বিএনপিকর্মী মনে করে রাস্তায় ডিএসবি সদস্যকে পেটালেন ওসি (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

বিএনপিকর্মী মনে করে রাস্তায় ডিএসবি সদস্যকে পেটালেন ওসি (ভিডিও)

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১০:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

বিএনপির কর্মী মনে করে প্রকাশ্যে রাস্তায় পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কন্সটেবল আবুল বাশারকে পেটালেন মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মৌলভীবাজার চৌমূহনায় ঘটনাটি ঘটে।

সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মৌলভীবাজার চৌমূহনা থেকে সকাল ১০টায় বিএনপির মিছিল হওয়ার কথা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দায়িত্ব পালন করতে চৌমূহনা এলাকায় পৌঁছান ডিএসবি সদস্য আবুল বাশার। এসময় মডেল থানার এসআই তাপসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চৌমূহনায় দায়িত্ব পালনরত ছিল।

সকাল ১১টার দিকে বিএনপির ১৫-২০ জন লোক জড়ো হয়েছিল রাস্তায়। এমন সময় আবুল বাশার দায়িত্ব পালন করছিলেন চৌমূহনায়। পুলিশের ড্রেস পরা অবস্থায় মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন ডিএসবি সদস্য আবুল বাশারকে বিএনপিকর্মী বলে পেছনদিক থেকে এসে পেটাতে থাকেন।

ডিএসবি সদস্য আবুল বাশার জানান,‘সকালে আমি অফিসে আসার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিআইও-১ আবু তাহেরের সাথে চৌমূহনা পয়েন্টে যাই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে। হঠাৎ করে পেছন থেকে আমাকে ড্রেস পরা অবস্থায় আক্রমণ করেন ওসি। তখন তাকে বলি যে আমি ডিএসবি সদস্য। এরপরও তিনি আমাকে মাথায় আঘাত করেন’। 

তিনি বলেন, ১৫ মাস যাবত জেলায় ডিএসবিতে কর্মরত আছি। এসপি স্যারের নির্দেশে খালেদা জিয়ার শুনানী উপলক্ষে সেখানে আমার ডিউটি ছিল। আমার হাতে ক্যামেরা ছিল। ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিলাম কিছু ছবি উঠাব আর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করব। এটাই ছিল আমার মূল ডিউটির উদ্দেশ্য। এমন সময় ১৫/২০ জন বিএনপিকর্মী রাস্তার মধ্যে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিল রাস্তার মধ্যে। ওই মুহূর্তে আমি রাস্তায় পার হতে ও ক্যামেরা বের করেছি ছবি উঠাবো তখন পেছন থেকে আমারে মাথার মধ্যে আঘাত করে মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন।

উনি আঘাত করার পর আমি বললাম আপনি আমাকে আঘাত করলেন কেন। আমি তো ডিএসবির সদস্য পুলিশের লোক। উত্তরে তিনি বলেন, আমি তো বিএনপিকর্মী হিসেবে তোমাকে মারছি।

এ ঘটনার পরপরই পরই মডেল থানার এসআই তাপস আমাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাকে মারছে তো কি হয়েছে। আপনি কি করতে পারবেন। আপনার কি করার ক্ষমতা আছে। পুলিশের লোক হলে কি হবে? ডিএসবির লোক কিছু করতে পারবে না। ডিএসবি অফিস একটি বাজে অফিস’।

আমি বললাম আপনি আমার সঙ্গে রাফ ব্যবহার করবেন না। আমি এখনে সরকারের নির্দেশে ডিউটিতে আসছি। আমি একজন সরকারি কর্মচারী। আমি সিভিলে। আপনি পোশাকে। তাই বলে আপনি আমার সাথে এই ব্যবহার করতে পারেন না। এই অর্ডার আপনাকে কে দিয়েছে। এসব কথা সাংবাদিক ও মানুষ শুনছে। তাছাড়া গোয়েন্দা বিভাগকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে।

ডিএসবি কনস্টেবল আবুল বাশার বলেন, ‘একজন ইন্সপেক্টর ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় পুলিশ প্রবিধানে কোথাও লেখা নেই একজন কর্মকর্তা পোশাকধারী মানুষকে বিনা কারণে আঘাত করতে পারে। এটা কোনো আইনে পাবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আঘাতের পর আমি কিছু ওষুধপত্র নিয়েছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। আমার বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সোয়াবই গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল আজিজ।’

এসআই তাপস অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘ওসি স্যারের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে ডিএসবি সদস্যের। আমি কিছু বলিনি।’

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, ‘মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে ঘটনাটি ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলা লজ্জার।’

জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ বলেন, ‘রাজনৈতিক একটা কর্মসূচি ছিল সেটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে গিয়েছিল। সেখানে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

এইচআর

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও