মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কি তওবার সুযোগ নেই?

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কি তওবার সুযোগ নেই?

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮

মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির কি তওবার সুযোগ নেই?

অনেকেই মনে করে থাকেন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং এমন মৃত্যুমুখে পতিত ব্যক্তি, যার বাঁচার কোন আশাই নেই – তাদের তাওবা কবুল হবে না। কারণ এখন তাওবা করেই বা কী লাভ যখন সামনে কেবল মৃত্যুই বাকী আছে!

কিন্তু ইসলামের সঠিক মাসআলা হল, যে ব্যক্তি জীবনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে তারও তওবা শুদ্ধ হবে। তার এ নিরাশার কারণ কোন রোগ হোক যেমন- ক্যান্সার। অথবা হত্যার শাস্তি ফাঁসি বা শিরোচ্ছেদের মুখোমুখি হওয়া এবং জল্লাদ তলোয়ার নিয়ে তার মাথার উপরে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে হোক। অথবা বিবাহিত ব্যভিচারী/ব্যভিচারিণীর শাস্তি তথা ‘পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড’ কার্যকর করার জন্য পাথর স্তূপ করার কারণে হোক। এদের সবার তওবা শুদ্ধ হবে। কেননা মৃত্যুর গড়গড়া শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তওবা কবুল করেন।

দলিল হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বাণী:

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا

“অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভুলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদের তওবা আল্লাহ কবুল করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।” (সূরা নিসা, আয়াত ১৭)

“অনতিবিলম্বে তওবা করে” এ কথার অর্থ হলো- মৃত্যুর আগে তওবা করে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ

“আর এমন লোকদের জন্য তওবা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে আমি এখন তওবা করছি।” (সূরা নিসা, আয়াত ১৮)

কিন্তু তওবার পাঁচটি শর্ত রয়েছে। এ শর্তগুলো পূর্ণ করতে হবে। সেগুলো হচ্ছে- ১. ইখলাস (অকপটতা), ২. কৃতপাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, ৩. অনতিবিলম্বে পাপ ছেড়ে দেওয়া, ৪. ভবিষ্যতে পুনরায় গুনাহ না-করার দৃঢ় সংকল্প করা এবং ৫. তওবা কবুল হওয়ার সময়সীমার মধ্যে তওবা করা। অর্থাৎ তওবা করতে হবে মৃত্যু শুরু হওয়ার পূর্বে এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় শুরু হওয়ার আগে।

সূত্র: “লিকাউল বাব আল-মাফতুহ” ৫৩/৭৩, শাইখ উসাইমিন

এমএফ/

আরও পড়ুন...

তাওবাহ মানে কী?
যে কারণে তাওবাহ করবেন
তাওবাহ: কেন করব, কিভাবে করব?
গুনাহ থেকে তওবার পরও লোকেরা বিষোদগার করছে?
তওবা ও ইস্তিগফার বান্দার মুক্তির উপায়
তাওবার সুন্নত পদ্ধতি কি?
প্রাত্যহিক জীবনে তাওবার গুরুত্ব
হতাশায় ভুগছেন? নবীজির মুখে শুনুন ফিরে আসার গল্প
আল্লাহর সাথে অভিমান?

 

ফতোয়া/মাসায়েল: আরও পড়ুন

আরও