সুনামগঞ্জে ভ্যান চালক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

সুনামগঞ্জে ভ্যান চালক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধি : ১:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

সুনামগঞ্জে ভ্যান চালক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

সুনামগঞ্জে ভ্যান চালক তরিব উল্লা হত্যা মামলায় আব্দুন নূর (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড ও তিন জনের যাবজ্জীন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা সোয়া ১১ টায় এ রায় ঘোষণা করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ  মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ  আল মামুন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আব্দুন নূর জেলার তাহিরপুর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত গুলে ফরমুজের ছেলে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আব্দুন নূরে বড় ভাই শাহানূর মিয়া, একই গ্রামের মৃত আক্রম আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান, মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে ইদ্রিস আলী। তাদের ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালতের বিচারক।

আদালত সূত্র জানায়, তাহিরপুর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামে ভ্যান চালক তরিব উল্লাহর ভাতিজা মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে পাশের বাড়ির মৃত গুলে ফরমুজের ছেলে আব্দুন নূরের সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল দিনগত রাত অনুমান পৌনে ৯ টার দিকে প্রতিপক্ষের আব্দুন নূর, তার বড় ভাই শাহানূর মিয়া ও তাদের পক্ষের ইদ্রিস মিয়া, হাবিবুর রহমানসহ কয়েক জন হাতের রাম দা, সুলফি, চাকু ও লাঠি নিয়ে দেলোয়ারের বাড়ির উঠানে গিয়ে গালাগালি শুরু করে।

এসময় দেলোয়ারের বাবা শফি উল্লা ঘর থেকে বের হয়ে গালাগালির কারণ জানতে চাইলে আব্দুন নূর ও তার সঙ্গীরা শফি উল্লাহকে মারপিট শুরু করে।  শফি উল্লাহর চিৎকার শুনে তার ভাই ভ্যান চালক তরিব উল্লাহ বের হয়ে আসলে প্রতিপক্ষের হাবিবুর রহমান ও ইদ্রিস মিয়া তরিব উল্লাহকে ধরে রাখলে আব্দুন নূর চাকু দিয়ে তরিব উল্লাহর শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘা মারতে থাকে।

পরবর্তীতে দেলোয়ার  হোসেন তার বাবা ও চাচাকে রক্তাক্ত অবস্থা দেখে চিৎকার করতে থাকলে আশে-পাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারিরা পালিয়ে যায়। পরে  আহত শাফি উল্লাহ ও তরিব উল্লাহকে দ্রুত তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসারপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। আহত শফি উল্লাহ ও তরিব উল্লাহকে স্বজনরা এ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট নিয়ে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জাউয়াবাজার এলাকায় তরিব উল্লাহ মারা যান। পর দিন ২২ এপ্রিল ভ্যান চালক তরিব উল্লাহর ভাতিজা মো. দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে তাহিরপুর থানায় আব্দুন নূর, শাহানূর মিয়া, ইদ্রিস মিয়া, হাবিবুর রহমান, বজলুর রহমান ও তানজু মিয়াকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  তদন্ত শেষে পুলিশ আব্দুন নূর, শাহানূর মিয়া, ইদ্রিছ মিয়া, হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে সার্জশীট দাখিল করে।

দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত আসামি আব্দুন নূরকে মৃত্যুদণ্ড ও শাহানূর মিয়া, ইদ্রিছ মিয়া, হাবিবুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং বজলুর রহমান ও তানজু মিয়াকে বেখসুর খালাস প্রদান করেন ।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট রবিউল লেইছ এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু ও অ্যাডভোকেট রুবেল আহমদ।

এসসি/জেডএস/

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও