স্কুলছাত্রের সচেতনতায় রক্ষা পেলো ৫ শতাধিক ট্রেনযাত্রী

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

স্কুলছাত্রের সচেতনতায় রক্ষা পেলো ৫ শতাধিক ট্রেনযাত্রী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ৪:২০ অপরাহ্ণ, মে ০৮, ২০১৯

স্কুলছাত্রের সচেতনতায় রক্ষা পেলো ৫ শতাধিক ট্রেনযাত্রী

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আবুল হোসেন। শমশেরনগর ইউনিয়নের ঈদগাহ টিলার খোকন মিয়ার ছেলে সে।

আবুল হোসেনের সচেতনতার কারণে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে পাঁচ শতাধিক যাত্রীবাহী চট্টগ্রাম অভিমুখী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টায় শমশেরনগর ইউনয়িনের ঈদগাহ টিলাগ্রাম এলাকার সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ৩০৬/২নং রেলপথ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

বুধবার দুপুর ১২টায় সরেজমিনে জানা যায়, শমশেরনগর আপ আউটার সিগনালের অদূরে ৩০৬/২নং রেলপথের ঈদগাহ টিলাগ্রাম এলাকার বাঁকে একটি স্থানে রেলপথের একটি পাত ভেঙে ফাঁক হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় এ গ্রামের ছেলে কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আবুল হোসেন স্থানীয় সায়েদ কবিরাজের বাড়ি থেকে ফেরার পথে রেলের পাত ভেঙে ফাঁক হয়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীদের জানায়।

গ্রামবাসীরা খবরটি দ্রুত শমশেরনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ রায়হান ফারুকের মাধ্যমে শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কবির আহমদ ও শ্রীমঙ্গলস্থ রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগকে জানান। এ খবর পেয়ে দ্রুত রেলওয়ে কর্তপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙা রেলপাত সরিয়ে সেখানে নতুন এক টুকরো রেলপাত বসিয়ে এক  ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করেন।

এসময় চট্টগ্রাম অভিমুখী পাঁচ শতাধিক যাত্রীবাহী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেসটি শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়েছিল। আর ঢাকাগামী আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন কুলাউড়া স্টেশনে আটকা পড়েছিল।

নবম শ্রেণির ছাত্র আবুল হোসেন জানায়, সে মঙ্গলবার রাতে একটি কাজে সায়েদ কবিরাজের বাড়ি গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার সময় টর্চলাইটের আলোতে দেখতে পায় রেলপথের একটি পাত দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ট্রেন চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কথা ভেবে সে গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানালে তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেন।

শমশেরনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ রায়হান ফারুক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ছাত্রটি সচেতন হয়ে বিষয়টি গ্রামবাসীকে না জানালে তিনিও জানতেন না। ঘটনাস্থল রেলপথের বাঁক এলাকা বলে এসময় ট্রেন চলাচল করলে বড় ধরনেল দুর্ঘটনা ঘটে যেত।

তিনি শমশেরনগর স্টেশন মাস্টারকে এ বিষয়ে জানিয়ে রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে তারা দ্রুত ভাঙা রেলপাত সরিয়ে নতুন একটি পাত বসানোর পর ট্রেন চলাচল করে।

শমশেরনগর স্টেশন মাস্টার কবির আহমদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আসলেই ছাত্র আবুল হোসেনের সচেতনতায় সম্ভাব্য একটি রেল দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা গেল। তিনি খবর শুনে রেলওয়ে গণপূর্ত বিভাগের শ্রীমঙ্গলস্থ ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেনকে জানালে তিনি এসে দ্রুত ভাঙা রেলপাত সরিয়ে নতুন একটি পাত স্থাপন করলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীমঙ্গলস্থ রেলওয়ে গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন এ রেলপথ ঝুঁকিমুক্ত। সময়মতো স্কুলছাত্র খবরটি না জানালে আসলেই একটি দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো।

এইচআর

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও