সিলেটের সমাবেশ স্মরণীয় করে রাখতে চায় ঐক্যফ্রন্ট

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সিলেটের সমাবেশ স্মরণীয় করে রাখতে চায় ঐক্যফ্রন্ট

দিপু সিদ্দিকী, সিলেট ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

সিলেটের সমাবেশ স্মরণীয় করে রাখতে চায় ঐক্যফ্রন্ট

সিলেটে প্রথম সমাবেশ, সেই সমাবেশকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় ঐক্যফ্রন্ট। এজন্য ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুকি সম্পন্ন করেছে ফ্রন্ট।

বুধবার সিলেট নগরীর রেজিস্টারি মাঠে ঐক্যফ্রন্টকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। ১১টি শর্তে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে।

সমাবেশ সফল করতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মাঠে নেমেছেন।

বিএনপি ছাড়া ঐক্যফ্রন্টের শরীকদের অবস্থান সিলেটে শূন্যের কোটায়।

তাই সমাবেশের নিয়ন্ত্রণ বিএনপির হাতেই।

ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে সমাবেশের অনুমতি হলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা এটাকে দলীয় সমাবেশ বলেই ধরে নিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

তারা বলছেন, পুলিশ নানা ধরনের শর্তের বেড়াজালে আটকে সমাবেশের পরিধি ছোট রাখতে চাচ্ছে। কিন্তু জনতার মধ্যে যে উৎসাহ উদ্দীপনা তা নিয়ন্ত্রণের সাধ্য কারো নেই।

সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল বলেন, সরকার আগাম জানতে পেরেছে সমাবেশে জনতার বাঁধভাঙা জোয়ার আসবে। আর এ জোয়ারের তোড়ে বাকশালী সরকারের গদিতে কাঁপন ধরবে। আর এ কারণে সমাবেশে জনসমাগম রুঁখতে বিএনপি, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাসায় বাড়িতে তল্লাশির নামে হয়রানি করছে পুলিশ।

তিনি বলেন, সিলেটে স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সে লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নগরীতে লিফলেট বিতরণ, সমাবেশস্থল পরিদর্শন, মঞ্চ তৈরিসহ সকল কাজই সুচারুভাবে চলছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, আমাদের প্রস্তুতি ও প্রচারণায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পাচ্ছি। ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে সমাবেশ সফল করার পরিকল্পনা করছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল ওয়াহাব বলেন, পুলিশ ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। অনুমতিতে যে সকল শর্ত রয়েছে, তা ঐক্যফ্রন্ট মেনে চলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। সমাবেশের আশেপাশে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

বিএনপি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধড়পাকড় সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ রুটিন ওয়ার্ক করে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের জন্য সিলেটে দু’দফা আবেদন করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ। বুধ ও শনিবার সমাবেশের পৃথক আবেদন নাকচ করে দেয় পুলিশ।

এরপর রোববার তিনি হাইকোর্টে রিট করলে শুনানীর জন্য সোমবার ধার্য করেন আদালত।

এরই মধ্যে রোববার সন্ধ্যায় ১১ শর্তে সমাবেশের অনুমতি দেয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বলেন, ‘প্রথমে তারা মঙ্গলবার সমাবেশ করার অনুমতি চায়। নিরাপত্তার স্বার্থে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপর বুধবার সমাবেশ করতে চান বলে অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। না দেয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাবেশকে ঘিরে পুলিশ বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছে। পুলিশ কোনো সময়ই চায় না আইনশৃঙ্খলার অবনতি হোক। পরবর্তীতে রোববার সন্ধ্যায় ১১ শর্তে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়।’

এসবি