যেভাবে বাঁচলেন ফেঞ্চুগঞ্জের বিলাল

ঢাকা, ১৯ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

যেভাবে বাঁচলেন ফেঞ্চুগঞ্জের বিলাল

সিলেট ব্যুরো ১১:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৯

যেভাবে বাঁচলেন ফেঞ্চুগঞ্জের বিলাল

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূল সংলগ্ন ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি থেকে বেঁচে ফিরেছেন ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুরের তজম্মুল আলীর ছেলে বিলাল আহমদ। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অকূল সাগরে ছটফট করছিলেন তিনি। মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখার স্মৃতি ভুলতে পারছেন না।

গত ২১ মে দেশে ফিরলেও বৃহস্পতিবার ফিরেছেন গ্রামের বাড়িতে। দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বার বার শিউরে উঠেন তিনি।

যে দালাল চক্র তাদের লোভ দেখিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে তাদের বিচার দাবি করেন বিলাল।

গত ৯ মে রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে ৮৫ জন আরোহীসহ একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকা থেকে ১৪ বাংলাদেশি, একজন মিসরীয় ও একজন মরক্কোর অধিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও নৌবাহিনী। বাকিরা ভূমধ্যসাগরের নোনাজল ও আর ঢেউয়ের বিরুদ্ধে সাঁতরে পেরে উঠতে না পেরে ডুবে মারা যান। নৌকাডুবিতে সিলেটের ৬ তরুণের স্বপ্নের সমাধি ঘটে ভূমধ্যসাগরে।

উন্নত জীবনের হাতছানির মরীচিকায় পা দিয়ে তারা লোকান্তরী হলেও এক রাশ কান্না ভর করেছে পরিবারের। ট্র্যাভেল এজেন্সির লোভনীয় ফাঁদে পা দিয়ে অনেকটা উপোস কাটিয়ে ভূমধ্যসাগরে ইতি ঘটল সম্ভাবনাময় ৬ তরুণের স্বপ্নের। ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জের ৬ জন নিহত হন।

একই নৌকায় থাকা বিলাল আহমদ ভাগ্যগুণে বেঁচে যান। গত ৯ মে তিনি দেশে ফিরেন।

বিলাল আহমদ জানান, ৯ লাখ টাকা চুক্তিতে সিলেটের রাজা ম্যানশনের ইয়াহিয়া ওভারসিজের মাধ্যমে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বরে তার যাত্রা শুরু হয়। ভারতের মুম্বাই, দিল্লি হয়ে পৌঁছান শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে বিমানে তিউনিসিয়া হয়ে লিবিয়া পৌঁছান তারা। এরপরই শুরু হয় নির্যাতন। দালালচক্র তাদের আটকে রেখে টাকা উদ্ধার করে। পরবর্তীতে একটি কক্ষে অভিবাসনপ্রত্যাশী ৮২ জনকে আটকে রাখা হয়। ৮২ জনের জন্য ২৪ ঘন্টায় ১২ কেজি চাল দেওয়া হতো। তাও সপ্তাহে ৫ দিন। সপ্তাহের বাকি ২ দিন খাবার ও পানি দেওয়া হতো না তাদের। মাঝে মধ্যে লোহার পাইপ ও রুল দিয়ে তাদের বেধড়ক মারধর করা হতো। 

এত নির্যাতনের পর ৭ মে স্বশস্ত্র মাফিয়াদের প্রহরায় তাদের ১৫০ জনকে প্রথমে তুলে দেওয়া হয় মাছ ধরার ট্রলারে। পরবর্তীতে ৪০ জনের ধারণক্ষমতার বোটে অস্ত্রের মুখে ৮৫ জনকে তুলে দিয়ে মাফিয়ারা চলে যায়। এর পরপরই বোট ডুবতে থাকে। সাহায্যের শত অনুরোধেও মাফিয়ারা ফিরেনি।

বিলাল বলেন, একসাথে ৪ মাস বন্দি থাকার কারণে সকলের সাথেই ঘনিষ্ঠতা জন্মে। নৌকাডুবির পর একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও ভূমধ্যসাগরের বড় বড় ঢেউ আর শীতল জলরাশির কাছে বেশিরভাগ অভিবাসন প্রত্যাশী পরাজিত হন। পরবর্তীতে একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করলেও ট্রলারে একজনের মৃত্যু হয়।

উদ্ধার হওয়া বিলাল জানান, সাগরের ঠাণ্ডা পানিতে তারা প্রায় আট ঘণ্টা ভেসে ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের ১৪ জনই বাংলাদেশি।

এদিকে বিলাল আহমদ বলেন, আর কেউ যেন এ ধরনের অভিভাসনে উদ্বুদ্ধ না হন।

তিনি এ ঘটনায় দালালদের বিচার দাবি করেন।

এআরই

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও