ডাকাতের ভয়ে রাস্তায় এমপির এলইডি বাতি

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ডাকাতের ভয়ে রাস্তায় এমপির এলইডি বাতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১০:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

ডাকাতের ভয়ে রাস্তায় এমপির এলইডি বাতি

পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শহরতলীর শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কের বেলতলী নামক স্থানে ডাকাতের ভয়ে  সড়কের দু’পাশে সোলার বিদ্যুতের এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশের অনুরোধে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদের নির্দেশে উপজেলা ত্রান ও পুনর্বাসন বিভাগ বেলতলী নামক স্থানে ৬টি সোলার বিদ্যুত লাইট স্থাপন করে।

এমপির এমন উদ্যোগে এলাকার যানবাহন চালক,পর্যটকসহ সাধারণ মানুষজন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে।

গত দু’দিন আগেও রাতের বেলায় চা-বাগানঘেরা পাহাড়ি এ সড়ক দিয়ে যানবাহনে যাতায়াতে মানুষের মাঝে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক ছিল। রাস্তায় বাতি লাগানোর পর এ ভয় এখন অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শ্রীমঙ্গল শহর হয়ে ভানুগাছ-কমলগঞ্জ যাওয়ার পথ এটি। সন্ধ্যার পরই ডুবে যায় অতল অন্ধকারে। পাহাড় ও চা বাগান ঘেরা রাস্তাটির এ অংশে থাকে না জনমানবের কোনো চিহ্ন।

শহরতলীর বধ্যভূমি ’৭১ থেকে পাঁচতারকা হোটেল গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গল্ফ এর মধ্যবর্তী বেলতলী নামক স্থান। সড়কটির একপাশে রাবার বাগান ও অপরপাশে রয়েছে চা বাগান। নিরিবিলি এ স্থানটিকে ঘিরেই ডাকাতরা ওঁৎ পেতে থাকে। গাছ ফেলে যানবাহন আটকিয়ে দেয় ডাকাতির জন্য।

এ রাস্তায় হঠাৎ করে সংঘবদ্ধ মুখোশপরা ডাকাতদল চা বাগানের শেডট্রি কেটে গাছের টুকরো ফেলে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। অনেক সময় ডাকাতরা সফল হয়।

এমনিভাবে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে বেলতলী এলাকায় একাধিক গাছ ফেলে ২৫/৩০ জনের ডাকাতদল যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এ সময় সড়কে আটকেপড়া বাস, প্রাইভেট গাড়ি ও বেশকিছু সিএনজি অটোরিকশা চালক ও যাত্রীদের মারধর করে মুঠোফোন ও নগদ টাকা-পয়সা লুট নেয়। এ ঘটনার পর ডাকাতরা একই স্থানে আরো একাধিকবার গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে। তবে টহল পুলিশের তৎপরতা থাকায় পরে ডাকাতির চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এ রস্তার যাতায়াতকারী লাইটেস চালক এরশাদ আলী বলেন,‘আগে এ রাস্তায় গাড়ি চালাতে ভয় লাগতো। এখন সড়কে বাতি দেয়ায় সেই ভয় আর নেই’।

বেলতলীর পাশেই টি-রিসোর্ট কোয়ার্টারের বাসিন্দা সাধন কুমার নায়েক শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের এইচএসসি ফাইনাল বর্ষের পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, এখন বাতি দেয়ায় শহরে আসা-যাওয়া করতে আর ভয় লাগছে না। আগে এই সড়কে সন্ধ্যার পর ডাকাতির খুব ভয় লাগতো।’

শেভরন কোম্পানির চাকরিজীবী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এই সড়কে আগে ডাকাতি হতো। এখন লাইট লাগানোতে মানুষের অনেকে সুবিধা হয়েছে। রাতে ভয় পাওয়ার আর চিন্তা থাকবে না। ডাকাতির কোনো ভয় থাকবে না। বধ্যভূমি ’৭১ পর্যন্ত যদি লাইট লাগানো হয় তাহলে আরো সুবিধা হবে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মামুন আহমেদ বলেন,‘লাইট লাগানোর ফলে আমরা সড়কে যাওয়া আসা করতে অনেকটা নিরাপদ মনে করছি। পুলিশ সুবিধা মতো টহলও দিতে পারছে, ডাকাতিও হয় না। তবে আরো বেশি লাইট লাগাতে পারলে ভালো হবে।’

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এই সড়কে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশের টহল এখন অনেক জোরদার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বেলতলী নামক এই জায়গাটা আগে অন্ধকার থাকতো। অপরাধীরা সেখানে আশ্রয় নিতো। সড়কে গাছ কেটে ফেলে যানবাহন আটকানোর চেষ্টা চালাতো। সন্ধ্যার পর ট্যুরিস্টরা যাতে নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন সেজন্য এমপির সহায়তায় সড়কে সোলার এলইডি লাইট স্থাপন করা হয়েছে।’

এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও