ডিম দিয়েছে সিতেশের অজগর, সতর্ক পাহারায় পুরুষটি

ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ডিম দিয়েছে সিতেশের অজগর, সতর্ক পাহারায় পুরুষটি

এম ইদ্রিস আলী, মৌলভীবাজার ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ০৯, ২০১৯

ডিম দিয়েছে সিতেশের অজগর, সতর্ক পাহারায় পুরুষটি

শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ সিতেশ রঞ্জন দেবের মিনি চিড়িয়াখানার স্ত্রী অজগরটি আবারো ডিম দিয়েছে।

রোববার দুপুরে উপজেলা সদরের পশ্চিম ভাড়াউড়ায় এ মিনি চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায় স্ত্রী অজগরটি নিবিষ্ট মনে ডিমের চারদিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে। সঙ্গী পুরুষ অজগরটি রয়েছে সর্তক পাহারায়।

এর আগেও স্ত্রী অজগরটি দুইবার ডিম দিয়েছিলো বলে জানান সিতেশ দেব।

তিনি জানান, শনিবার রাতে স্ত্রী অজগরটি ডিম পাড়ে। ডিমগুলোর রং সাদা, আকৃতিতে রাজহাঁসের ডিমের মতো। ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অজগরটি ডিমের চারদিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে তা দেওয়া শুরু করেছে। এ জন্য ডিমের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান সিতেশ।

স্ত্রী অজগরটি শরীর দিয়ে বৃত্তাকারে কুণ্ডলী পাকিয়ে ডিমগুলো ঢেকে রেখেছে। ডিমের ওপরে মাথা রেখে ডিমে তা দিচ্ছে। শরীরের ফাঁক দিয়ে একটি ডিমের প্রায় পুরোটাই দেখা যাচ্ছে। অজগরটি মাঝেমধ্যে একটু নড়াচড়া করলে আরও দুটি ডিমের খানিকটা দেখা যাচ্ছে। ডিমগুলোর রং সাদা। রাজহাঁসের ডিমের মতো এর আকৃতি। খাঁচার ভেতরে সঙ্গী পুরুষ অজগরটি পাশে থেকে সতর্ক পাহারা দিচ্ছে।

স্ত্রী অজগর এভাবে একটানা ৬০ থেকে ৭৫ দিন ডিমে তা দেবে। এরপর বাচ্চা ফুটবে। এই সময়ে সে কোনো খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করবে না। পুরুষ সঙ্গীটির দায়িত্ব হবে তাকে পাহারা দেওয়া।

সিতেশ জানান, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পাহাড়ের একটি লেবুর বাগান থেকে উদ্ধার করা এই অজগর জুটি ১৯৯৯ সালে সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। তখন থেকেই তারা মিনি চিড়িয়াখানার বাসিন্দা।

সিতেশ রঞ্জন দেবের দুই ছেলে সজল দেব ও সঞ্জিত দেব জানান, শনিবার রাত থেকে অজগরটি ডিম দেওয়া শুরু করে। খুব কাছ থেকে তারা দেখেছেন। তারা তখন সেখানেই ছিলেন। ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অজগরটি নিজেকে বৃত্তাকারে গুটিয়ে নিচ্ছিল। পুরুষ অজগরটি এ সময় বেশ চঞ্চল হয়ে উঠেছিল। সে খাঁচার ভেতরে চারদিকে চক্কর দিচ্ছিল। একসময় স্ত্রী অজগরটি তার শরীর দিয়ে সবগুলো ডিম ঢেকে নেয়।

সিতেশ রঞ্জন দেব জানান, সেবাশ্রমে এর আগে স্ত্রী অজগরটি প্রথম ২০০২ সালের মে মাসে ৩২টি ডিম পেড়েছিল। ডিম পাড়ার ৫৯ দিন পর ২৮টি বাচ্চা ফুটেছিল। এরপর ২০০৪ সালের ১৩ মে ৩৮টি ডিম দেয়। সেইবার ৬০ দিন পর বাচ্চা ফুটেছিল ৩২টি। অজগরের বংশবৃদ্ধির জন্য সিতেশ এই অজগর জুটিকে প্রায় একযুগ ধরে লালন করছেন। আগের দুবারে এ জুটির ৬০টি বাচ্চা তিনি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করেন।

সিতেশ দেবের ধারণা, এবার ডিমের সংখ্যা ৩০-৩২টি হবে।

তিনি জানান, বনে-জঙ্গলে থাকলে অজগর সাধারণত মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে ৫০-১০০টি ডিম দেয়। গর্ত, গুহা বা পুরোনো গাছের খোঁড়লে ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমে তা দেওয়া শুরু করে। এ সময় স্ত্রী অজগরটি থাকে অভুক্ত। ডিম ফুটে জন্মের সময় বাচ্চার দৈর্ঘ্য ৬০ সেন্টিমিটার হয়।

এএসটি/ 

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও