সুনামগঞ্জে ধেয়ে আসছে বন্যা

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

সুনামগঞ্জে ধেয়ে আসছে বন্যা

শাহজাহান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ ৫:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

সুনামগঞ্জে ধেয়ে আসছে বন্যা

অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে ধেয়ে আসছে বন্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিকেলে ৩টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিকেল ৩টায় সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ৯৭  সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়া,নবীনগর, উকিলপাড়া, মধ্যবাজারে সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও শহরের  নতুনপাড়া, বিলপাড়, ষোলঘর এলাকা অবিরাম বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর, সুরমা, গৌরারং, মোহনপুর ইউনিয়নের  বেশ কিছু গ্রামের বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। 

গৌরারং ইউনিয়নের অমৃতশ্রী গ্রামের আলী আহমদ তালুকদার পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গত কয়েক দিনের একটানা বর্ষণের ফলে তার বসতঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠেছে। এই ধারাবাহিকতায় বৃষ্টি হলে তার ঘরসহ গ্রামের ৯৫ ভাগ বাড়িঘরে বন্যার পানি ডুকে পড়বে।

একই বক্তব্য পাশের গ্রাম আমান উল্লাহর। তিনি জানান, তার উঠানে পানি উঠেছে। শুধু তাই নয়। তার গ্রামের ৯৫ ভাগ বাড়ি-ঘরের উঠানে পানি উঠেছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরুল হক পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের বাড়িঘরের উঠানে পানি উঠে পড়েছে।

কয়েক দিনে অবিরাম বর্ষণে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারাপুর ও শক্তিয়ারখলা এলাকায় ঢলের পানি ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কটি আনোয়ারপুর থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার ডুবে গেছে। সীমান্ত নদী যাদুকাটা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে উভয় তীরের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে বিকেল ৩টায় ৮ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর। ৭ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বিপদসীমা ধরা হয়।

তিনি আরও জানান, আগামী ৩ দিন পর্যন্ত একই ধারাবাহিকতায় বৃষ্টিপাত হলে সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দেবে।

সুনামগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল হক পরিবর্তন ডটমককে জানান, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় আড়াই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। 

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২শ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর আগে জুনের শেষ জেলার ১১টি উপজেলায় ৩শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, আগহামী ১০ দিনে  সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, একইভাবে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৬০৮ মিলিমিটার, বিশ্বম্ভরপুরে ৫৯২ মিলিমিটার, ছাতকে ৫৮২ মিলিমিটার, তাহিরপুরে ৫৪২ মিলিমিটার, জামালগঞ্জে ৫২৮ মিলিমিটার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৪৮৮ মিলিমিটার, ধর্মপাশায় ৪২২ মিলিমিটার, দিরাইয়ে ৩৬২ মিলিমিটার, জগন্নাথপুরে ৩৬০ মিলিমিটার ও শাল্লা উপজেলায় ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এইচআর

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও