মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য দশ স্থাপনায় ছাদের আকর্ষণীয় নকশা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য দশ স্থাপনায় ছাদের আকর্ষণীয় নকশা

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য দশ স্থাপনায় ছাদের আকর্ষণীয় নকশা

ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে আজ অবধি জাগতিক ও ধর্মীয় উভয় স্থাপনার ক্ষেত্রেই ইসলামী স্থাপত্যকলা তার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষর রেখে এসেছে। শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশেই নয় বরং পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এর প্রভাব আজও সমুজ্জ্বল। শুধু মসজিদই নয়, বরং স্কুল-মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাসাদ, দূর্গ, ঝর্ণা, গোসলখানা, বাগান, বসতবাড়ী প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রেই ইসলামী স্থাপত্যকলা তার অনুপম স্থাপত্যশৈলী প্রদর্শন করেছে। 

এ সকল স্থাপনা তাদের উন্নত স্থাপত্যশৈলী ও নকশার জন্য সমগ্র বিশ্বেই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে স্ব-গর্বে দাঁড়িয়ে আছে। এ সকল স্থাপনার প্রতিটিই তাদের স্থাপত্যগত সৌন্দর্য ও স্বাতন্ত্র্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।   

এ নিবন্ধে এমন দশটি স্থাপনার ছাদের (Ceiling) মনোরম চিত্র উপস্থাপন করা হল। 

১. জলীল খাইয়াত মসজিদ, আরবিল, ইরাক

কায়রোর মুহাম্মদ আলী মসজিদ এবং ইস্তানবুলের নীল মসজিদের অনুকরণে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। আরবিলের জনৈক ধনাঢ্য ব্যক্তি জলীল খাইয়াতের তত্ত্বাবধানে ইরাকের স্বায়ত্বশাসিত কুর্দিস্তানের আরবিলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালে মসজিদটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।  

২. শেখ যায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমিরাত 

১১ বছর সময় ব্যয়ে এর নির্মাণ-কাজ সম্পন্ন হলে ২০০৭ সালে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ যায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ানের উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ইউসুফ আবদেলকির নকশায় মসজিদটি একইসাথে মুঘল ও মুরিশ স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে নির্মিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে অবস্থিত এই মসজিদটি দেশটির প্রধান মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত। পাশাপাশি মসজিদটি সে দেশে আসা পর্যটকদের অন্যতম এক  আকর্ষণীয় স্থান। 

৩. আল-সুলতান বারকুক মসজিদ, কায়রো, মিসর

১৩৮৬ সালে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। প্রথম বাহরী মামলুক সুলতান বারকুক এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি অনেকের কাছে আল-সুলতান কালাউন মসজিদ নামে পরিচিত হলেও এর প্রকৃত নাম আল-সুলতান বারকুক মসজিদ। শিহাবউদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-তুলুনির নকশায় নির্মিত মসজিদটি বাহরী মামলুক স্থাপত্যশৈলীর একটি নিদর্শন। কায়রোর আল মুইজ লি দ্বীনিল্লাহ সড়কে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের পাশাপাশি এখানে একটি খানকাহ ও একটি মাদরাসাও রয়েছে।   

৪. তাজমহল, আগ্রা, ভারত

যমুনা নদীর তীরে ভারতের আগ্রা শহরে নির্মিত এই সমাধি সৌধটি মুঘল-পারসিক স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে নির্মিত। ১৬৩২ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজ মহলের ইন্তেকালের পর সম্রাট তার কবরের উপর এই সমাধি সৌধটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। উস্তাদ আহমদ লাহোরী এবং উস্তাদ ঈসার নকশা ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই সমাধি সৌধটির কাজ ১৬৪৮ সালে সমাপ্ত হয়।

৫. শেখ লুতফুল্লাহ মসজিদ, ইসফাহান, ইরান

সাফাভী শাসক শাহ আব্বাসের শাসনামলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ইরানের ইসফাহানের নকশে জাহান ময়দানের কাছে নির্মিত এই মসজিদটির নির্মাণকাজ ১৬০৩ সালে শুরু হয় এবং ১৬১৯ সালে এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বাহাউদ্দিন আল-আমিলি এবং উস্তাদ মুহাম্মদ রেজা ইসফাহানীর নকশা ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত মসজিদটি ইরানের সাফাভী শাসনামলের স্থাপত্য নির্দশণসমূহের মধ্যে অন্যতম। 

৬. ওয়াজির খান মসজিদ, লাহোর, পাকিস্তান

মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে পাঞ্জাবের মুঘল সুবেদার ওয়াজির খানের হাতে মসজিদটি নির্মিত হয়। লাহোরে অবস্থিত ইন্দো-মুঘল ধারার এই মসজিদটি ১৬৪২ সালে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সুবেদার ওয়াজির খানের নামে নামকরণ করা এই মসজিদটির নির্মাণকাজ ১৬৩৪ সালে শুরু হয় এবং সাত বছরে মসজিদটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। 

৭. কুব্বাতুস সাখরা/ডোম অব রক, জেরুসালেম, ফিলিস্তিন

ফিলিস্তিনের জেরুসালেমের বাইতুল মুকাদ্দাস প্রাঙ্গনে আল-আকসা মসজিদের উত্তরে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ইসলামের প্রায় প্রাথমিক যুগের একটি স্থাপত্য নিদর্শন। ৬৯১ সালে উমাইয়া খলীফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের শাসনামলে এটি নির্মিত হয়। আরবীতে কুব্বাতুস সাখারা (قبة الصخرة) নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি মূলত একটি স্মৃতিচিহ্ন। বলা হয়ে থাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রাতে এই স্থান থেকেই উর্ধ্বাকাশে গমন করেন। উমাইয়া শাসনামলে নির্মিত হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শাসক এই স্থাপনাটির সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন করেন। 

৮. আলহামরা প্রাসাদ, গ্রানাডা, স্পেন

খ্রিস্টীয় একাদশ শতকে নির্মিত এই প্রাসাদটি গ্রানাডার শাসকদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হত। এটিই সেই প্রাসাদ, যেখান থেকে স্পেনে মুসলিম শাসনের সর্বশেষ চিহ্নটুকু বিলুপ্ত হয়। গ্রানাডার শেষ আমীর আবু আবদুল্লাহ বা দ্বাদশ মুহাম্মদ এই প্রাসাদ থেকেই স্পেনীয় সম্মিলিত খ্রিস্টান বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে বহিষ্কৃত হন। মুরিশ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই প্রাসাদটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণসমূহের মধ্যে এটি অন্যতম। 

৯. সেলিমিয়া মসজিদ, এদির্নে, তুরস্ক

ওসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের আদেশে নির্মিত এই মসজিদটি ওসমানীয়দের দ্বিতীয় রাজধানী এদির্নেতে নির্মাণ করা হয়। মিমার সিনানের নকশা ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মসজিদটির নির্মাণকাজ ১৫৬৯ সালে শুরু করা হয়। ১৫৭৪ সালে মসজিদটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বাইজান্টাইন-ওসমানীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত। 

১০. বাহাউদ্দিন নকশেবন্দীর মাযার, বুখারা, উজবেকিস্তান

১৫৪৪ সালে সুফি সাধনার নকশেবন্দী তরিকার প্রতিষ্ঠাতা বাহাউদ্দিন নকশেবন্দীর কবরের উপর এই মাযার বা স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। তিনি ১৩১৮ সালে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। এরপর বুখারাতেই ১৩৮৯ সালে ইন্তেকাল করেন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
যে খলিফার স্ত্রীর দানের নিদর্শন দেখে আপ্লুত হন হাজিরা
বাইতুল মুকাদ্দাস মুসলমানের ধর্মীয় উত্তরাধিকার
তায়েফ নগরীর ঐতিহাসিক দুর্গসমূহ

 

তাহজিব / মুসলিম ঐতিহ্য : আরও পড়ুন

আরও