সংস্কারের এক মাসের মধ্যেই বিবর্ণ ছাদ ও দেয়াল

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

সংস্কারের এক মাসের মধ্যেই বিবর্ণ ছাদ ও দেয়াল

এম ইদ্রিস আলী, মৌলভীবাজার ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯

সংস্কারের এক মাসের মধ্যেই বিবর্ণ ছাদ ও দেয়াল

বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানি চুয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে ভবনের ছাদ ও টয়লেটের দেয়াল।

দীর্ঘ বছর পর স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সংস্কার কাজের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায় কিন্তু ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজ না করায় এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তষ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, আশির দশকে নির্মিত সুজানগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত সংস্কার না করায় অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এ বছরের শুরুতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে টেন্ডার আহ্বান করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সংস্কার কাজের টেন্ডার পায় সিলেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদর্শ এন্টারপ্রাইজ। ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। অবশেষে জুলাই মাসের শেষের দিকে সংস্কার শুরু করেন।

স্থানীয় লোকজন নিম্নমানের কাজের ব্যাপারে বারবার আপত্তি করা স্বত্ত্বেও ঠিকাদারের মিস্ত্রিরা ফ্লোর চিপিং না করে টাইলস ফিটিং, দেয়ালের ময়লা সঠিকভারে পরিষ্কার না করে রঙ দেয়, ডেম্প পলেস্তরা না তুলে তার উপর নতুন পলেস্তরা করে, ছাদ চিপিং না করে জলচাপ দেয়। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ঠিকাদারের লোকজন কাজ সম্পন্ন করে চলে যান।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাদ চুয়ে এবং দেয়াল গড়িয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় ভবনের ওয়েটিং রুম, করিডোরসহ বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়াল বিবর্ণ (সবুজ ফাঙ্গাস) হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম, এলাকার বাসিন্দা আব্দুন নুর, বকুল আহমদ, সমছ মিয়া, নুর উদ্দিন, নাঈম আহমদ জানান, ঠিকাদারের লোকজন গড়ে ১০-১২ দিন কাজ করেছে। এতে ২-৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে কি না সন্দেহ। অনিয়মের অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। কাজ শেষ হওয়ার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি এ অবস্থা হয়, তবে ১-২ বছর পরে কাজের অস্তিত্বই থাকবে না। স্থানীয়রা সংস্কার কাজে ঠিকাদারের চরম অনিয়মের পিছনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।

উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান জানান, ‘সংস্কার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম, কাজের বাজেট, সিডিউল, ওয়ার্ক অর্ডার, কাজের মেয়াদ কোনো কিছুই ঠিকাদার তাকে জানায় নি। নিম্নমানের কাজের ব্যাপারে এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।’

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদর্শ এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধায়ক তপন বাবু জানান, ‘গত ঈদের আগে সংস্কার কাজ শেষ করেছেন। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।’

এ ব্যাপারে জানতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম পাটানের মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।

এইচআর

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও