কমলা চাষীদের ছোট বাগানে যান না কৃষি কর্মকর্তারা!

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কমলা চাষীদের ছোট বাগানে যান না কৃষি কর্মকর্তারা!

এম ইদ্রিস আলী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

কমলা চাষীদের ছোট বাগানে যান না কৃষি কর্মকর্তারা!

মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি কমলার চাষ হয় জুড়ী উপজেলায়। ছোট-বড় টিলার ঢালে রয়েছে হাজার হাজার কমলাগাছ। উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের রূপাছড়া, লালছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, কচুরগুলসহ এসব পাহাড়ি এলাকা কমলার জন্য বিখ্যাত।

হেমন্তের শুরুতেই হাসি ফোটে কমলা চাষীদের মুখে। কিন্তু চাষীরা অভিযোগ করে বলছেন, বড় বাগান ছাড়া ছোট বাগানগুলোতে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা আসেন না। তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও পাওয়া যায়না।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১৭৮ হেক্টর জমিতে ১৪৬টি কমলা বাগানে রয়েছে। এর মধ্যে কমলা চাষী রয়েছেন ১৪৬ জন। সবচেয়ে বেশি চাষ হয় জুড়ী উপজেলায় ৯২ হেক্টর জমিতে, বড়লেখায় ৬০ হেক্টর এবং কুলাউড়ায় ২০ হেক্টর জমিতে। গত বছর প্রতি হেক্টরে কমলার উৎপাদন ছিল চার থেকে সাড়ে চার টন। এ বছর প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ৬ মেট্টিক টন।

কথা হয় ধুমা বাড়ী এলাকার আব্দুল কালামের সাথে। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে জানান, আমার বাগানে প্রায় ২০০-৩০০ গাছ রয়েছে। কমলার মৌসুমে বড় বড় বাগানগুলোতে কর্মকর্তারা যান কিন্তু আমাদের বাগানে আসেন না। কৃষি সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা আসেন না।

স্থানীয় কমলা চাষী খোরশেদ আলম জানান, আমার বাগানে ১০০০ হাজার কমলা গাছ রয়েছে। যাদের পরিচয়পত্র ছিল তাদেরকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ এবং সার দেওয়া হতো। মৌসুমের শুরুতে চাষীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হতো। কমলা চাষী হিসেবে আমার পরিচয়পত্রও রয়েছে কিন্তু এখন আমরা তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা পাই না। কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসেন শুধুমাত্র বড় দুই একটি বাগানে। আমাদের কোন খোঁজ খবরও নেয়া হয়না।

ধুমা বাড়ি এলাকার আরেক কমলা চাষী শফিক উদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, আমাদের এলাকায় যে সব কমলা বাগান রয়েছে তা ছোট ছোট। কোন বাগানে রয়েছে ৫০-৬০টি গাছ, আবার কোন বাগানে ১০০ থেকে ১৫০টি কমলা গাছ। কোন কোন বাগানে তার চেয়েও বেশি গাছও রয়েছে। আমাদের এলাকায় কৃষি অধিদফতর থেকে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা নেই। সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন লালছড়া এলাকার কমলা চাষীরা। তাদের কমলা বাগান বড় তাই। এখানে কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তাই আসেন না।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন চাষী অভিযোগ করে বলেন, আগে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা কোন সভার আয়োজন করলে চিঠির মাধ্যমে জানাতেন আমাদের। এখন অনেককে চিঠি পর্যন্ত দেওয়া হয়না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি।

দেশীয় কমলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা বলেন, কৃষি অধিদফতর যেভাবে বড় বাগান মালিকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন তেমনি আমাদেরকে পরামর্শ দিলে কমলার চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে। আমরা যদি কমলার রোগবালাই আর পোকামাকড় দমনের সঠিক ওষুধ ব্যবহারের উপায় না জানি খুব শিগগিরই এই অঞ্চল থেকে কমলা চাষ চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। ঐতিহ্যও হারাতে পারে কমলা চাষের জন্য দেশজুড়ে খ্যাতি পাওয়া এই অঞ্চলটি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী পরিবর্তন ডটকমকে  জানান, পুরনো যেসকল বাগান রয়েছে, সেই গাছগুলোতে অনেক ধরনের রোগবালাই হয়। এ কারনে যাতে কমলার কোন ক্ষতি না হয় সে জন্য কৃষক ভাইদের আমরা বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। জেলায় দেড় শতাধিক কমলা বাগান রয়েছে। আমাদের লোকবল কম থাকায় অনেক বাগানে আমাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয়না।

এমআইএ/পিএসএস

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও