ভিখারি শাহজাদা

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

ভিখারি শাহজাদা

-মূল: খাজা হাসান নিজামী; অনুবাদ: ইমরান রাইহান ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

ভিখারি শাহজাদা

এই হলো দিল্লী। একে বলা হয় হিন্দুস্তানের দিল।একসময় এই শহর আবাদ ছিল, লাল কেল্লায় জ্বলছিল মুঘল প্রদীপ, মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে ছিল ইসলামী ঐতিহ্য। শেষেরদিকে এই শহরের বাসিন্দারা বদলে গেল, তাদের আমলের খাতা শূন্য হয়ে গেল। পরিবর্তনটা এসেছিল শাসকদের হাত ধরে। প্রথমে তাদের আমল খারাপ হলো, তারপর শহরবাসী তাদের অনুসরণ করলো। পরিনতিতে শাসক ও শাসিত উভয়েই বরবাদ হলো, তাদের উপর নেমে এলো মুসিবতের দমকা হাওয়া। ইতিহাসের পাতায় উদাহরণ অনেক আছে, তবে এখানে আমি শুধু একটি ঘটনাই বলবো।

বিদ্রোহের এক বছর আগের ঘটনা। দিল্লীর বাইরে জংগলে কয়েকজন শাহজাদা শিকারে ব্যস্ত ছিল। সময়টা ছিল মধ্যদুপুর, গাছের ডালে ডালে চড়ুই পাখি ও ঘুঘুর দল বসে জিরিয়ে নিচ্ছিল। খেলার ছলে শাহজাদারা ঘুঘু ও চড়ুইগুলোকে নিশানা বানিয়ে গুলতি ছুড়তে লাগলো। এসময় ঝোপের আড়াল থেকে এক শুভ্রকেশ দরবেশ বের হয়ে এলেন।

‘কেন অবলা প্রানীগুলোকে কষ্ট দিচ্ছেন প্রিয় শাহজাদা। তাদেরও আমাদের মতো অনুভূতি আছে। তারাও ব্যাথা পায়, কষ্ট অনুভব করে কিন্তু তা প্রকাশের ভাষা তাদের নাই। আপনারা বাদশাহর সন্তান। বাদশাহ তো নিজের রাজত্বের প্রতিটি প্রানীর প্রতি দয়াবান হবে’ বললেন দরবেশ।

একথা শুনে বড় শাহজাদা, যার বয়স তখন আঠারো বছর, লজ্জিত হয়ে হাত থেকে গুলতি রেখে দিলেন। তবে ছোট শাহজাদা মির্জা নাসিরুল মুলক বিগড়ে বসলেন, ‘আমরা তো শিকার করতে এসেছি। শিকার করা দোষের কিছু নয়’। দরবেশ বললেন, ‘জনাব, শিকার করা অপরাধ নয়। অযথা প্রানীগুলোকে কষ্ট দেয়া অপরাধ’। দরবেশের কথা শুনে মির্জা নাসিরুল মুলক রাগে ফেটে পড়লো। তাতক্ষনিক গুলতি হাতে নিয়ে দরবেশের হাটুতে ঢিল ছুড়লো। তীব্র ব্যাথায় দরবেশ আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। দরবেশকে মাটিতে পড়তে দেখে দুই শাহজাদা কেল্লার দিকে রওনা হয়ে গেল। দরবেশ হেচড়ে হেচড়ে পুরাতন কবরস্থানের দিকে আগান। তার মুখে উচ্চারিত হচ্ছিল, ‘যে সিংহাসনের উত্তরাধিকারীরা এতটা নির্দয় ও জালেম, তা আর কী করে টিকে থাকবে। শাহজাদা, তুমি আজ আমার পা ভেংগেছো, একদিন সময় আসবে খোদা তোমার পাও ভেংগে দিবেন। তুমিও সেদিন আমার মতো হেচড়ে চলবে’।

তোপ গর্জাচ্ছে। একের পর এক গোলা শূন্যে উঠে আবার নিচে নেমে আসছে। সাথে নিয়ে আসছে ধবংস ও তান্ডব। চারদিকে শুধু লাশের সারি নজরে আসছে। দিল্লীকে মনে হচ্ছে জনমানবহীন। মনে হচ্ছে মৃতের শহর। লাল কেল্লার দরজা খুলে কয়েকজন শাহজাদাকে বের হতে দেখা গেল। শাহজাদারা ঘোড় সওয়ার। তারা পালাচ্ছে পাহাড়গঞ্জের দিকে। একটু পরেই বিশ পচিশজন গোরা সেপাই তাদের ধাওয়া করলো। সেপাইরা শাহজাদাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ শাহজাদারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। নিজেদের রক্তের মাঝে নিজেরা কাতরাতে থাকে। সেপাইরা কাছে এগিয়ে আসে। দেখা যায়, দুই শাহজাদা মারা গেছে। একজন জীবিত আছে এবং তার গায়ে গুলি লাগেনি।। শুধু ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ায় হালকা আঘাত পেয়েছে। সেপাইরা জীবিত শাহজাদাকে গ্রেফতার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ক্যাম্প ছিল পাহাড়ের উপর। বড় অফিসার শাহজাদাকে দেখে চিনতে পারেন। ইনি বাদশাহর নাতী নাসিরুল মুলক। সেপাইদের নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে কয়েদ করতে।

বিদ্রোহী সিপাহীরা পরাজিত হয়ে পালাতে থাকে এবং ইংরেজ বাহিনী উল্লাস করতে করতে শহরে প্রবেশ করে। বাহাদুর শাহ জাফর গ্রেফতার হলেন হুমায়ুনের সমাধি থেকে। তৈমুরী রাজত্বের শেষ প্রদীপ এভাবেই নিভে যায়। শহরের বাইরে জংগলে আশ্রয় নেয় সম্ভ্রান্ত শহরবাসী। যে নারীদের চেহারা বাইরের কেউ দেখেনি কখনো, তারাও আজ বে আব্রু। দিল্লীতে চলছে খুনের উতসব। সন্তানের সামনে পিতাকে জবাই করা হচ্ছে। কন্যাকে হত্যা করা হচ্ছে মায়ের সামনে।

এই বিশৃংখল সময়টাতে শাহজাদা নাসিরুল মুলককে হাত পা বেধে ফেলে রাখা হয়েছে পাহাড়ি ক্যাম্পে। এক পাঠান সিপাহী এসে বললো, বড় সাহেব আপনাকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছেন। আপনি চলে যান। আবার কোনো বিপদে পড়ার আগে এই এলাকা ছেড়ে যান।

শাহজাদার হাত পায়ের বাধন খুলে দেয়া হলো। শাহজাদা পাঠান সিপাহীর শুকরিয়া আদায় করে জঙ্গলের দিকে রওনা হলো। শাহজাদা হাটছে , কিন্তু কোথায় যাচ্ছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা নেই তার। শাহজাদা প্রায় এক মাইল হাটলো। মৃত্যুভয় ও ক্ষুধায় শরীর ক্লান্ত। হাটায় অনভ্যস্ত পা দুটো আর চলতে চাইছে না। গলা শুকিয়ে গেছে। কন্ঠনালীতে কাটার মতো বিধছে কিছু একটা। ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত শাহজাদা এক গাছের ছায়ায় বসে পড়লো। কষ্টের দু ফোটা অশ্রু গালে বেয়ে পড়লো। ‘খোদা, এ কোন মুসিবতে আমাদের ফেললে? আমরা এখন কোথায় যাবো? কোথায় আমাদের ঠিকানা?’এ একথা বলতে বলতে শাহজাদা আসমানের দিকে মাথা তুলে তাকালো। শাহজাদার চোখ পড়লো গাছের ডালে।সেখানে ঘুঘু বাসা বুনেছে। আয়েশ করে ডিমের উপর বসে তা দিচ্ছে। ঘুঘুর স্বাধিনতা ও নিশ্চিন্ত জীবনযাপন দেখে শাহজাদার মুখ থেকে বের হলো, ঘুঘু, তুমি আমার চেয়ে হাজারগুন সুখে আছো। তুমি তো নিশ্চিন্তে নিজের বাসায় বসে আছো। আর আমার জন্য আসমান জমিনের কোথাও এক ইঞ্চি জায়গা নেই’।

একটু দূরে একটা বসতি দেখা যাচ্ছে। সেদিকে যাওয়ার জন্য শাহজাদা উঠে দাড়ালো। পা দুটো চলতে চাইছে না। কোনোমতে টেনে টেনে বসতিতে পৌছলো। বসতির বাইরে, বড় একটা গাছের নিচে অনেক লোক জমা হয়েছে। গাছের নিচে চত্বরের মতো একটা জায়গায় এক কিশোরী বসে আছে। বাতাসে কিশোরীর চুল উড়ছে, তার দুকান রক্তে রঞ্জিত। গ্রাম্য লোকেরা পাশে দাঁড়িয়ে তামাশা করছে। একইসময়ে মেয়েটির সাথে মির্জার চোখাচুখি হলো। দুজনেই চিতকার করে উঠলো। মেয়েটি আর কেউ নয়, মির্জার ছোট বোন। ভাই বোন পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে। দিল্লীর পতন আসন্ন বুঝতে পেরে মির্জার মা ও বোন রথ নিয়ে কেল্লা ছেড়ে কুতুব সাহেবের দিকে রওনা হন। মির্জার ধারনাও ছিলো না , তার মা ও বোন কোনো বিপদে পড়েছে।

“বোন তোমার এ অবস্থা কেন’ মির্জা জিজ্ঞাসা করলো।

‘ভাইজান, আমাদের লুটপাট করেছে। চাকরদের মেরে ফেলেছে। আম্মাকে অন্য গ্রামে নিয়ে গেছে। আমাকে এই গ্রামে আনা হয়েছে। আমার চুল ধরে টেনেছে। একের পর এক থাপ্পড় বসিয়েছে গালে’ বলতে বলতে শাহজাদী কেদে ফেললো। কান্নার দমকে তার কথা আটকে গেল। শাহজাদা বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিলো। গ্রামবাসীদের সামনে হাত জোর করে শাহজাদিকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালো।

‘আরে ভাগ এখান থেকে। নইলে এমন মার খাবি যে কল্লা উড়ে যাবে। ওকে আমরা পাশের গ্রাম থেকে কিনে এনেছি। দাম দে, নিয়ে যা’ মাতবর গোছের একজন বললো।

‘চৌধুরী সাহেব, একটু রহম করুন। দাম দিবো কীভাবে? আমি নিজেই তো এখন ভিক্ষুক। একটু দয়া করো। গতকাল তোমরা আমাদের প্রজা ছিলে। আমরা বাদশাহ ছিলাম। আজ সময়ের চাকা উলটে গেছে। যদি আবার আমাদের দিন ফিরে আসে, তাহলে তোমাদের অনেক ধন সম্পদ পুরস্কার দিবো’ শাহজাদার কথা শুনে গ্রামবাসী হেসে দিল।

‘তোর আর বাদশাহ হতে হবে না। তোকে ইংরেজদের হাতে তুলে দিবো। আর এই মেয়ে আমাদের গ্রামে থাকবে। আমাদের ঘর বাড়ি ঝাড়ু দিবে। ক্ষেতে কাজ করবে’ বললো একজন। কথাবার্তা চলার ফাকেই কজন ইংরেজ সেনা এসে গ্রামবাসীকে ঘিরে ফেললো। সামান্য কথা কাটাকাটির পর চারজন গ্রামবাসী ও শাহজাদা শাহজাদিকে ইংরেজরা গ্রেফতার করে।

চাদনি চকে ফাসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে সন্দেহভাজনদের। যার ব্যাপারে ইংরেজ অফিসার ফাসির রায় দিচ্ছে তাকেই তাতক্ষনিক ফাসিতে ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত লোককে ফাসি দেয়া হচ্ছে। কাউকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। দিল্লীতে শুধুই খুনের উতসব। শাহজাদা মির্জা নাসির ও তার বোনকে বড় অফিসারের সামনে আনা হলো। কিছুক্ষন কথাবার্তা বলে অফিসার তাদের ছেড়ে দিলো। মুক্তি পেয়ে দুই ভাইবোন এক সওদাগরের বাড়িতে চাকরি নিলো। শাহজাদি সওদাগরের বাচ্চাদের দেখভাল করতো আর শাহজাদা ঘরের বাজার সদাই করতো। কিছুদিন পর শাহজাদি অসুস্থ হয়ে মারা যায়। শাহজাদা আরো কিছুদিন এদিক সেদিক ঘুরে চাকরের কাজ করে। পরে ইংরেজ সরকার তার জন্য মাসিক ৫ রুপি ভাতা নির্ধারণ করে দেয়। সাথে ছোট একটা চাকরির সুবাধে মির্জার দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল।

এক বছর আগের কথা। দিল্লীর বাজার, চিতলি কবর, কামরা বাংগিশ ও অন্যান্য এলাকায় এক বৃদ্ধ ভিখারীকে দেখা যেত। তার পা ছিল পক্ষাগাতগ্রস্ত। সে হাতে ভর দিয়ে হেচড়ে হেচড়ে চলাফেরা করতো। তার গলায় ঝুলানো থাকতো ভিখারীর ঝুলি। সে দু কদম এগিয়ে থামতো, আশপাশের পথিকদের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকাতো। তার চোখে ফুটে উঠতো বোবা আকুতি। তার চেহারায় ছিল তৈমুরী বংশের ছাপ। দিল্লীর অনেকেই তাকে চিনতো। তাকে জিজ্ঞেস করলেও তার পরিচয় জানা যেত। তার নাম মির্জা নাসিরুল মুলক, শেষ মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরের নাতী। পেনশনের সব অর্থ ঋনের কারনে শেষ করে ফেলে এখন ভিক্ষার ঝুলিই হয়েছে তার সম্বল। আমি যখনই তাকে দেখতাম, তখনই তার জীবন থেকে শিক্ষা নিতাম। আমার মনে পড়তো তার জীবনের শুরুর দিকের ঘটনাবলী, যার কিছুটা আমি তার মুখে এবং কিছুটা অন্য শাহজাদাদের মুখে শুনেছি। শাহজাদাকে দিল্লীর বাজারে হাতে ভর করে চলতে দেখলে আমার মনে পড়তে সেই দরবেশের কথা, যাকে শাহজাদা গুলতি মেরেছিল এবং তিনি বদদোয়া করে বলেছিলেন, ‘একদিন খোদা তোমার পা’ও ভেংগে দিবেন’। আমার মনে হতো সেই দরবেশের বদদোয়া বাস্তবায়িত হয়েছে। শাহজাদাকে দেখলেই আমি খোদার ভয়ে কাঁপতে থাকতাম। কিছুদিন আগে এই শাহজাদা ইন্তেকাল করেছে।

এই সত্য ঘটনা থেকে আমাদের ধনী ভাইদের শিক্ষা নেয়ার আছে। অহংকারীর করুন পরিনতি তাদের সামনেই আছে, এরপরেও কি তারা অহংকার ত্যাগ করবে না ?

আমি পীর মাশায়েখদের সন্তানদেরকেও সতর্ক করতে চাই, যারা হাতের তালুতে বাবার মুরিদদের চুমু পেয়ে অভ্যস্ত এবং এটাই তাদের ঠেলে দেয় ধবংসের দিকে। তাদের মনে জমা হয় অহমিকা, দুনিয়ার কাউকে তারা আর মানুষই মনে করে না। নিজের পূর্বসুরিদের কীর্তির উপর ভরসা করে নিজে যোগ্যতা অর্জন না করে অযোগ্য থাকা, একদিন মানুষকে লাঞ্চিত ও অপদস্থ করে। সকল পীরজাদার উচিত তারা সেই যোগ্যতা অর্জন করবে যার কারনে তার পিতাকে পীর বলা হয়। মুরিদদের হাদিয়া তোহফার উপর ভরসা করে থাকা চুড়ান্ত পর্যায়ের আত্মমর্যাদাহীনতা। আমি অনেক পীরজাদাকে দেখেছি, তারা বাল্যকালেই শাহী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং বাবার মুরিদদের নিজের দাস ভাবে। তাদের মনে রাখা উচিত, যেভাবে সময়ের পরিবর্তনে বাদশাহরা ক্ষমতা হারায় এবং তাদের উত্তরাধিকারীরা হয় লাঞ্চিত, সেভাবেই পীরজাদাদের অহংকার ও বদদ্বীনি তাদের পতন ঘটাতে পারে যে কোন সময়। এজন্য সবার উচিত , কঠিন সময় আসার আগেই নিজের নিয়ত ও আমলের পরিবর্তন ঘটানো।

আমি এই কথাগুলোই বলছি এবং বলবো, যতদিন যবান ও কলম সচল থাকে।

(খাজা হাসান নিজামির জন্ম দিল্লীতে, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে। জন্মের পর তার নাম রাখা হয় আলী হাসান নিজামি। তবে পরে তিনি খাজা হাসান নিজামি নামেই প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সুফী দার্শনিক, কবি, ঐতিহাসিক, সম্পাদক ও সাহিত্যিক। তার শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভী, মুফতি এলাহি বখশ কান্ধলভী, মুফতি রশিদ আহমদ গাংগুহি। খাজা হাসান নিজামির বাল্যকাল কেটেছে ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘল শাহজাদাদের সাথে। তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন ১৮৫৭ সালের ইতিহাস জানতে। ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘলদের নিয়ে রচিত তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ বেগমাত কে আসু প্রকাশিত হলে হৈ চৈ পড়ে যায়। ১৯৪৪ সালে লেখকের জীবদ্দশাতেই বইটির ত্রয়োদশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থ ফাতেমি দাওয়াতে ইসলাম, ইংরেজো কি পিতা , বাহাদুর শাহ কা মুকাদ্দামা, দিহলি কি জাঁ কুনি, দিহলি কি সাজা। ৩১ জুলাই ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লীতে ইন্তেকাল করেন।)

এমএফ/

আরও পড়ুন...
জেবুন্নেসা বিনতে আলমগীর
২৩ অক্টোবর : আন্দালুসিয়ার ঐতিহাসিক যাল্লাকার যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়
আন্দালুসিয়ার বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ যিরইয়াব ও আমাদের বর্তমান
প্রথম মোঙ্গলীয় মুসলিম শাসক বারকে খানের ইসলাম গ্রহণ
যে খলিফার স্ত্রীর দানের নিদর্শন দেখে আপ্লুত হন হাজিরা
সবুজ পোষাকের বীরাঙ্গনা