কমলগঞ্জে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

ঢাকা, ২১ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

কমলগঞ্জে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

হৃদয় ইসলাম, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): ৬:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ০৬, ২০১৯

কমলগঞ্জে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবারও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর চা বাগান, লেকসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, ছায়া নিবিড় পরিবেশে অবস্থিত নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ঘুরে দেখেন আগত পর্যটকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের শান্ত নিবিড় ঘন গাছ গাছালিতে আচ্ছাদিত বনের মাঝে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে। জাতীয় উদ্যানের ভিতরের রেলপথ, বিভিন্ন ট্রেইল (পাহাড়ি সরু পথ), পাহাড়ি ছড়া ও লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি সর্বত্রই ছিল পর্যটকে মুখরিত।

মাধবপুর চা বাগানের নয়নাভিরাম মনোরম দৃশ্য, লেক, পাহাড়ি উঁচু নিচু টিলার মাঝে লেক ও তার শাখা প্রশাখা, চারপাশে পাহাড়ি টিলার উপর সবুজ চা বাগানের সমারোহ, জাতীয় ফুল দুর্লভ বেগুনী শাপলার আধিপত্য, ঝলমল স্বচ্ছ পানি, ছায়া নিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুক পরিবার সদস্যদের নিয়ে আসা পর্যটকদের মধ্যে আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করে।

মাধবপুর লেকের দৃশ্য উপভোগ করে বের হয়ে প্রায় ১০ কিঃমিঃ দূরে বীরশ্রেষ্ট শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধে যেতে দেখা যায় অনেক পর্যটককে।

মাধবপুর চা বাগান লেকে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটক রেহানা আক্তার, সিলেটের এনজিও কর্মী ইমতিয়াজ আহমদ, হবিগঞ্জের কলেজ ছাত্র সাগর ইসলাম, নরসিংদীর ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন, সুনামগঞ্জের চাকুরজীবি আহমদ রফিক, গৃহিনী তারিনা বেগম, হেপী আক্তার, শিক্ষক মুক্তার হোসেন এবং কুমিল্লার প্রভাষক ছামাদ আলীর সঙ্গে কথা হয় পরিবর্তন ডটকমের।

তারা বলেন, 'মাধবপুর লেকটি প্রকৃতির অপরুপ লীলা নিকেতন। এটির সংস্কার করে আরও কিছু ভাল পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। চা বাগানের টিলার উপর উঠে নিচের দিকে লেকের দৃশ্য খুবই চমৎকারভাবে অবলোকন করা যায়। তবে টিলার উপর ছাউনি থাকা দরকার। রোদ আর বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ছাউনি প্রয়োজন। এখানে বার বার পর্যটকরা আসতে চাইবে।'

আলীনগর ইউনিয়নের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ডবলছড়া। ডবলছড়া খাসিয়া পল্লী যেতে পাহাড়ি উঁচু নিচু কাঁচা ১২ কিঃমিঃ রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। পথে শমশেরনগর চা বাগানের দু’টো প্রাকৃতিক হ্রদ, একটি গলফ মাঠ ও ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতাল যে কোন পর্যটকের নজর কাড়ে।

কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিঃমিঃ পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার প্রায় ১০ কিঃমিঃ অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত। খুবই দূর্গম পাহাড়ি এলাকার পথে যাতায়াত কষ্টকর বলে শুধুমাত্র কম বয়সী ছেলেদের সেখানে যেতে দেখা গেছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিষ্ট পুলিশ, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও ইকো ট্যুর গাইড পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।

মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক বলেন, মাধবপুর লেকে পর্যটকদের জন্য নানা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখানে টুরিষ্ট পুলিশ ছাড়াও চা বাগানের কর্মচারীরা বাড়তি নজরদারি করেন।

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক বলেন, বৃষ্টির কারণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের আগমন কম হওয়ার আশঙ্কা করলেও বাস্তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও ঈদের দিন বিকালে ও পরের দিন জাতীয় উদ্যানের প্রচুর পরিমাণে পর্যটকের আগম ঘটে। দুই দিনে জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ ফি বাবাদ লক্ষাধিক টাকা আয় হয়েছে।

পিএসএস

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও