এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী দামেস্ক জয় করে। তখনই মুসলমানরা এই স্থানে ছোট একটি মসজিদ তৈরি করেন। এর প্রায় সত্তর বছর পর উমাইয়া খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের শাসনামলে ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে এখানে নতুন একটি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ নয় বছরের পরিশ্রম শেষে ৭১৪ খ্রিস্টাব্দে মসজিদিটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়।

দূর থেকে উমাইয়া মসজিদের দৃশ্য।

মদীনার মসজিদে নববীর অনুকরণে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। নামাযের জায়গা ছাড়াও এখানে বিদ্যালয়, বিচারালয় এবং নিঃস্ব, গৃহহীন ও মুসাফিরদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা ছিল। মসজিদটি নির্মাণের জন্য পারসিক, ভারতীয়, উত্তর আফ্রিকান, মিসরীয়সহ বিভিন্ন স্থানের শ্রমিক ও কারিগরদের কাজে লাগানো হয়। এছাড়া মসজিদের দেওয়ালের বিভিন্ন মোজাইকের নকশা করার জন্য গ্রীক ও রোমান শিল্পীদের নিয়োগ করা হয়।

উপর থেকে পুরো উমাইয়া মসজিদ ও তিনটি মিনার। ছবিতে চিহ্নিত বাম দিকের মিনারটি ‘যিশু মিনার’ (minarat of jesus) নামেও পরিচিত। সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদিসগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী কেয়ামতের আগে এখান থেকেই নবী হযরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

মসজিদটির দক্ষিন-পূর্ব, দক্ষিন-পশ্চিম কোণ এবং উত্তর দিকে মোট তিনটি মিনার রয়েছে। এরমধ্যে উত্তরদিকের মাদহাত আল-আরূস বা নববধূর মিনারটি প্রাচীনতম। দক্ষিন দিকের দুইটি মিনার পরবর্তীকালে সংযুক্ত করা হয়।

উমাইয়া মসজিদের নামায কক্ষের উপর অবস্থিত গম্বুজ ‘কুব্বাতুন নাসর’।

মসজিদের উপরের মূল গম্বুজটি ৩৬ মিটার উঁচু। মূল নামাযকক্ষের উপরে অবস্থিত এই গম্বুজটি ‘কুব্বাতুন নাসর’ বা ঈগল গম্বুজ নামে পরিচিত।

মসজিদটিতে প্রবেশের প্রধান দরোজা এবং বহিরদৃশ্য

মসজিদে প্রবেশের জন্য উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি দরজা রয়েছে। এদের মধ্যে উত্তরের দরজাটিই মসজিদটির প্রশস্ততম প্রবেশপথ এবং এটিই মসজিদে প্রবেশের প্রধান দরজা।

মসজিদের অভ্যন্তরে সুপরিসর নামাযের স্থান।

খলীফা ওয়ালিদের পর বিভিন্ন সময়ে মসজিদটির বিভিন্ন সংষ্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়। ১২৬০ খ্রিস্টাব্দে মোঙ্গলরা দামেস্ক দখল করলে তারা এই মসজিদটিকে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে পরিণত করে। পরবর্তীতে আইন জালুতের যুদ্ধে মোঙ্গলদের পরাজিত করার পর মামলুক সুলতান সাইফুদ্দীন কুতুজ ও সেনানায়ক রুকুনু্দ্দীন বাইবার্স মোঙ্গলদের হাত থেকে দামেস্ককে মুক্ত করে মসজিদটিকে পুনরুদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রুকুনুদ্দীন বাইবার্সের শাসনামলে ১২৭০ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটিকে নতুনভাবে সংস্কার করা হয়।

উমাইয়া মসজিদের বাইরে সুপরিসর আঙিনা।

মসজিদটির ভেতরে মূল নামাযকক্ষের বাইরে একটি প্রশস্ত আঙ্গিনা রয়েছে। আঙ্গিনার মাঝামাঝি অযু করার জন্য একটি ফোয়ারা এবং দুইপ্রান্তে গম্বুজযুক্ত দুইটি স্থাপনা রয়েছে।

মসজিদের ভেতর নবী হযরত ইয়াহইয়া (আ.) এর কবর।

মসজিদটির ভেতর হযরত ইয়াহইয়া (আ.) এর কবর অবস্থিত। এছাড়া মসজিদটির উত্তরদিকের দেওয়ালের সাথে ক্রুসেড যুদ্ধকালীন বিখ্যাত মুসলিম সেনানায়ক সুলতান সালাহউদ্দীন আল-আইয়ুবীর কবর রয়েছে।

মসজিদের উত্তর দিকের দেয়াল সংলগ্ন বিখ্যাত বীর সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী (রহ.) এর কবর।

পুরাতন দামেস্ক শহরের অংশ হিসেবে মসজিদটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শণ তালিকার অর্ন্তভুক্ত। তেরোশত বছরের পুরাতন এই মসজিদটি এখনো সিরিয়ার প্রতীকায়িত স্থাপত্যনিদর্শন হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
ঐতিহাসিক আসহাবে কাহাফের সেই গুহা
বিশ্ব ঐতিহ্যের বিস্ময় ইরানের তাব্রিজ বাজার 
মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য দশ স্থাপনায় ছাদের আকর্ষণীয় নকশা
তুর্কি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত জাপানের বৃহত্তম মসজিদ
ইথিওপিয়ার অনাড়ম্বর মসজিদে নবীযুগের প্রতিচ্ছবি
তুরস্কের অভিনব জান্নাতী মসজিদ
বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রাণীদের বন্ধু ফিলিস্তিনি ‘আবু হুরাইরা’ (ভিডিও)
স্পেনে গির্জায় রূপান্তরিত মুসলিম শাসনামলের ৫ মসজিদ

 

 

তাহজিব / মুসলিম ঐতিহ্য : আরও পড়ুন

আরও