শৈশবেই নিভে যাচ্ছে ওদের স্বপ্ন

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শৈশবেই নিভে যাচ্ছে ওদের স্বপ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯

শৈশবেই নিভে যাচ্ছে ওদের স্বপ্ন

পলেথিনের প্যাকেটে জুতার গাম (জুতায় ব্যবহৃত আঠা)। পাতলা পলিথিন ফুলিয়ে তার মধ্যে গাম ঢেলে একটু ঝাঁকুনি দেয়। পলিথিনের ভেতর নাক-মুখ ঢুকিয়ে দিয়ে লম্বা দীর্ঘ শ্বাস নেওয়া। এর পর দীর্ঘ সময় অনেক কিছু ভুলে নেশার ঘোরে সারাদিন আনন্দে সময় কাটানোর নাম ড্যান্ডি নেশা।

আর এই নেশায় বুঁদ হয়ে শ্রীমঙ্গল শহরের পথশিশুরা ড্যান্ডি নামের মরণ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। শহরের বিভিন্ন কলোনিতে বাস করে এরা। দিন দিন এই মরণ নেশায় ঝুঁকে পড়ছে কিশোররা। প্রতিদিন শহরের নতুনবাজার, শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোড, ভানুগাছ রোড, হবিগঞ্জ রোডে, কলেজ রোডে ও রেলস্টেশন এলাকায় সঙ্গিদের নিয়ে অবাধে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

শহরের দোকানগুলোতে ৭০/৮০ টাকা দামে এক কৌটা হাতের নাগালেই পাচ্ছে তারা।

ড্যান্ডি নামক জুতার গাম মিশানো পলেথিনের প্যাকেটে নিয়ে নেশা করা অবস্থায় আবি রহমান ও ইমন নামে দুই পথশিশুর দেখা মিলেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের কলেজ সড়কে সাব রেজিস্টার অফিসের সামনে।

তারা জানায়, তাদের বন্ধু শুক্কুর, বন্দর, আসর, কাসেম, তুরণ, বন্ধন, সাব্বির, জুনাইদ, আকিব, মন্ডল, খোকন, মোজাম্মিল, শামিম, রিয়াজ, শ্রাবনসহ আরও অনেকে এ নেশায় আসক্ত। তারা শহরের ভানুগাছ রোডে পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টের সামনে ভাঙ্গারির দোকানের সামনে প্রতিদিন সকাল ১১টায় সবাই মিলে ড্যান্ডি খায়। তাদের সাথে আরেকটি বড় গ্রুপ আছে। তারাও সেখানে এক সাথে বসে ড্যান্ডি খায়।

আর এভাবেই শৈশবেই নিভে যাচ্ছে ওদের স্বপ্ন।

ইমন নামের শিশুটি প্রতিদিন ভিক্ষা করে। সে তার বন্ধু আবি রহমানকে দেখিয়ে বলে, সে তাকে ড্যান্ডির নেশা শিখিয়েছে।

ইমন জানায়, প্রথম খেয়েছি যখন মাথায় ঝিম ঝিম করে তখন মাথা ঘুরে পড়ে যাই। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমি বাসায় নাই। আমার আম্মা খুঁজে নিয়ে আসে বাসায়। তারপর বাসায় নিয়েছে। এরপর থেকেই নেশায় ধরছে। আজকেও একবার খেয়েছি।

এসময় তার সাথে থাকা আবি রহমান বাজারে মাছ সংগ্রহ করে। সারাদিনের সংগ্রহ করা টুকিয়ে বিক্রি করে ড্যান্ডি কিনে সে।

ইমনকে দেখিয়ে উল্টো দোষ দিয়ে বলে, ‘হে আমারে শিখাইছে। হে তো ড্যান্ডির লাগি ট্রেনে ছাদ থেকে পড়ে রশিদপুর এলাকায় এক পা কাটা পড়ছে। হে এখন আমারে দোষে। ট্রেনের ছাদে তারা ড্যান্ডি নিয়া মারামারি লাগছে।

সে জানায়, ড্যান্ডি এখন প্রচুর ছেলেমেয়ে খায়। সবার নাম চিনে না সে।

ইমন বলে,‘চৌমুহনাত থাকে শুক্কুর হে এসব সবরে লইয়া প্রতিদিন পাঁচভাইর সামনে ভাঙ্গারী দোকানে ডেইলী খায়। খাইয়া সব মাল টুকানিত যায়। সবটির সাথে পলিথিনে কিছার মধ্যে ড্যান্ডি ঢুকানো থাকে।”

শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মহসিন বলেন, এটা এক ধরনের অ্যালকোহল ও অন্যান্য যৌগের সমষ্টি। এ নেশার ফলে এসব শিশু নানা রোগে আক্রান্তসহ দ্রুত কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়।

এআরই 

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও