বাঁধ দিয়ে বালু উত্তোলন: শ্রীমঙ্গলে পানিবন্দি ৩০ পরিবার

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

বাঁধ দিয়ে বালু উত্তোলন: শ্রীমঙ্গলে পানিবন্দি ৩০ পরিবার

এম ইদ্রিস আলী, শ্রীমঙ্গল ৯:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০১৯

বাঁধ দিয়ে বালু উত্তোলন: শ্রীমঙ্গলে পানিবন্দি ৩০ পরিবার

পানি চলাচলের রাস্তায় বাঁধ দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভূনবীর ইউনিয়নের শাসন ইলামপাড়া গ্রামের ২৫-৩০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বৃষ্টির পানি জমে বাড়িঘর, ফসলী জমি এবং চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি। বৃষ্টির পানিতে নিচু সড়ক ও ফসলী জমি কোমর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় চলতি আমন চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ গ্রামের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করা মানুষজন ও শাসন ইলামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দশরথ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মকভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তা দেখার যেন কেউ নেই।

সোমবার বিকেলে সরেজমিন গ্রামটি ঘুরে দেখা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি। স্থানীয় শামসু মিয়া নামে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে বালু তোলার সুবিধার জন্য তার জমিসহ সরকারি খাস জমি একত্রে বাঁধ দিয়ে রেখেছে। গত ৩ মাস আগে এই বাঁধ নির্মাণ করে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন তিনি। এর ফলে বৃষ্টির পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়ায় আশপাশের ফসলী জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি জমে থাকায় কোনো ফসল করা সম্ভব হচ্ছে না। আর সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়িঘরে পানি জমে থাকে।

জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামের একটি কবরস্থান পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এই কবরস্থানের অনেক স্থানে পাড় ভেঙ্গে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শামসু মিয়া বর্ষার শুরুতেই বাঁধ অপসারণ করার কথা বললেও বাঁধ অপসারণ করেন নি।

বিশেষ করে জলাবদ্ধতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে সমস্যা হয়। কারণ এ সড়ক দিয়েই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ঢুকে এবং বের হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ২/৩ মাস যাবৎ তাদের চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। ইলামপাড়া গ্রামের ওই স্কুলের পাশে প্রায় ২০টি পরিবার আছে। জলাবদ্ধতার কারণে তাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ে আসতে তাদের ভালো লাগে না। কারণ, বৃষ্টির পর বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় তারা নিজেরা পানি সরানোর চেষ্টা করে। তাতেও কাজ হয় না। তারা বৃষ্টির পর দ্রুত পানি নিষ্কাশন চায়। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়। এতে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, ২নং ভূনবীর ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল হাসিম, আব্দুল মন্নাফ, আব্দুল মোমেন, নজরুল ইসলাম, মতি মিয়া, ইদ্রিছ আলী ও সোহাগ মিয়া গ্রামবাসীদের পক্ষে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য নির্মিত বাঁধ অপসারণে ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক কৃষি জমি ও বসতবাড়ির জলাবদ্ধতা দূরীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন। এর অনুলিপি মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সভাপতি/সম্পাদক শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে দিয়েছেন।

এতে অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য নির্মিত বাঁধ অপসারণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কৃষি জমি ও বসতবাড়ি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার আবেদন জানানো হয়।

এ ব্যাপারে শামছু মিয়া বালু উত্তোলনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, পুকুর তৈরীর জন্য বাঁধ দিয়েছিলাম। পুকুরে কিছু মাছও আছে। এখন গ্রামের মানুষের সমস্যা হলে মেম্বার চেয়ারম্যান মুরুব্বীদের নিয়ে আপাতত চলার জন্য একটি পাইপ দেবো।

৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেহান উদ্দিন বলেন, শামসু মিয়া অবৈধ বালু তুলে তার জমির চারদিকে বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। এতে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি নিমজ্জিত হওয়ার ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

এএসটি/

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও