রক্ত ঝরানোই নেশা সাগরের

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

রক্ত ঝরানোই নেশা সাগরের

এম ইদ্রিস আলী, মৌলভীবাজার ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

রক্ত ঝরানোই নেশা সাগরের

নটরডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইমানী হোসেন অন্তরকে (১৮) চাপাতি দিয়ে গুরুতর জখম করার পরই উঠে আসছে সাগর মিয়ার অপকর্মের ফিরিস্তি।

বয়স ১৬ কিংবা ১৭। এরই মধ্যে জেলায় সাগরকে সবাই এক নামে চেনে, রক্ত ঝরিয়ে খেতাব পেয়েছেন ‘স্টেপ সাগর’। তাকে রীতিমতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আতঙ্ক বলা হয়।

ইতোমধ্যে অর্ধডজন তরুণ-তরুণী তার আক্রোশের শিকার হয়েছেন। অনেকে বয়ে বেড়াচ্ছেন পঙ্গুত্ব। রক্ত ঝরানোই নাকি তার নেশা। যে নেশার সর্বশেষ বলি হতে চলেছেন মেধাবী অন্তর।

গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বর্তমান মেয়র মো. মহসীন মিয়ার ভাতিজা ইমানী হোসেন অন্তরকে চাপাতি দিয়ে কোপায় সাগর। এতে তার বাম হাতের সবক’টি রগ কেটে গেছে। অন্তর এখন রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়।

অন্তরের বাবা আতিকুর রহমান জরিপ শনিবার পরিবর্তন ডটকমকে জানান, অ্যাপোলোতে অন্তরের চারটি অপারেশন হয়েছে। এখন পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি।

অন্তরকে কোপানোর পর তার বড় ভাই মোশাররফ হোসেন রাজ ওই রাতেই সাগর মিয়া, ইমন মিয়াসহ শহরতলীর অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু, এখন পর্যন্ত পুলিশ সাগর কিংবা কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উঠতি সন্ত্রাসী সাগর তার দলবল নিয়ে আগেও এলাকায় একাধিক অপকর্ম করেছে। সেসব ঘটনায় শান্তি না হওয়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সর্বশেষ তুচ্ছ কারণে নটরডেমের ছাত্র অন্তরের হাতে রগ কেটে দিয়েছে।

২০১৭ সালে ১১ নভেম্বর রেবতীস্টলের সামনে সন্ধ্যার দিকে কলেজ সড়কের বাসিন্দা সৈয়দ মুর্শেদ সালেহীন নাবিলকে (২৬) রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন সাগর। বাম পা ও হাতের কব্জি এতটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যে, চিকিৎসার পরও নাবিল এক ধরনের পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়াচ্ছেন।

ওই ঘটনার কিছুদিন পর পৌর কমিশনার আলকাছ মিয়ার ছেলে বদরুজ্জমান নাইমকেও কোর্ট সড়কে আটকে সাগর গংরা কুপিয়ে জখম করে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. আব্দুছ ছালেক জানান, অন্তরকে কুপিয়ে জখম করার পরই সাগর ও তার সহযোগীরা পলাতক। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাগরের অপকর্মের ফিরিস্তি তাদের হাতে এসেছে। এবার আর তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

এমআইএ/আইএম

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও